20/04/2026
মফস্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা -
দীর্ঘ ৪০ দিনের ছুটি কাটিয়ে গত ২৯ মার্চ স্কুল খুলেছে। আজ ক্লাস চলার ১৪ দিন। কিন্তু দশম শ্রেণির ১৭ জন শিক্ষার্থীর দেখা নেই অন্যান্য শ্রণির একই অবস্থা।
একজন শিক্ষক হিসেবে বসে থাকতে পারলাম না। সহপাঠীদের দিয়ে টিম করে খোঁজ খরবর নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে গেলাম । ১৯ জন অভিভাবকের সাথেই ফোনে কথা হলো। কেন তাদের সন্তান স্কুলে আসছে না?
অভিভাবকদের উত্তরগুলো শুনলে আপনি হাসবেন না কাঁদবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাবেন -
সাদা জুতা ধুয়ে দিছি, শুকায় নাই। জুতা ছাড়া গেলে তো আপনারা বকবেন।
ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করে বোরকা বানাতে দিছি, রবিবার হাতে পেলে যাবে।
বাবার সাথে ধান জমিতে একটু কাজ করেছিল ।
বেড়াতে গেছে, সামনের সপ্তাহে আসবে।
স্কুলে আসার পথে যে শিক্ষার্থীকে দেখলাম বাইকে চড়ে আড্ডা দিচ্ছে। স্কুলে আসার পর তার অভিভাবক কে ফোন দিয়ে বললাম আপনার সন্তান কোথায়, অভিভাবক বলে একটু খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। অতঃপর বলে সে তার বন্ধুর বাসায় গেছে, তার বন্ধু নাকি অসুস্থ। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম সে তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঘুরতেছে। (তখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম যে পিতামাতা তার সন্তানের ভালো চাই না তুমি চাওয়ার কে? তবুও চেষ্টা করি যদি যদি তারা সঠিক পথে ফিরে আাসে)
সবচেয়ে ভয়াবহ উত্তর— ও আর স্কুলে যাবে না, বিয়ে দিয়ে দেব। নামটা আপাতত থাকুক।
এমনকি সকালে যাকে প্রাইভেট পড়তে দেখা গেছে, তার অভিভাবক বলছেন— অসুস্থ, তাই স্কুলে যেতে পারছে না।
আমার উপলব্ধি: আমরা যারা গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করি, আমাদের লড়াইটা শুধু সিলেবাস শেষ করার নয়; আমাদের লড়াইটা এই মানসিকতার বিরুদ্ধে। যখন জুতা না শুকানো বা বোরকা তৈরি না হওয়া পড়াশোনার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন বুঝবেন শিক্ষার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কতটা নিচে পড়ে আছে।
দিনশেষে যখন রেজাল্ট খারাপ হবে, তখন আঙুল তোলা হবে স্কুলের দিকে, শিক্ষকদের যোগ্যতার দিকে। কিন্তু যে ভিতটা বাড়িতেই নড়বড়ে, তাকে টেনে তোলা কতটা যে কঠিন, তা কেবল আমরাই জানি।
এই যদি হয় অভিভাবকের চিন্তাভাবনা, তবে দেশ গড়ার কারিগররা একা একা আর কতটুকু করতে পারবে?
Collected