08/08/2026
একজন মেয়ের নিজের বাড়ি বলতে আসলে কী থাকে?
ছোটবেলায় বাবার বাড়ি, মায়ের বাড়ি, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি, স্বামীর বাড়ি, কত রকমের পরিচয়, কত রকমের সম্পর্কের নামে একটা মেয়ের ঠিকানা পরিচিত হয়। কিন্তু খুব সহজভাবে, কোনো সম্পর্কের নাম না জুড়ে, একজন মেয়ে কি বলতে পারে—“এটা আমার বাড়ি”, “এটা আমার বাসা”?
আমাদের সমাজে একজন পুরুষ খুব স্বাভাবিকভাবে বলতে পারে, “আমার বাড়ি”, “আমার ফ্ল্যাট”, “আমার ঘর।” কিন্তু একজন নারী যখন একই কথাটা বলে, তখন অনেক সময় তার কথার মধ্যে অন্য কারও অধিকার, পরিচয় কিংবা সম্পর্ক খুঁজে দেখা হয়।
বিয়ের পর মেয়ের বাড়ি হয়ে যায় “স্বামীর বাড়ি”। বাবার বাড়ি হয়ে যায় “বাপের বাড়ি”। মায়ের বাড়ি হয়ে যায় “মায়ের বাড়ি”। অথচ একটা মেয়ের নিজের একটা জায়গা—যেটার পরিচয় কোনো বাবা, মা, স্বামী, শ্বশুর কিংবা অন্য কারও নামের ওপর নির্ভর করবে না, সেটা থাকা কতটা জরুরি, সেটা হয়তো আমরা খুব কমই ভাবি।
আমি মনে করি, প্রত্যেক মেয়ের জীবনে এমন একটা জায়গা থাকা উচিত, যেটার সামনে দাঁড়িয়ে সে একদম নিশ্চিন্তে বলতে পারে—
এটা আমার বাড়ি।
এটা আমার বাসা।
এটা আমার জায়গা।
সেখানে তার পরিচয় কারও স্ত্রী হিসেবে নয়, কারও মেয়ে হিসেবে নয়, কারও বউমা হিসেবে নয়—শুধু সে নিজে।
সেটা একটা ছোট্ট ঘর হতে পারে, একটা ফ্ল্যাট হতে পারে, একটা বাড়ি হতে পারে। কিন্তু সেটার ওপর তার নিজের অধিকার, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের পরিচয় থাকা উচিত।
কারণ একজন মেয়ের নিজের একটা বাড়ি শুধু ইট-পাথরের চার দেয়াল নয়। এটা তার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, আত্মসম্মান আর নিজের অস্তিত্বের একটা দৃশ্যমান ঠিকানা।
যে বাড়িটাকে সে কারও নামে পরিচয় করিয়ে দিতে বাধ্য হবে না।
কেউ জিজ্ঞেস করলে তাকে বলতে হবে না, “এটা আমার বাবার বাড়ি”, “এটা আমার মায়ের বাড়ি”, “এটা আমার স্বামীর বাড়ি” কিংবা “এটা আমার শ্বশুরবাড়ি।”
সে শুধু খুব স্বাভাবিকভাবে, কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলতে পারবে
“এটা আমার বাড়ি।”
হয়তো একজন মেয়ের জীবনে এই ছোট্ট বাক্যটার চেয়ে সুন্দর, শক্তিশালী এবং নিজের করে পাওয়ার মতো অনুভূতি আর খুব বেশি কিছু নেই। 🥀
゚viralシ