05/09/2026
নিজস্ব প্রতিবেদক, মধুখালী (ফরিদপুর):"
কত এমপি বদলালো, মন্ত্রী বদলালো, শুধু বদলালো না আমাদের এই ভাঙা মাদ্রাসাটির ভাগ্য!"— বুকভরা ক্ষোভ আর চোখে হতাশা নিয়ে এভাবেই নিজেদের আকুতি প্রকাশ করছিলেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাঘাট ইউনিয়নের মিটাইন গ্রামের বাসিন্দারা।গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০০১ সালে শিক্ষা অনুরাগী আলহাজ্ব মোঃ আলী আকবর ইঞ্জিনিয়ার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মিটাইন দাখিল মাদ্রাসা। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার এই বাতিঘরটি আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। সুযোগ-সুবিধার চরম অভাব সত্ত্বেও প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে আসছে। তবে বর্তমানের জরাজীর্ণ ও বেহাল দশা দেখে মনে হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে নিভে যেতে পারে এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটির টিনশেড ঘরগুলো সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা। বর্ষাকালে ছাদ বেয়ে পানি পড়ে, আর রোদের দিনে তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের বসার উপায় থাকে না। শ্রেণিকক্ষে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও আসবাবপত্র। এর ওপর যোগ হয়েছে তীব্র স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুমের (টয়লেট) সংকট। কোমলমতি দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে ক্লাস করছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির এই মরণাপন্ন দশা দূর করতে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সম্পূর্ণ নির্বিকার। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি বলে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি ভবন হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং বহু পরিবারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া।মাদ্রাসাটিকে রক্ষায় এবং শিক্ষার আলো টিকিয়ে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী ৫টি মূল দাবি জানিয়েছেন:মাদ্রাসাটি দ্রুত এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা।জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর সংস্কার করে নিরাপদ স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা।শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও আসবাবপত্র সরবরাহ করা।ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অতি দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম নির্মাণ করা।সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিশেষ সরকারি বরাদ্দ প্রদান করা।মিটাইন গ্রামের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বাঁচাতে প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ কি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেবে?— এখন এটাই এলাকাবাসীর মূল প্রশ্ন।
#মিটাইন_মাদ্রাসা_বাঁচান