Mehedi hasan Riyad

Mehedi hasan Riyad আমরা তো শাহাদাতের জন্যই মায়ের উদর হতে পৃথিবীতে পা রেখেছি....🕊️

~ ওসমান হাদি 🥀🖤

খামেনি'রা মরে না। তারা যুগ যুগ ধরে থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। তাদের নাম হারিয়ে যায় না, শতাব্দীর পর শতাব্দী সম্মানের সহিত উচ...
01/03/2026

খামেনি'রা মরে না। তারা যুগ যুগ ধরে থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। তাদের নাম হারিয়ে যায় না, শতাব্দীর পর শতাব্দী সম্মানের সহিত উচ্চারিত হয়। আমরাও আপনাকে ভুলব না, হে মহাবীর। শত কাপুরুষদের মাঝে আপনি বীর হিসেবেই বিদায় নিয়েছেন। শুধু ইরান নয়, ফিলিস্তিনের ইতিহাসেও আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।💔

28/02/2026

#ছদ্মবেশ_৩

গত ৩-৪ দিন ধরে ট্রাই করেও একটা পর্ব লিখে শেষ করতে পারিনি। প্রিয় গল্পটা থেকে এভাবে মন ছুটে যাবে, কখনো কল্পনাও করিনি।😔💔

28/02/2026

এবারের হা'ম'লা'য় ইরানকে সমর্থন করার কথা ছিল আফগান যোদ্ধাদের। অর্থাৎ, এবার ই'স'রা'য়ে'ল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খোরাসানের ২ দেশ একত্রিত হতে যাচ্ছিল। কিন্তু এর দু'দিন আগেই আফগান ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ লাগিয়ে তাদেরকে একপাশে করে দিয়ে এখন ইরানকে এককভাবে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্র ই'সরা'য়ে'ল যেমন বিশ্বের ক্যান্সার, তেমন নিজেদের মাঝে ঝামেলা নিয়ে শত্রু হয়ে থাকাটাই মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় দূর্বলতা।

20/02/2026

#ছদ্মবেশ_৩ (পর্ব ২১)
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

"আমার চাচাদের বলে দিন, আমার বাবার অর্থ-সম্পদ কিছুই আর আমার প্রয়োজন নেই। সব তাদেরকে নিয়ে যেতে বলুন। আমি তাদের থেকে অনেক দূরে চলে যাবো। তবুও আমাকে মুক্তি দিতে বলুন দয়া করে। আমার এখানে ভালো লাগে না। আমাকে বিশ্বাস করুন প্লিজ, আমি সত্যিই পাগল নই।"

​কথাটা কান অবধি পৌঁছাতেই থমকে দাঁড়ালো আকাশ। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো মেঘলা নামের মেয়েটার দিকে। তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চাইলেও ছোটার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে। মাস্কটা ঠিক করে মাথায় ক্যাপ পরে নিল আকাশ। অতঃপর পা বাড়ালো সেদিকে। খানিকটা সময় নীরবে তাকিয়ে রইল নীলয়। অতঃপর পা বাড়ালো সেও।

​নিজেকে ছাড়াতেই মেঝেতে আছড়ে পড়লো মেঘলা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল সে। তার খুব কাছেই থমকে দাঁড়ালো আকাশ। এক নজর মেঘলার দিকে চেয়ে ডাক্তারদের দিকে তাকালো সে। মেঘলাও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো তার দিকে। চোখেমুখে তীব্র ভয় ও অস্থিরতা বিরাজমান তার। আকাশ ডাক্তারদের দিকে চেয়ে স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"আপনাদের মনে হচ্ছে না, এটা রীতিমতো টর্চারের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে? আর মেয়েটাকেও তো দেখে খুব একটা পাগল বলে মনে হচ্ছে না।"

​পরপর নিশ্বাসে মেঘলা তাকিয়ে রইল আকাশের দিকে। যেন এতকিছুর মাঝেও একটু আশার আলো খুঁজে পেয়েছে সে। যেখানে সবাই তার বিপক্ষে, সেখানে কেউ একজন তার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। এর মাঝেই মুখ খুললেন একজন ডাক্তার। স্বাভাবিক স্বরে বললেন,
"দেখুন এখানে বেশিরভাগ রোগীই একটা কথাই বলে থাকে, আমি পাগল নই। কিন্তু রোগী কি বলছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার মেডিকেল রিপোর্ট কি বলে।"

"আপনারা কি আমাকে সেই রিপোর্ট দেখাতে পারবেন?"
প্রশ্ন ছুড়লো আকাশ। খানিকটা নীরব হয়ে তার দিকে তাকালো ডাক্তার। অতঃপর স্বাভাবিক স্বরে বলল,
"আপনি কি তার গার্ডিয়ান অথবা রিলেটিভ কেউ?"
"জ্বি, না।"

