11/02/2026
#নিষিদ্ধ ভালবাসা
#লেখিকাMammy Akter
পার্ট ১
ভালোবাসা ,ভালোবাসা শব্দটা যতটা কঠিন ,তার থেকে অনেক বেশি কঠিন তার গভীরতা বোঝা ।ভালবাসা পৃথিবীর কোন নিয়ম মানে না, না মানে কোন নিষিদ্ধতা।
দুপুরের রোদে পুরো রাজশাহী শহর খা খা করছে এর মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা দিয়ে নিজ গতিতে চলছে একটা সাদা কালো কালারের কাস্টমাইজ করা mercedes ।তার মধ্যে বসে আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রি চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র অধিপতি সাহির চৌধুরী ।যে মাত্র ২৭ বছর বয়সে অনেক বড় বড় এচিভমেন্ট করেছে যার কথাতে এখন সরকারও মানতে বাধ্য। যার একটা ইশারা সরকারের পালাবদল করতে পারে সে বসে তার ল্যাপটপে কাজ করছে তার নতুন প্রজেক্ট এর জন্য রাজশাহী এসেছে। তার মুখে রয়েছে এক ধরনের স্মার্টনেস আর গভীরতা ।
তার কাজের মধ্যে বেজে ওঠে তার ফোন ।সাহির ভুরু কুঁচকে তাকায় তার ফোনের দিকে এ সময় তাকে কে ফোন করল তাও আবার তার পার্সোনাল নাম্বারে ফোনের দিকে তাকাতেই তার নজর পরে ফোনের স্কিনে জ্বলজ্বল করছে মম লেখা।
আইরিন চৌধুরী ,সাহির চৌধুরীর মা আর আরিফ চৌধুরীর একমাত্র ভালোবাসার স্ত্রী ।যে এখন অবস্থান করছেন লন্ডনের এক বিলাসবহুল বাড়িতে আইরিন চৌধুরী আর আরিফ চৌধুরী লন্ডন থেকে তাদের বিজনেস এর দেখাশোনা করে। Mum নামটা দেখতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাহির। সে জানে তার মা এই সময় তাকে কেন কল দিচ্ছে তাই সে আর ফোনটা ধরেনি বেশ কয়েকবার ফোন করার পর আইরিন চৌধুরী বাধ্য হয়ে অনিক কে ফোন করে অনিক সাহিরের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বলতে গেলে সাহিরের ডান হাত বাম হাত সব ।
অনিক একটু ভয় ভয় কণ্ঠে বলে ভাই ম্যাম অনেকবার কল দিচ্ছে একটাবার কথা বলে নিলে ভালো হতো না।সাহির একটু বিরক্তি নিয়ে এয়ারপোর্ট কানে দিল।
- হমমম
আইরিন চৌধুরী একটু রাগী সুরে বলে উঠলো আমার ফোন কেন ধরলে না
সাহির খুব স্বাভাবিকভাবেই বললো
- ব্যস্ত ছিলাম মম।
- ব্যস্ত না কি আমি সব বুঝি তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছো তাই না ।
- বুঝতে যখন পেরেছ তাহলে ফোন দিচ্ছ কেন ।
- তুমি কি ভেবেছ এভাবে এড়িয়ে তুমি রেহাই পাবে। তুষার তোমার থেকে ছোট তাও ওর আজ এনগেজমেন্ট হয়ে গেল সামনের মাসে বিয়ে আর তুমি আচ্ছা শাহির তুমি কি আমাকে শাশুড়ি হতে দিবে না। আমি কি আমার ছেলে বউয়ের সাথে ঝগড়া করতে দিবে না ।তোমার ফুপির মেয়ে শ্রুতি ।তোমাকে পছন্দ করে ওকে আমারও ভালো লাগে তোমার ফুপি কতবার বলেছে তোমাদের বিয়ের কথা কিন্তু তুমি কিছুই বলো না ।তোমার কোন মেয়ে পছন্দ হয় না কেন বলতো। একবারে কথাগুলো বলল আইরিন চৌধুরী ।
এতক্ষণ সাহিল শুধু শুনছিল। তার মুখ ছিল স্বাভাবিক কারণ এই বিষয়ে আজ নতুন কিছু নয় সে খুব স্বাভাবিকভাবে বলল
- কারণ সবার এই সাহির চৌধুরীর বউ হওয়ার যোগ্যতা নেই মম। এই শাহীর চৌধুরীর বউ হতে গেলে তাকেও এই সাহির চৌধুরীর মত হতে হবে কারণ একটা সিংহ সবসময় একটা সিংহী কেই তার রানী বানায়। কথাগুলো বলতে বলতে সাহির জানালা দিয়ে তাকাই তখনই তার নজর আটকে যায় রাস্তার অন্যদিকে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবতীর দিকে এক মায়াবী চেহারা যা সাহির চৌধুরীর হৃদয়ে তোলপাড় চালাতে সক্ষম ।
