30/05/2026
একটা প্রশ্নের উত্তর দিন তো।
কোনো ঝগড়া হয়নি, কোনো চিৎকার হয়নি। অথচ হুট করেই আপনার ফোনের ওপাশের মানুষটা দিনের পর দিন চুপ হয়ে গেল। আপনি টেক্সট করছেন, সে সিন করে রেখে দিচ্ছে। আপনি কল করছেন, সে কেটে দিচ্ছে। আপনি বারবার জিজ্ঞেস করছেন— "কী হয়েছে? আমার কি কোনো ভুল হয়েছে?" কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর নেই। শুধু একটা দেয়ালের মতো নীরবতা।
চিনতে পারছেন পরিস্থিতিটা? এটাকে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ব্যস্ততা ভেবে ভুল করবেন না। এটা হচ্ছে আপনাকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটা জঘন্য শাস্তি।
সে খুব ভালো করে জানে, তার এই নীরবতা আপনাকে ভেতরে ভেতরে কতটা তিলে তিলে মারছে। সে জানে, আপনি উত্তর না পেয়ে পাগলের মতো ছটফট করবেন। আর সে ঠিক এটাই চায়।
• দাবার ঘুঁটি: সে আপনাকে বোঝাতে চায় যে, এই সম্পর্কে তার ইচ্ছাই শেষ কথা। সে যখন চাইবে কথা বলবে, যখন চাইবে আপনাকে একটা আবর্জনার মতো ফেলে রাখবে।
• আত্মসম্মানের নিলাম: আপনি যতবার তার এই নীরবতা ভাঙার জন্য আকুতি-মিনতি করবেন, তার ইগো তত বেশি পুষ্ট হবে। সে আপনাকে আপনার নিজের চোখেই ছোট করে দিচ্ছে।
• মানসিক দাসত্ব: এই নীরবতার উদ্দেশ্য আপনাকে শুধরানো নয়, এর উদ্দেশ্য হলো আপনাকে এতটাই মেরুদণ্ডহীন বানিয়ে ফেলা, যাতে পরবর্তীতে সে কোনো অন্যায় করলেও আপনি ভয়ে মুখ না খোলেন।
মুখের ওপর চড় মারলে যে ক্ষত হয়, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ক্ষত তৈরি হয় এই ছদ্মবেশী নীরবতায়। যে মানুষটা আপনার ছটফটানি দেখেও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, সে আর যাই হোক—আপনাকে ভালোবাসে না। আপনি কি সারাজীবন একটা উত্তরের আশায় তার পায়ের কাছে বসে থাকবেন, নাকি এই বিষাক্ত নীরবতার দেয়ালটা ভেঙে আজীবনের মতো বেরিয়ে আসবেন?