​এই একটা কথাতেই থেমে গেলো সব। কারণ, এটা ঝামেলা করার জায়গা না। এখানে আরো রোগী আছে, যা করার ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। কাজেই আর কিছু বলার আগেই পাশ থেকে আকাশের এক হাত চেপে ধরলো নীলয়। মেঘলাকে নিয়ে যাচ্ছে ভেতরে। হাঁটতে হাঁটতে ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল মেঘলা। কিন্তু ভেতরে নিয়ে যেতেই চোখের আড়াল হয়ে গেলো সব। শেষ আশাটাও যেন নিভে গেলো। আকাশও একইভাবে তাকিয়ে থেকে বলে,
"চিন্তা করো না মেয়ে, আমি তোমায় একা ছাড়বো না।"
,
,
শেষ বিকেল। নিউজিল্যান্ড পৌঁছেই তার দেওয়া ক্লান্তির ঘুম এখনো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে রেখেছে আরোহীকে। যেন সাদা বিছানার চাদরে পড়ে আছে একটা পরী। এলোমেলো চুল মুখে এসে পড়েছে। রাজের চোখ আটকালো তাতে। মৃদু হেসে বসলো তার পাশে। আজ খুব বেশিই মুগ্ধ হয়ে দেখছে আরোহীকে। যেন আজ পৃথিবীর সব মায়া এই একটা জায়গাতে এসেই ভিড় জমিয়েছে।

​হাত বাড়িয়ে মুখের উপর ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিল রাজ। এবার চোখের পাতা হালকা নড়েচড়ে উঠলো আরোহীর। কয়েকবার পলক ফেলে রাজের দিকে তাকালো সে। রাজকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মৃদু হাসলো। রাজ স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"উঠে পড়ো, সন্ধ্যা নেমে এসেছে।"

খানিকটা চমকালো আরোহী। এদিক-ওদিক দৃষ্টি ছুটিয়ে ফের তাকালো রাজের দিকে। অতঃপর বলে,
"সন্ধ্যা হয়ে গেছে! ডেকে দেননি কেন?"
"তুমি ক্লান্ত ছিলে, তাই। মাথা ব্যথা কমেছে?"
"হুম।"
"ওকে, এবার ফ্রেশ হয়ে নাও। সন্ধ্যার পর বেরোবো আমরা।"
"কোথায় যাবো?"
"আজ আপাতত কোথাও না। প্ল্যান আগামীকাল থেকে। আজ এমনি দু'জন একসাথে আশপাশটা ঘুরে আসবো, এটুকুই। কেন, তোমার কি এখনো ক্লান্তি লাগছে?"
"উঁহু।"
"ওকে, তাহলে ফ্রেশ হয়ে নাও। মাগরিবের নামাজ পড়েই বের হবো। নাস্তা বাইরে গিয়েই করবো।"
,
,
সন্ধ্যা পেরিয়ে এলো। হসপিটালের বাইরে দাঁড়িয়ে রইল আকাশ ও নীলয়। যেখানে মেঘলার পরিবারই তার প্রধান শত্রু, সেখানে বিষয়টা কৌশলের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। কাজেই আগে মেয়েটার পরিবার সম্পর্কে জানাটা জরুরি। কিন্তু মেয়েটার ঠিকানা কোথায়? ভেবেই একটা শ্বাস ছাড়লো আকাশ। পাশেই নীলয় দাঁড়িয়ে রইল বুকে হাত গুঁজে।

​এর মাঝেই একজন নার্স এসে দাঁড়ালো তাদের সামনে। হাতে একটা কাগজ তার। আশপাশে তাকালো মেয়েটা। অতঃপর আকাশের হাতে সেই কাগজটা তুলে দিয়ে বলে,
"এখানে মেয়েটার পরিবার ও বাসার ঠিকানা লিখা আছে। বাকিটা আপনারা সামলে নিন। এই তথ্য ও আমার বিষয়ে যেন কেউ কিছু না জানে।"

মেয়েটার হাতে হাজার দশেক টাকা তুলে দিল আকাশ। অতঃপর শান্ত স্বরে বলে,
"আপনিও মুখ বন্ধ রাখবেন। আমরা তার বিষয়টায় হাত দিয়েছি, এটা যেন কেউ না জানে।"
মেয়েটা টাকা হাতে তুলে নিয়ে আশপাশে চেয়ে বলে,
"চিন্তা করবেন না, এটা গোপন থাকবে। মেয়েটাকে বাঁচান, নয়তো তার জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাবে।"
,
,
রাত হয়ে এলো। রাজ ও আরোহীর সাথে ভিডিও কলে ব্যস্ত ছিলেন ফরিদা আন্টি। হাঁটতে হাঁটতে নীলাকে রাখা কক্ষে পৌঁছাতেই ফোন রাখলেন তিনি। নিবিড় ও তুষার বাইরে গিয়েছিল কিছুক্ষণ আগে। এখনো ফেরার নাম নেই। ফারিহা এখনো আছে এখানে। তৃষা সকালেই নিজের বাসায় ফিরে গেছে। আরোহীও নেই। কাজেই নীলার সাথে সময়টা কাটাচ্ছে ফারিহা। তার উপর নিজের ভাইয়ের পছন্দের মেয়ে। ভবিষ্যতে হয়তো ভাবিও হবে তার।