Stop........... সাথে সাথে গাড়ি থেমে গেল সাথে থেমে গেল আরো কয়েকটি বডিগার্ড দের গাড়ি ।গাড়িগুলো থামতেই কয়েকজন বডিগার্ড সাহিদের গাড়ির কাছে এসে জিজ্ঞেস করে
Any problem sir
কিন্তু সাহিরের নজর তো ছিল সেই মেয়েটির দিকে যে রাস্তার পাশে কম্পিউটারের দোকান দোকানে ফর্ম ফিলাপ এর কাজ করছে অতিরিক্ত গরমে তার মুখ লাল হয়ে গেছে। ঘামে চিকচিক করছে মেয়েটির মুখ তার মায়াবী চোখ যেন কোন ধারালো ছুড়ি যে কাউকে যখম করতে পারবে। তার গোলাপের পাপড়ির মত অধর তার উষ্টের ফাঁকে কাঁকড়া আর দুই হাত দিয়ে নিজের চুল গুলো খোপা করছে ।তার চোখে মুখে একটা বিরক্তির ছাপ যেন সূর্যিমামার উপর খুব রেগে আছে চুলগুলো পেচিয়ে সে একটু রেগে তার ক্লাসমেটকে বলে আরে
- তোর আর কতক্ষণ লাগবে বলতো
তখনই তার ক্লাসমেট একটা ছুরি নিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলে
-আয় তোর চুলগুলো কেটে দিই তাহলে আর গরম লাগবে না।
তখনই মেয়েটি কঠিন কন্ঠে বলে উঠলো আমার চুলে একটা টোকা দিয়ে দেখ তোর কি হাল করি আমি ।
-এমন করেছিস কেন ভয় করে তো ।
এখন তাড়াতাড়ি কাজ শেষ কর আমার আর সহ্য হচ্ছে না ।
মেয়েটি আর তার ক্লাসমেট নিলয় আরো কিছু ফ্রেন্ড তাদের সব কাজ শেষ করে কলেজ গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকছে ।আর তার পেছনে রেখে যাচ্ছে এক জোড়া অদ্ভুত দৃষ্টি যে দৃষ্টি তাকে অপলক ভাবে দেখে যাচ্ছে।
- don't worry mom. আমি তোমার জন্য বউ পেয়ে গেছি বলেই সে ফোনটা কেটে দিলো ।গাড়ি থেকে বের হতে হতে বলল:
- অনিক I need her all information as soon as
সাহির ভার্সিটির গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল ।তার নজর বেগুনি কুর্তি পরা মেয়েটির দিকে যে কলেজের প্রফেশনাল অফিসে এর মধ্যে প্রবেশ করে নিজের কাগজ জমা দিচ্ছি আর তাকে এক দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে সাহির চৌধুরী তার চোখে রয়েছে এক ধরনের গভীরতা যেন খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ।কাগজ জমা দিয়ে মেয়েটি ভার্সিটি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে আর তার পেছনে অপলোক দৃষ্টিতে হেঁটে যাচ্ছে সাহির যেন তার সব ধ্যান-ধারণা এক যুবতী সবাইকে বিদায় দিয়ে মেয়েটি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে উঠে পড়ল। তার পিছন পিছন সাহির ও উঠে পড়ল। যেন তার কোন ধ্যান নেই সে কি করছে সে শুধু একদৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে যেন হাজার বছরের বাসনা আজ পূরণ করছে ।বাসের ঠিক পাশের সিটে গিয়ে বসে পড়ল ।মেয়েটি জানলা দিয়ে বাইরে দেখেছিল যেন অন্য এক জগতে ডুবে আছে বাইরের জগতের কোন খোঁজ তার কাছে নেই ।এখন তার চোখে মুখে এক অদ্ভুত শূন্যতা অনেক কিছু না পাওয়ার বেদনা।
বাস চলতে শুরু করেছে এক দমকা হাওয়া এসে তার মুখে আচড়ে পড়ে তার চুল গুলো বেসামাল হয়ে পড়ে যেন এক ইচ্ছা পরীর ডানা যা এক শক্তপুক্ত বলিষ্ঠ পুরুষের মনে তোলপাড় চালাতে সক্ষম শাহির চোখ বন্ধ করে মেয়েটির চুলের ঘ্রাণ নিতে থাকে। তার ধ্যান ভাঙ্গে কন্টাকটারের কথাতে
-ভাই ভাড়া দেন
তার এতক্ষণ পর বুঝতে পারে সে কোথায় সেসব বুঝে ওঠার আগেই কন্টাকটার আবার বলে
