24/09/2026
ফরিদপুরে ২৪ বস্তা ভর্তুকির সারসহ নসিমন আটক, ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
**বিশেষ প্রতিনিধি | MTMNEWS**
ফরিদপুরের সালথায় নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে অন্যদিকে নেওয়ার অভিযোগে ২৪ বস্তা ভর্তুকির সারসহ একটি নসিমন আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কানাইপুর সড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি আটক করা হয়। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি বাজারে বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্তের দোকান থেকে গোড়দিয়া বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সারগুলো গোড়দিয়া বাজারে পৌঁছানোর কথা ছিল।
তবে প্রশাসনের কাছে খবর আসে, নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে সারগুলো কানাইপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছে। পরে অভিযান চালিয়ে কানাইপুর সড়ক থেকে ২৪ বস্তা সারসহ নসিমনটি আটক করা হয়।
অভিযানের সময় নসিমনের চালক এরশাদের কাছে সার পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কোনো রশিদ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আরও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কানাইপুর বাজারে সুভাষ দত্তের একটি সিমেন্টের দোকানের আড়ালে ভর্তুকির সার রাখা বা বিক্রির যে অভিযোগ রয়েছে, আটক ২৪ বস্তা সারের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার সুভাষ দত্ত বলেন, তাঁর ডিলার পয়েন্ট থেকে সাব-ডিলারদের দেওয়ার জন্যই ২৪ বস্তা সার নেওয়া হচ্ছিল। পথে উপজেলা প্রশাসন নসিমনটি আটক করে।
কানাইপুরের সিমেন্টের দোকানে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ঘরে বিভিন্ন কীটনাশক সামগ্রী বিক্রি করা হয়, সার বিক্রি করা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে ওই ঘরে সার এনে রাখা হয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ফলে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে ভর্তুকির সার পরিবহন, পরিবহনের সময় রশিদ না থাকা এবং কানাইপুরের দোকানে সার রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সেখানে ভর্তুকির সার নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত ফলাফল বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এরপরও যদি এ ধরনের আচরণ করা হয়, তাহলে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।
**রিপোর্ট: মো. টিটুল মোল্লা | MTMNEWS** **সত্যের পথে, সবার আগে**
অবশ্যই বন্ধু। MTMNEWS-এর জন্য তথ্যগুলোকে একটু বেশি **সংবাদধর্মী, টানটান ও অনুসন্ধানী ভঙ্গিতে**, তবে অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্য আলাদা রেখে সাজিয়ে দিলাম।
#ফরিদপুর #সালথা #ভর্তুকিরসার #সারঅনিয়ম #সারআটক #কৃষকেরসার #উপজেলাপ্রশাসন