25/03/2026
বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও জীবিকার সাথে খুব গভীরভাবে ও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের পদ্মা নদী। কিন্তু এই সর্বনাশা পদ্মা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জমি-জমা ও জীবনের আশ্রয় হারিয়ে অসীম দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়।
নদীর তীরবর্তী মানুষের এই কষ্ট ও দুর্দশার কথা গভীরভাবে অনুধাবন করে কাদেরিয়া-বা আলাউইয়া-মোয়াজিয়া আধ্যাত্মিক সু-বিখ্যাত সুফি তরিকার পীর ও মুর্শিদ এবং ইমাম, সৈয়দ মোঃ মোয়াজ আহমেদ জুব শাহ্ নূরী (হাফিঃ) মানবতার কল্যাণ ও মানুষের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে এক নূরানী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা'য়ালার দরবারে গভীর বিনম্রতা ও আন্তরিকতার সাথে দোয়া ও মুনাজাত করেন। এরপর মানবতার কল্যাণ এবং মানুষের নিরাপত্তা কামনায় একটি নূরানী চিঠি মোবারক লিখে গভীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সব সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী আল্লাহ্’র উপর ভরসা রেখে সেই চিঠিটি সর্বনাশা পদ্মা নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেন।
এই নূরানী চিঠির মাধ্যমে তিনি মানুষের নিরাপত্তা দানকারী মহান আল্লাহ্’র নিকট আরজু পেশ করেন- যেন তিনি তাঁর অসীম রহমত ও দয়ায় বাংলাদেশের মানুষকে সর্বনাশা পদ্মা নদীর ভাঙন, ক্ষয়ক্ষতি এবং সকল প্রকার বিপদ-আপদ, আজাব ও গজব থেকে হেফাজত করেন।
এই আধ্যাত্মিক দোয়া ও নূরানী আহ্বানের মাধ্যমে তিনি সমস্ত সৃষ্টির অধিপতি মহান আল্লাহ্র রহমত কামনা করেন, যাতে সর্বনাশা পদ্মা নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও বরকতের মধ্যে জীবনযাপন করতে পারে এবং তাদের ঘরবাড়ি, জমি ও জীবিকা সর্বশ্রোতা আল্লাহ্র কৃপায় সুরক্ষিত থাকে।
এই নূরানী চিঠি মূলত মানুষের কল্যাণ, মানবতার প্রতি ভালোবাসা এবং সর্বোত্তম আল্লাহ্র অসীম রহমতের আশায় নিবেদিত এক আন্তরিক আধ্যাত্মিক আবেদন।
চিঠিতে যা লিখা আছেঃ
بِسْمِ ٱللهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيْمِ
আল্লাহ্’র বান্দা,
কাদেরিয়া - বা আলাউইয়া - মোয়াজিয়া আধ্যাত্মিক সু-বিখ্যাত সুফি তরিকার পীর ও মুর্শিদ এবং ইমাম সৈয়দ মোঃ মোয়াজ আহমেদ জুব শাহ্ নূরীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর প্রতি-
হে পদ্মা নদী! তুমি যদি নিজ ক্ষমতায় প্রবাহিত হয়ে থাকো, তবে আর প্রবাহিত হইয়ো না।
কিন্তু তোমার প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি স্রোতধারা ও প্রবাহের উৎস মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা'য়ালার হুকুমে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে আমরা সেই পরাক্রমশালী আল্লাহ্’র দরবারে কাতর প্রার্থনা করি-
হে আল্লাহ্! হে নূর! আপনি পদ্মা নদীকে প্রবাহিত করে দেন এবং পদ্মা নদীর প্রবাহকে রহমতের ধারায় পরিণত করুন। ক্ষয় নয়, বরকত দিন, বিপদ নয়, কল্যাণ দিন, ধ্বংস নয়, নিরাপত্তা দিন, অশান্তি নয়, শান্তি দিন, ভাঙন নয়, স্থিতিশীলতা দিন, আজাব নয়, নেয়ামত দিন, গজব নয়, রহমত দিন।
মানুষের ঘর - বাড়ি, দালান - প্রাসাদ, রাস্তা - ঘাট, অলি - গলি, হাট - বাজার, দোকান - পাট, সেতু - ব্রিজ, মসজিদ - মাদ্রাসা, মাজার শরীফ, স্কুল - কলেজ, ইউনিভার্সিটি, হাসপাতাল, থানা, আফিস - আদালত, জমি - জায়গা, ফসল ও জীবন সবকিছু আপনি আপনার তত্ত্বাবধানে সুরক্ষিত রাখুন।
হে আল্লাহ্! হে নূর! যদি এ ভাঙন আপনার ইচ্ছায় হয়ে থাকে, তবে আমাদের জন্য তা সহজ করুন। সবর দান করুন, উত্তম প্রতিদান দিন এবং বিপদ ও গজবকে রহমতে রূপান্তরিত করুন।
হে সর্বোত্তম আল্লাহ্! নিশ্চয়ই আপনি সর্বশক্তিমান, আপনার ইশারাতেই নদী প্রবাহিত হয়, আপনার আদেশেই তা শান্ত হয়।
.