-কি হইল টাকা বাইর করেন
সাহিল নিজের পকেটে হাত দেয় সে তার ফোন আর ওয়ালেট তো গাড়িতেই রেখে এসেছে কন্টাকটার আরেকবার বলে ওঠে
-আজব তো আমার আরও মেলা কাম আছে তাড়াতাড়ি করেন
এবার মেয়েটি পাশে তাকাই তার পাশে একটা সুদর্শন পুরুষ বসে আছে তার পরনে একটা Tommy Hilfiger এর সাদা শার্ট। হাতে Rolls-Royce এর ওয়াচ ,পায়ে Christian Louboutin জুতা সে মনে মনে ভাবতে থাকে এত luxury brand পরা ব্যক্তি বাসে কেন তার ভাবনার মধ্যেই কন্টাকটার বলে
- ওঠে কি সমস্যা তাড়াতাড়ি করেন
সাহিল কিছু বলতে যাবে তার আগেই তার পাশে বসা মেয়েটি টাকা দিয়ে জিজ্ঞেস করে কোথায় যাবেন সাহির এক দৃষ্টিতে দেখতে থাকে মেয়েটির পানে
-কি হলো কোথায় যাবেন
সাহির এর ধ্যান ভাঙ্গে এক মধুর কন্ঠে সে বলে
- আপনি যেখানে যাবেন সেখানেই
- পুঠিয়া দুইজন।
এ বলে কন্টাক্টর কি টাকা দেয় ।তারপর জিজ্ঞেস করে আপনি বাসে কেন ।আপনাকে দেখে তো মনে হয় না আপনি বাসে চড়া লোক ।সাহির কোনো কথা বলেনা না সে কোন কথা বলার অবস্থায় নেই ।তার মত একজন পুরুষ ও যে একটা মেয়েকে দেখে তার এমন অবস্থা হতে পারে তা সত্যি অবিশ্বাস্য। সাহির কোন কথা বলছে না দেখে মেয়েটি আর কথা বাড়ায় না সে আবার জালনার দিকে তাকিয়ে থাকে। এমন ভাবেই শেষ হয় তাদের পথ না আর কোন কথা হয়নি।
পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ডে দুজনেই নেমে পড়ে মেয়েটি একটি রিক্সা নিয়ে চলে যায় আর শাহী তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে। তখনই তার সামনে আসে বেশ কয়েকটি গাড়ি আর সে উঠে যায় গাড়িতে।
রাজশাহীর এক বিলাসবহুল হোটেলে রুমে বসে আছে সাহির চৌধুরী তার মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ঠোঁটে মুচকি হাসি যেন আজ কোন নতুন সাহির যাকে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি ।
অনিক ভয়েত মুখে রুমে প্রবেশ করে সাহিরের হাসি মুখ দেখে তার মুখ আরো চুপসে যায় ।সে ভয় ভয় কণ্ঠে বলেন
-ভাই
সাহির চোখ বন্ধ অবস্থাতেই বলে
- কাজ হয়েছে
অনেক শুকনো ঢোক গিলে বলে
জি ভাই
-বল
- ভাই মেয়েটার নাম অনন্যা শেখ। বাবার নাম রফিক শেখ ।তাদের বাড়ি এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবার। একমাত্র মেয়ে অনেক আদরের কিন্তু ভাই একটা সমস্যা আছে।
সাহির এবার চোখ খুলে ভুরু কুচকে তাকাই অনিক এর দিকে
- ভাই আসলে মেয়েটি বিবাহিত ।
সাহির নির্বাক হয়ে বসে আছে তার মুখে কোন রকমের কথা নেই তার চোখ ক্রমশ লাল হয়ে যাচ্ছে তার হাতের মুঠোয় ধরা গ্লাস টি ভেঙে গিয়ে পুরো হাত রক্তাক্ত হয়ে যায় ।
অনিক ভয় ভয় কণ্ঠে বলল
-ভাই একটু শান্ত হোন
- আআআআআআআ
একটা বিকট আওয়াজের সাহিরের সামনের টেবিলটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
- কেন কেন জীবনে একটা মেয়েকে ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু সে অন্য কারোর মালিকানায় বন্দী আমার সাথে কেন এমন হলো ।
গর্জন করতে করতে কথাগুলো বললো সাহির মুহূর্তের মধ্যেই পুরো রুম তছনছ হয়ে গেল ।
-অনিক গাড়ি বের কর আমি ঢাকা ব্যাক করব ।
অনিক আর কোন কথা না বাড়িয়ে বের হয়ে গেল কারন সে ভালোভাবে অবগত সাহির এর রাগের সাথে।
#চলবে
জীবনে প্রথমবার একটা গল্প লিখেছি কোন ভুল হলে মাফ করবেন