07/03/2024
✍️বিসিএস বাংলা সাহিত্যে প্রস্তুতির সঠিক গাইডলাইন বিসিএস বাংলা সাহিত্য – যেকোন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক। বাংলা সাহিত্য থেকে বিসিএস প্রিলিমিনারিতে প্রশ্ন হয় ২০টি। ব্যাংকের পরীক্ষাতেও গড়ে ৫-৬টির মত প্রশ্ন থাকে। অন্যান্য পরীক্ষা গুলোতেও কম বেশি প্রশ্ন হয়ে থাকে বাংলা সাহিত্য থেকে।
তাহলে বুঝতেই পারছেন বিসিএস পরীক্ষার জন্য বাংলা সাহিত্য অংশটি মোটেও হেলাফেলার বিষয় নয়। বাংলা সাহিত্যে ভালো করতে হলে দরকার সুপরকল্পিত প্রস্তুতি। কিন্তু, অনেকেই বলতে পারেন বিসিএসে বাংলা সাহিত্যের সিলেবাস অনেক বড়।
ভালো প্রস্তুতি নেওয়া কি সম্ভব?হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। একটু ভালো করে পড়লেই বিসিএস প্রিলিতে ২০ এর মধ্যে অনায়াসে ১২/১৩ পেয়ে যাবেন। আর যদি একটু স্মার্টলি প্রস্তুতি নিতে পারেন তাহলে ১৫ নম্বর পেয়ে যাবেন। কয়েকটি প্রশ্ন সবসময়ই ধারণার বাইরে আসে। তাই এগুলো আগেই বাদ দিতে হবে।
👉প্রথম ধাপঃ জব সল্যুশন –
ধারাবাহিক ভাবে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি পর্বের প্রথমেই যেটা করবেন সেটা হচ্ছে জব সল্যুশন থেকে বিগত বিসিএসের সাহিত্য অংশের সকল প্রশ্ন পড়ে ফেলবেন। শুধু পড়ে ফেলবেন এমন না, শিখে ফেলবেন। এবং খুব ভালো করেই শিখে ফেলবেন।
এই কাজটা শুধু বাংলা সাহিত্য বিষয়ে প্রস্তুতি নেবার ক্ষেত্রে না বরং সকল বিষয়ে প্রস্তুতি নেবার ক্ষেত্রেই করবেন।
👉দ্বিতীয় ধাপঃ প্রশ্ন বিশ্লেষণ –
এই ধাপে আপনাকে প্রতিটি নম্বরের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন, প্রতিটি নম্বরের জন্য। তার জন্য প্রশ্নের ক্যাটাগরি অনুযায়ি নম্বর বিভাজন করে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই নম্বর বিভাজন থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন অংশে কতটুকু জোড় দিয়ে পড়তে হবে। তাই এই ধাপটিতে ভুল করা চলবে না। এখানে ভুল করলে ভুলের মাশুল গুনে শেষ করতে পারবেন না।
জব সল্যুশনের সাহিত্যের প্রশ্ন গুলো খুব ভালো করে পড়লে আপনি সাহিত্যের কোন অংশ থেকে কেমন প্রশ্ন আসে সেটা সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন। সেখান থেকে নম্বর বিভাজনের কাজটা করে নিতে পারেন। এই কাজটা আমি আপনাদের জন্য একটু সহজ করে দিচ্ছি
প্রথমেই দেখে নিবো বিসিএসে বাংলা সাহিত্যের সিলেবাস-
প্রিলিমিনারিঃ
👉 প্রাচীন ও মধ্যযুগ – ৫ নম্বর।
👉 আধুনিক যুগ – ১৫ নম্বর।
আপনাদের সহায়তার জন্য আধুনিক যুগের কিছু সাহিত্যিকের নাম এখানে দিয়ে দিচ্ছি। যাদের উপর একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে আপনাদের পড়া দরকার। এদের সম্পর্কে আগে জানুন। আধুনিক যুগে আসার পর ধারাবিকতার চাইতে গুরুত্ব অনুযায়ী পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ।
👉 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, ফর্রুখ আহমদ, কায়কোবাদ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আহসান হাবীব, জীবনানন্দ দাশ, জহির রায়হান, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারীলাল চক্রবর্তী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সমর সেন, সৈয়দ শামসুল হক এই ২৫ জনের সাহিত্যকর্ম খুব ভালো করে পড়ে শেষ করুন। এদের সম্পর্কে ভালো করে পড়া শেষ হলে আধুনিক যুগের প্রগতিশীল লেখকদের সম্পর্কে পড়ুন। প্রগতিশীল লেখকদের মধ্যে রয়েছেনঃ
আহমদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ, বদরুদ্দিন ওমর, আবদুল্লাহ আল মামুন, জাহানারা ইমাম, শাহরিয়ার কবির, আরজ আলী মাতুব্বর, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা।
বিসিএস বাংলা সাহিত্যে প্রস্তুতি আরো মজবুত করার জন্য যা যা করতে পারেনঃ
বাংলা সাহিত্যে যা যা প্রথম তা পড়বেন।
👉 বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা যেমনঃ বেঙ্গল গেজেট, দিকদর্শন, সমাচার দর্পণ, সবুজপত্র, মোসলেম ভারত, কল্লোল, সমকাল, বেগম, নবযুগ, হিতকরী, সওগাত ইত্যাদির প্রকাশকাল, প্রকাশক, সম্পাদক সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখুন।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যকর্ম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সহিত পড়ুন।
বিভিন্ন সংগঠন যেগুলো সাহিত্যের সাথে সম্পর্কিত যেমনঃ বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, মুসলিম সাহিত্য সমাজ, হিন্দু কলেজ ও ইয়ংবেঙ্গল, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো করে পড়ুন।
সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম, উপাধি গুলো মুখস্ত রাখবেন।
সাহিত্যিকদের বিভিন্ন সাহিত্যে ব্যবহৃত বিখ্যাত উক্তিগুলো পড়বেন।
সাম্প্রতিক সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ধারণা রাখুন।