25/12/2025
পরিত্যক্ত ডাকবাক্স
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লাল ডাকবাক্সটা এখন আর কারও চোখে পড়ে না। একসময় প্রতিদিন সকালে স্কুলপড়ুয়া ছেলে, প্রেমিক-প্রেমিকা, দূরের শহরে থাকা সন্তানের মা—সবাই এসে চিঠি ফেলত ওর ভেতরে। ডাকবাক্সটা তখন গর্বে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত; মনে হতো, মানুষের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তার জীবনের কাজ।
কিন্তু সময় বদলাল। মোবাইল এল, ইন্টারনেট এল। চিঠির জায়গা নিল মেসেজ, ডাকবাক্সের পাশে বসে সেলফি ওঠে, কিন্তু কেউ আর ঢাকনা তোলে না। ধীরে ধীরে ওর রঙ ফ্যাকাসে হলো, তালায় মরিচা ধরল। বৃষ্টির পানি জমে ভেতরে, কেউ আর পরিষ্কার করল না।
একদিন এক বৃদ্ধ এলেন। হাতে ধরা পুরোনো কাগজ—হাতের লেখা চিঠি। তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন ডাকবাক্সের সামনে। ঢাকনা খুলতে গিয়েই থামলেন। ভেতরে জমে থাকা ধুলো, মাকড়সার জাল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। চিঠিটা পকেটে ঢুকিয়ে নিলেন। হয়তো ভাবলেন—এই বাক্স আর কথা বহন করে না।
রাতে নির্জনে দাঁড়িয়ে থাকা ডাকবাক্সটা যেন কাঁদল। অবহেলায় নয়, ভুলে যাওয়ায়। কারণ ভাঙা হলে ঠিক করা যায়, কিন্তু ভুলে গেলে নয়। শহরের আলোয় সে আজও দাঁড়িয়ে আছে—মনে করিয়ে দেয়, মানুষের সম্পর্ক শুধু প্রযুক্তিতে নয়, যত্নেও টিকে থাকে।
ডাকবাক্সটা পরিত্যক্ত হয়নি; আমরা তাকে পরিত্যাগ করেছি।
কতোই না সুন্দর ছিলো ওই সময়টা!