06/08/2026
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দিনাজপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি প্রদান
======================================
মোঃ নুর ইসলাম, দিনাজপুর: সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট, অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ভূতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘১১ দলীয় ঐক্য’, দিনাজপুর জেলা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান পূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আফতাব উদ্দীন মোল্লা, জেলা জাগপা নেতা ইমরুল কায়েস রুপম, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি দিনাজপুর জেলার সভাপতি রুহুল আমিন, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা সাইদুল ইসলাম সৈকত, দিনাজপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন, শহর আমীর মাওলানা সিরাজুস সালেহীন, দিনাজপুর শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য মাসুদ রানা প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলামের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালির স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ সর্বক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি, প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে অতিরিক্ত ভূতুড়ে বিল আদায় এবং চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
জনস্বার্থে পরিস্থিতি নিরসনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো:
১. গত তিন মাসে আদায়কৃত ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অবিলম্বে গণশুনানির আয়োজন, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। ২. প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়াসহ সকল অবৈধ ও অযৌক্তিক চার্জ অবিলম্বে বাতিল করা। ৩. গত তিন মাসে এসব খাতে সংগৃহীত অতিরিক্ত অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া। ৪. বিদ্যুৎ বিলে স্বচ্ছতা আনতে পোস্টপেইড বিলে মিটার রিডিং লগ সংযুক্ত করা এবং প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার নিরপেক্ষ অডিট করা। ৫. "গ্যাস না থাকলে বিল নয়"—এই নীতি অবিলম্বে কার্যকর করা এবং সরবরাহহীন সময়ের বিল না নেওয়া। ৬. দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৭. মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের নাম ও ক্ষতিপূরণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের ব্যাকআপ পরিকল্পনা ঘোষণা করা। ৮. গ্যাসের চুরি, অপচয় ও অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা এবং পুরনো পাইপলাইন দ্রুত সংস্কার করে সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৯. শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে কর্মসংস্থান রক্ষা করা। ১০. এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি সংকটে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতের দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। ১১. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম রোধে বাজারে সিন্ডিকেট, মজুতদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তা ও কৃষকবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
স্মারকলিপিতে ১১ দলীয় ঐক্য দিনাজপুর জেলার পক্ষে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব একরামুল হক আবির, জাগপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরুল কায়েস রূপম এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা আহ্বায়ক মো. রুহুল আমীন।