27/04/2025
ঘড়ির কারিগরের গোপন রহস্য
রুপালী পাহাড়ের মাঝে ছোট্ট এক গ্রাম ছিল। সেই গ্রামের প্রাণ ছিল এক বৃদ্ধ ঘড়ির কারিগর — এলিয়র। তার দোকানজুড়ে ছিল টিকটিক, ঘুংঘাং আর ঘণ্টার মিষ্টি আওয়াজ। গ্রামের লোকেরা বলত, এলিয়র এমন কারিগর, যে শত বছরের পুরনো বন্ধ ঘড়িও আবার জীবিত করে তুলতে পারে।
এক ঝড়ের রাতে, এক অচেনা আগন্তুক এলিয়রের দরজায় কড়া নাড়ল। তার হাতে কোনো ঘড়ি ছিল না, ছিল শুধু একটি ছোটো সোনালী চাবি।
"এই চাবি," আগন্তুক ফিসফিস করে বলল, "এক এমন ঘড়ির, যে শুধু সময় নয়, অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।"
কৌতূহলী হয়ে এলিয়র চাবিটি গ্রহণ করল। রাত গভীর হলে সে তার ওয়ার্কশপে গিয়ে এক পুরনো, ধূলিধূসরিত গ্র্যান্ডফাদার ক্লক খুঁজে পেল — যেটার কথা সে নিজেও মনে করতে পারছিল না। চাবি ঢুকিয়ে ঘুরাতেই, ঘড়ির কাঁটা পাগলের মতো ঘুরে উঠল, আর দোকানের পেছনের দেয়ালে হঠাৎ একটি গুপ্ত দরজা খুলে গেল।
দরজার ওপারে ছিল এক জাদুময় জগৎ: যেখানে নক্ষত্রেরা আকাশে নাচত, নদীগুলো উল্টো দিকে বইত, আর বনভূমি ফিসফিসিয়ে হারানো নাম ডাকত। এ ছিল এমন এক জগৎ, যেখানে সময় ইচ্ছামত বাঁকানো যেত, আর স্বপ্ন বাস্তব হয়ে উঠত।
কিন্তু চাবির সঙ্গে ছিল এক দায়িত্ব: চাবির অধিকারীকে দুই জগতের সীমারক্ষা করতে হবে। এলিয়র সেই দায়িত্বের গুরুত্ব অনুভব করল। পরদিন সকালে, সে চুপিচুপি তার দোকান বন্ধ করে দিল। গ্রামের আর কেউ কখনও তাকে দেখেনি।
আজও, যদি গভীর রাতে ঝড়ের মধ্যে কান পেতে থাকো, তবে দূর থেকে হয়তো শোনা যাবে এলিয়রের ঘড়ির মৃদু টিকটিক আওয়াজ — দুই জগতের ভারসাম্য রক্ষার নীরব সুর।