07/02/2026
রাজনীতিতে কত কিছুই না দেখা যায়! কিন্তু নেতাকর্মীদের কাছে হাত জোড় করে ‘চাঁদাবাজি আপাতত বন্ধ’ রাখার এমন করুণ আকুতি হয়তো বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল। চাতরী চৌমুহনী বাজারে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম তার নিজের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যেই এক ঐতিহাসিক ‘অনুরোধ’ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "দুই হাত জোর করে বলছি, এই ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা চাঁদাবাজি করবেন না।"
অর্থাৎ, নিজাম সাহেবের কথানুসারে, ১২ তারিখের পর চাঁদাবাজি করলে হয়তো তার কোনো আপত্তি নেই! কেবল ভোটের কালিমা মোছার জন্য এই কদিনের একটু ‘বিরতি’ বা শর্ট-ব্রেক দরকার। নেতার এমন বক্তব্য শুনে পাশে থাকা কর্মীরাও আবার বেশ দরাজ গলায় স্লোগান দিয়েছেন, যেন নেতার এই আবদার রাখা তাদের জন্য বড়ই কষ্টের এক ত্যাগের কাজ।
নিজাম সাহেবের এই ভাইরাল বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে রাজনীতির যে কদর্য রূপ বেরিয়ে আসে, তা নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার।
প্রথমত, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত করবেন না’ এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ কী? এটা কি পরোক্ষভাবে নেতাকর্মীদের আশ্বাস দেওয়া যে, ভোটটা পার হতে দাও, তারপর তোমরাই রাজা? একজন নেতার কি বলা উচিত ছিল না যে, ‘আমার দলে চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই’? হাত জোড় করে চাঁদাবাজির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া প্রমাণ করে, ওই এলাকার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সরাসরি তার ছত্রছায়াতেই লালিত-পালিত।
দ্বিতীয়ত, তিনি দাবি করেছেন তার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট হাত জোড় করা ভঙ্গি এবং শব্দগুলো কি তবে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ? এমন সাফাই গাওয়া তো জনগণের বুদ্ধিবৃত্তিকে চরম অপমান করার শামিল।
একদিকে সাবেক কর্নেল অলি আহমদ বলছেন আনোয়ারাত মানুষ আগে ‘ল্যাংটা’ হয়ে হাঁটত, আর অন্যদিকে সাবেক এমপি নিজাম সাহেব তার ক্যাডারদের ১২ তারিখ পর্যন্ত ‘ভদ্র’ থাকার ট্রেনিং দিচ্ছেন। আনোয়ারার মানুষ কি তবে এই দুই সাবেক নেতার দম্ভ আর চাঁদাবাজির যাতাকলে পিষ্ট হতেই ভোট দেবে? ১২ তারিখের পরের সেই ‘মহোৎসব’ নিয়ে আনোয়ারাবাসী এখন থেকেই আতঙ্কিত।