11/06/2026
ফেনীতে পিতার আছাড়ে পুত্রের মৃত্যু,
একটি ছোট্ট জীবনের করুণ আর্তনাদ ও আমাদের বিবেক
মাত্র দুই মাস বয়স জুনায়েদের। পৃথিবীর আলো দেখার পরের সময় তার হওয়ার কথা ছিল আদর স্নেহের আর পরম মমতার। কিন্তু সেই শিশুটি কি জানতো যে হাতগুলো তাকে আগলে রাখার কথা ছিলো সেই হাতগুলোই হবে তার মৃত্যুর কারণ?
ফেনীর ফুলগাজীতে রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। কান্নারত শিশুটিকে শান্ত করার পরিবর্তে, পাষণ্ড পিতা তাকে আছাড় মেরে হত্যা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘাতক পিতা নিয়মিত মাদক সেবন করতো। মাদকের নেশা আর বিকৃত মস্তিষ্কের তাড়নায় আজ এক মায়ের কোল খালি হয়ে গেল।
মা আর্তনাদ করে বলছেন, স্বামী আগে থেকেই আমার সন্তানকে মারধর করতো, আজ মেরেই ফেললো।
মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবারকে তছনছ করে দেয়। নেশার ঘোরে মানুষ তার আপন সন্তানকেও চিনতে পারে না। যেখানে বাৎসল্য প্রেম থাকার কথা, সেখানে জায়গা করে নেয় নিষ্ঠুরতা।
একটি শিশু যেন তার নিজের ঘরেই সবচেয়ে নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। যেকোনো অস্বাভাবিক আচরণকে আগে থেকেই গুরুত্ব দিন। জুনায়েদের মতো আর কোনো শিশুকে যেন তার বাবার হাতে এমন নৃশংস মৃত্যু বরণ করতে না হয়।
আজ জুনায়েদ নেই, কিন্তু তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের পরিবারগুলোকে বাঁচাতে হলে এখনই আওয়াজ তুলতে হবে।
প্রশাসন ও সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে অনুরোধ, ঘাতক পিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আর কোনো মা যেন সন্তানের শোকে এমন করে চিৎকার না করে।
জানা গেছে, সুলতানের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ডাকঘর এলাকায় এবং রুনা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার বাহাড়তলা এলাকায়। কয়েক বছর আগে তারা ফেনীর ফুলগাজীতে এসে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। পিতা সুলতান বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
মাদককে না বলুন, পরিবারকে ভালোবাসুন।
ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে ফিরে। আজ শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৬