19/08/2026
নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার (ঢাকা):
ঢাকার দোহারে নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক মহুরি নামের এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মনির হোসেনের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নিয়েও জমির সঠিক নামজারি করে দেননি বলে দাবি করা হয়েছে। উপরন্তু, গত পাঁচ বছর ধরে জমির খাজনা দিতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই ভুক্তভোগী।ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর ভোগান্তিভুক্তভোগী মনির হোসেন জানান, ২০১৪ সালে জমির নামজারির জন্য তিনি দলিল লেখক সিদ্দিক মহুরিকে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি করেন। টাকা নেওয়ার পর সিদ্দিক মহুরি তাকে একটি নামজারির কাগজ বুঝিয়ে দেন। দীর্ঘদিন পর, ২০২২ সালে মনির হোসেন জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) দিতে গেলে মূল জালিয়াতি ধরা পড়ে। ভূমি অফিস থেকে তাকে জানানো হয়, সিদ্দিক মহুরির দেওয়া ওই কাগজটি সঠিক নয় এবং তা দিয়ে খাজনা নেওয়া সম্ভব নয়।মনির হোসেনের অভিযোগ, জালিয়াতির বিষয়টি জানার পর গত চার বছর ধরে তিনি কাগজ ঠিক করে নেওয়ার জন্য সিদ্দিক মহুরির পেছনে ঘুরছেন। এই সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিদ্দিক মহুরি তার কাছ থেকে পুনরায় টাকাও নেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি জমির নামজারি বা খাজনা আদায়ের কোনো সুরাহা করে দেননি। নামজারি সংক্রান্ত এই জটিলতার কারণে গত পাঁচ বছর ধরে জমির খাজনা দিতে পারছেন না বলে দাবি করেন মনির। নিরুপায় হয়ে তিনি এখন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ভূমি অফিসের বক্তব্য: কাগজটি সম্পূর্ণ ভুয়াঅভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের কাছে মনির হোসেনের সেই নামজারির কাগজটি দেখানো হয়। কাগজটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে ভূমি কর্মকর্তা মতিউর রহমান স্পষ্ট জানান, মনির হোসেনকে দেওয়া নামজারির (খারিজ) কাগজটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং জাল।অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত দলিল লেখক সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক মহুরি তার বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার দেওয়া নামজারির কাগজটি কোনোভাবেই ভুয়া নয়। মনির হোসেন সময়মতো জমির খাজনা পরিশোধ করেননি। খাজনা বকেয়া থাকার কারণেই মূলত তার খারিজটি বাতিল হয়ে গিয়েছে।"স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আগের রেকর্ডস্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিদ্দিক মহুরির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে সরকারি জমি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিক্রি করার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। একজন দলিল লেখকের এমন বারবার জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।