19/07/2026
মেয়েটির নামটা কত সুন্দর! রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি।
নিশ্চয়ই বাবা-মা ভালোবেসে, যত্ন নিয়ে, অনেক স্বপ্ন দেখে এই নাম রেখেছিলেন। ইংলিশ ভার্সনে পড়িয়েছেন, সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য যথাসাধ্য ব্যয় করেছেন, সময় দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
জানা যাচ্ছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সে মাইলস্টোন কলেজেরই ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিল এবং পরে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে টিসি দেয়। পরে সে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন পোস্টে দেখলাম, খেলাধুলায়ও তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল।
একটা বিষয় আমি ভাবছি। একজন শিক্ষার্থীর প্রধান দায়িত্ব পড়াশোনা। খেলাধুলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম সবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পড়াশোনার বিকল্প তো নয়। একজন শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, তবে সেটি শুধু তার নিজেরই নয়, তার বাবা-মায়েরও বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, স্বপ্ন, বিসর্জনের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে।
সময় বদলেছে। আজকের বাবা-মায়েরা সন্তানদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি সময়, অর্থ ব্যয় ও sacrifice করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয়, সেই পরিশ্রমের প্রতি সন্তানের সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ কিংবা উপলব্ধি সমানভাবে তৈরি হচ্ছে না। এটাই সবচেয়ে কষ্টের বিষয়।
আগের তুলনায় এখন সন্তানদেরও জানার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বহুুুগুনে বেড়েছে। তাদের হাতে উন্নত মানের প্রযুক্তি চলে এসেছে। তারা কত কিছু জানে, কত ভাবে তাদের জ্ঞান বাড়ে। শুধু কমে যায় বাবামায়ের সাথে সম্পর্কের গভীরতাটা, বাবা মার কষ্ট ও শ্রমের প্রতি সম্মানের জায়গাটা।
বাবা-মা যতই সন্তানের কাছাকাছি পৌঁছাতে চান, সন্তান যেন ততই দূরে সরে যায়। একই ছাদের নিচে থেকেও সম্পর্কের দূরত্ব বেড়ে যায়, কথোপকথন কমে যায়, আর একে অপরকে বোঝার জায়গাটা ক্রমেই সংকুচিত হতে থাকে।
সন্তানের সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু সাফল্য নয়, বাবা-মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ আর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাও এক বড় দায়িত্ব। পৃথিবীর সব স্বপ্ন পূরণ নাও হতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের ভালোবাসা যেন কোনো সন্তানের কাছে কখনো মূল্যহীন না হয়ে যায়।