11/02/2026
নারীর স্তন দেখতে ভালো লাগে? আমারো লাগতো, কিন্তু একদিন .......
ছেলেবেলায়, আমি ভাবতাম—নারীর সৌন্দর্যের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নাকি তার বুক।
পুরুষ হয়ে জন্মেছিলাম, কিন্তু মানুষ হতে শিখেছি এক মায়ের শুকনো বুকের দিকে তাকিয়ে...
🎯লেখাটি একজন পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা। দেখুন তো আপনি এর সাথে নিজেকে মিলাতে পারেন কিনা🎯
সত্যিটা স্বীকার করতে আজ আর কোনো লজ্জা নেই—
বয়স যখন কম ছিল, আর দশটা ছেলের মতো আমার চোখও পাপমুক্ত ছিল না। নারীর সৌন্দর্যের কথা ভাবলেই চোখ আটকে যেত তার শরীরের ভাঁজে, বিশেষ করে বুকের দিকে।
বন্ধুমহলে আড্ডায় বলতাম, "নারীর আসল সৌন্দর্য নাকি ওখানেই!"
ছিঃ! আজ ভাবতেই ঘৃণায় শরীর শিউরে ওঠে। তখন বুঝতাম না, মাংসপিণ্ডের ওই আকার বা আকৃতির নিচে কী বিশাল এক মহাসমুদ্র লুকিয়ে থাকে। আমার দৃষ্টি তখন চামড়া ভেদ করে আত্মার নাগাল পেত না।
কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো চেয়েছিলেন আমার এই "পুরুষত্ব"র অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিতে। তাই আমাকে মুখোমুখি করেছিলেন এমন এক দৃশ্যের—যা দেখার পর আমি আর আগের আমি থাকিনি।
সময়টা চৈত্র মাসের কাঠফাটা দুপুর। গ্রামবাংলার আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। মাটি ফেটে চৌচির। ধুলোবালি ওড়া এক মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তৃষ্ণায় আমার নিজেরই গলা শুকিয়ে কাঠ।
হঠাৎ পথের ধারে এক জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরের দিকে চোখ গেল। চালের খড় উবে গেছে, বেড়া নড়বড় করছে। সেই ঘরের দাওয়ায় বসে ছিলেন এক মা।
বয়স কত হবে? পঁচিশ? ছাব্বিশ? কিন্তু অভাব আর দারিদ্র্য তার যৌবন শুষে নিয়ে মুখে এঁকে দিয়েছে পঞ্চাশ বছরের বার্ধক্য। গায়ের ব্লাউজটা শতছিন্ন, শাড়ির আঁচলটা খসে পড়েছে—কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
কারণ, তার কোলে শুয়ে আছে এক হাড়জিরজিরে শিশু।
আমি থমকে দাঁড়ালাম। দৃশ্যটা আমাকে নড়তে দিল না।
বাচ্চাটা কাঁদছে না। কান্নার শক্তিও হয়তো তার নেই। সে শুধু প্রাণপণ শক্তিতে মায়ের বুকটা কামড়ে ধরে চুষছে।
কিন্তু হায়! সেই বুকে কি এক ফোঁটা দুধ আছে?
মায়ের শরীর নিজেই তো এক কঙ্কাল। বুকের হাড়গুলো গোনা যাচ্ছে। চামড়ার নিচে শুধুই হাহাকার।
তবুও অবুঝ শিশুটি চুষেই যাচ্ছে... *চোঁক... চোঁক...*
এক অদ্ভুত করুণ শব্দ। যেন শুকনো নদী থেকে শেষ বিন্দু জলটুকু নিংড়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা।
আমি স্পষ্ট দেখছিলাম—দুধ নয়, শিশুটি চুষছে মায়ের বুকের রক্ত, মায়ের কলিজার রস।
মায়ের চোখ দুটো একদম স্থির, পাথরের মতো। কিন্তু সেই পাথর চুইয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে