23/07/2025
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে যখন বন্দি করে টেনে হিচঁড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, হাজারো মানুষ নিরুত্তাপ ভঙ্গিতে তাকিয়ে দেখছিল সেই অপমানজনক দৃশ্য। কেবল দেখেই থেমে থাকেনি, অনেকেই যেন উপভোগ করছিল সেই তামাশা! এর পরপরই কাঁটাওয়ালা সিংহাসনে বসিয়ে, ছেঁড়া জুতা দিয়ে পিটিয়ে নবাবকে যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, সেটিও জনতার সামনে এক প্রকার ‘বিনোদন’ হয়ে উঠেছিল।
এটাই আমাদের মানসিকতা — জনসমক্ষে এক বীরপুরুষকে হেয় হতে দেখে আমরা প্রতিবাদ করিনি, বরং নীরব দর্শকের মতো আনন্দ পেয়েছি। এই মনোভাবই প্রমাণ করে, কেন আমরা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পরাধীনতা মেনে নিয়েছি নির্দ্বিধায়।
একটি চমকপ্রদ তথ্য দেই: লর্ড ক্লাইভ তার ডায়েরিতে লিখেছেন —
“যে মুহূর্তে নবাবকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল, তারা যদি প্রত্যেকে একটি করে ঢিল ছুঁড়ত, তাহলে ইংরেজদের চরম পরাজয় হতো।”
ভাবুন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর প্রান্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রায় ১০ হাজার অশ্বারোহী, ৩০ হাজার পদাতিক, এবং বিপুল কামান ও গোলাবারুদসহ সুসজ্জিত সেনাবাহিনী। অন্যদিকে ক্লাইভের সৈন্য ছিল মাত্র ৩ হাজার, যার মধ্যে ৯ শত জন ছিল অপেশাদার ব্রিটিশ অফিসার—যাদের অনেকেই যুদ্ধের ‘W’ পর্যন্ত জানত না!
তবুও, ক্লাইভ আত্মবিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধে নামে। কারণ, সে জানত, একটি আত্মবিশ্বাসহীন, বিভক্ত, স্বার্থান্ধ জাতিকে জয় করতে বড়সড় যুদ্ধবাহিনী লাগে না। মীরজাফরের মতো বেইমানদের দিয়ে দাবার চাল দিলে, গোটা জাতিকে পরাজিত করা সম্ভব। মীরজাফর, উমিচাঁদ, রায়বল্লভ, ঘষেটি বেগম — এদের সবাই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে। এবং তারা প্রত্যেকেই পেয়েছে করুণ পরিণতি।
ক্লাইভ মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার ওপর পুরোপুরি ভরসা করেননি, বরং যুদ্ধের আগেই তিনি বাঙালির মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তিনি জানতেন — যুদ্ধ শেষে জনসম্মুখে যদি নবাবকে হেনস্তা করা হয়, এই জাতি প্রতিবাদ করবে না, বরং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ‘উপভোগ’ করবে।
সেই কারণেই বলা যায় — রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি, যিনি বাঙালি জাতির মানসিকতা সবচেয়ে নিখুঁতভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।
#বাংলার_ইতিহাস #সিরাজউদ্দৌলা #রবার্ট_ক্লাইভ
#মীরজাফর #পলাশীর_যুদ্ধ #বেইমান #মানসিক_দাসত্ব
#গর্ব_না_লজ্জা #ঐতিহাসিক_বিচার
#জাতির_চোখ_উন্মুক্ত_হোক