16/08/2026
যে সুন্নাহ ছিল নবী ﷺ-এর শেষ প্রহরের সঙ্গী
আজও কি আছে আমাদের জীবনে?
ভাবুন তো সেই মুহূর্তটির কথা! দুনিয়ার সফর শেষ হতে চলেছে। প্রিয়তমা স্ত্রী আয়িশা (রা.)-এর কোলে মস্তক রেখে শুয়ে আছেন আমাদের প্রিয় নবী ﷺ। শরীর ভীষণ দুর্বল।
এমন সময় ঘরে প্রবেশ করলেন আবদুর রহমান (রা.)। তাঁর হাতে একটি মেসওয়াক দেখে আল্লাহর রাসূলের ﷺ দৃষ্টি স্থির হলো। আয়িশা (রা.) বুঝে ফেললেন প্রিয়তম স্বামীর না-বলা অভিপ্রায়।
নিজের দাঁত দিয়ে মেসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে দিলেন তিনি।
জীবনের শেষ প্রহরে, নিঃশ্বাস গুটিয়ে আসার ঠিক আগ মুহূর্তেও পরম যত্নে মেসওয়াক করলেন রাসুলুল্লাহ ﷺ। এরপর উচ্চারিত হলো শেষ শব্দগুচ্ছ—“ফির রফীকিল আ‘লা” (সর্বোচ্চ সঙ্গীর সান্নিধ্যে)। আর তারপর… তিনি চলে গেলেন তাঁর রবের কাছে। (সহিহ বুখারি: ৪৪৩৮)
ভালোবাসা ও তাগিদের অনন্য নিদর্শন
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে, আমি প্রত্যেক সালাতের সময় তাদের মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”
(সহিহ বুখারি: ৮৮৭)
যে সুন্নাহর প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এত গভীর তাগিদ ছিল, তা কি আমাদের অবহেলায় জীবন থেকে হারিয়ে যাবে?
মেসওয়াকের বরকত ও ফজিলত
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “মেসওয়াক মুখের পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।”
(সুনান আন-নাসাঈ: ৫)
এ ছাড়াও কোনো কোনো কিতাবে নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারের ৭০টিরও বেশি ফায়দার কথা উল্লেখ রয়ছে। এমনকি কিছু কিছু বুজুর্গ আলেমে দ্বীনের মতে নিয়মিত মেসওয়াকের অভ্যাস গড়ে তুললে আল্লাহর রহমতে মৃত্যুর সময় কালিমায়ে শাহাদাত নসিব হওয়ার আশা করা যায়।
ভালোবাসা কি কেবল মুখে, নাকি আমলেও?
আমরা বলি, আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবাসি। অথচ যে পুণ্যময় সুন্নাহটি তাঁর ﷺ বিদায়বেলারও সঙ্গী ছিল, সেটি কি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটু ঠাঁই পেতে পারে না?
জীবিত হোক একটি হারিয়ে যেতে বসা সুন্নাহ
আজই একটি মেসওয়াক হাতে তুলে নিন। নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনুন প্রিয় নবী ﷺ-এর এই সুন্নাহ। আপনার দেখাদেখি হয়তো পরিবারের আরেকজন শুরু করবেন, তাঁর থেকে আরেকজন।
একটি ছোট্ট মেসওয়াক থেকেই শুরু হতে পারে একটি ভুলে যেতে বসা সুন্নাহর ফিরে আসার গল্প।
নিজে আমল করুন, শেয়ার করুন আপনার পরিচিতদের সাথে। ব্যাপারটা কেমন হবে, যদি আপনার মাধ্যমে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করেন?
-----------------------------
Copied from Muslims day app.
Download link