26/08/2026
মুরগির ঠ্যাংটা একটু ফ্রিজে রাখবেন?
অভাব মানুষের পকেটে থাকতে পারে; আত্মসম্মানে নয়।
একদিন আম্মাকে দেখলাম পাশের বাসার চাচির কাছে এক মুঠো লবণ চাইতে।
আমি অবাক হয়ে বললাম,
— আমাদের ঘরে তো লবণ আছে। তাহলে পাশের বাসা থেকে চাইলেন কেন?
আম্মা মুচকি হেসে বললেন,
— দেখ বাবা, ওরা খুব অভাবী মানুষ। প্রায়ই আমাদের কাছে এটা-ওটা চাইতে আসে। আমি যদি শুধু দিয়ে যাই, একসময় ওদের নিজের কাছেই খারাপ লাগবে। মনে হবে, “আমরা শুধু নিই, কিছু দিতে পারি না।”
— তাই বলে লবণ চাইবেন?
— হ্যাঁ। মাঝে মাঝে আমিও ওদের কাছে সামান্য কিছু চাই। এতে ওরা স্বস্তি পায়। মনে হয়, “আমরাও তো কখনো কখনো ওদের কাজে লাগি।”
কয়েকদিন পর সেই চাচি একদিন খুব আমতা আমতা করে আমাদের দরজায় এলেন।
— আপা… একটা কথা ছিল…
আম্মা বললেন,
— বলেন চাচি, কী হয়েছে?
চাচি একটু ইতস্তত করে বললেন,
— আপনাদের ফ্রিজে… মুরগির একটা ঠ্যাং একটু রাখা যাবে? আমাদের তো ফ্রিজ নেই। রান্না করব দুপুরে, কিন্তু এখন রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই।
আম্মা একটুও অবাক হলেন না। হাসিমুখে বললেন,
— আরে, এই কথা বলতে এত লজ্জা পাচ্ছেন কেন? নিয়ে আসেন। আমাদের ফ্রিজে রেখে যান।
চাচি চলে যাওয়ার পর আমি আম্মার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
আম্মা হেসে বললেন,
— বুঝলি তো? মানুষকে সাহায্য করার সময় শুধু তার অভাবটা দেখলে হয় না, তার আত্মসম্মানটাও দেখতে হয়।
সেদিন বুঝলাম—
কাউকে সাহায্য করা মানে শুধু তার প্রয়োজন মেটানো নয়।
কখনো কখনো এমনভাবে পাশে দাঁড়ানো, যাতে সে নিজেকে অসহায় মনে না করে—সেটাই সবচেয়ে সুন্দর সাহায্য।
অভাব মানুষের পকেটে থাকতে পারে; আত্মসম্মানে নয়।