​ফরিদা আন্টিকে দেখে খাটের মাঝে গিয়ে বসলো ফারিহা। ফরিদা আন্টিকে জায়গা করে দিল বসার জন্য। অতঃপর তার দিকে চেয়ে বলে,
"মা আসবে আগামীকাল। নীলা আপুর কথা বলেছি তাকে।"
ফরিদা আন্টি স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"ভালো করেছো। নিবিড়ের উচিৎ ছিল তাকে আমার আগে জানানো।"
"ভাইয়া আপনার সামনেও কতটা নার্ভাস ছিল, বুঝেনই তো।"
"হুম, তা বুঝতে পেরেছি আমি।"

​বলেই নীলার পাশে বসলেন ফরিদা আন্টি। মাথা নিচু করে নেয় নীলা। তা লক্ষ করে ফরিদা আন্টি স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"আমাদের মাঝে কৌতূহল জমা থাকলেও তোমাকে জোর করবো না আমরা। যদি তোমার কখনো মনে হয়, আমাদেরকে সত্যটা জানানো প্রয়োজন, তখন জানাবে। আজ অনেকদিন পর নিবিড়কে প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে। আপাতত তার এই হাসিখুশি মুহূর্তটাই সবকিছুর উর্ধ্বে থাকুক।"
এর মাঝেই নিচ থেকে ভেসে এলো তুষারের কণ্ঠস্বর। ফরিদা আন্টি তা কর্ণপাত করে বলে,
"ছেলেরা এসে গেছে। তোমরা ডিনারের প্রস্তুতি নাও।"

​বলেই উঠে গেলেন তিনি। পা বাড়ালেন নিচের যাওয়ার উদ্দেশ্যে। নিচে তুষারের পাশে দাঁড়িয়ে রইল নিবিড়। স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছিস কেন? একজনকে পাঠালেই তো আন্টিকে ডেকে দেয় নাকি।"
তুষার কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফরিদা আন্টিকে দেখে থেমে গেলো সে। অতঃপর প্রসঙ্গ পাল্টে নিবিড়কে বলে,
"আন্টি দেখি নীলার সাথেই ছিলো। কিছু জানতে পেরেছে কি না কে জানে।"
নিবিড় তার দিকে চেয়ে বলে,
"আন্টি তো তোর মতো বলদ, যে মরার উপর ঘা বসাবে।"
তুষার খানিকটা ধৈর্য হারা হয়ে বলে,
"তবে যাই হোক, আমাকে এটা জানতে হবে। আমার কৌতূহল ধরে রাখতে পারছি না।"
,
,
ডিনার টেবিলে সবার আগে এসে বসলে তুষার। সামনে সাজানো খাবারগুলো একে একে চেক করছে সে। এর মাঝে সেখানে উপস্থিত হলো ফারিহা। তুষার তার দিকে চেয়ে হালকা থমকালো। খানিকটা নীরব থেকে বলে,
"প্লিজ, আজ অন্তত বাঁশ দিও না।"

হালকা হাসলো ফারিহা। অতঃপর তুষারের পাশে বসে বলে,
"না, আজ দিব না। আজ বরং আপনি 'না না' করলেও আমি খাবার দিতে থাকবো, কোনো চিন্তা করবেন না।"
​খানিকটা ভ্রূ কুঁচকালো তুষার। ফারিহার দিকে দৃষ্টি স্থির করে বলে,
"কাহিনী কী?"
ফারিহা তার দিকে চেয়ে বলে,
"কাহিনী কি থাকবে আবার?"
"এটা এক্সট্রা খাতির হয়ে যাচ্ছে না? আর ইদানীং আমার পেছনে এভাবে লেগে আছো কেন? নাকি.....?"
এবার ভ্রূ কুঁচকালো ফারিহাও। তা ধরে রেখে বলে,
"কী?"
তুষার সঙ্কোচ করলো না। স্বাভাবিক স্বরেই বলে বসলো,
"নাকি তুমিও আমার প্রেমে পড়েছো?"

​চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো ফারিহা। তুষার তাকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ না দিয়ে বলে,
"তুমিও আমার প্রেমে পড়লে বলে দিও। বিয়েটা তাড়াতাড়ি করে ফেলি। কারণ, হায়াত কতটুকু পাই, তার কোনো ঠিক নেই। যত তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে নিব, তত বেশিদিন বউয়ের সাথে ঘুমাতে পারবো।"
ফারিহা এবার খানিকটা বেকুব বনে গিয়ে বলে,
"আস্তাগফিরুল্লাহ্ তওবা তওবা, বেডার মাইন্ড কত খারাপ।"
তুষার তা পাত্তা না দিয়ে বলে,
"তুমি যা খুশি ভাবতে পারো। বিয়ে করবো, বউকে ছবির মতো দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখার জন্য না। তাছাড়া বউ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন আছে, এটা অপরাধের কিছু না। তোমার বরং আলহামদুলিল্লাহ্ বলা উচিৎ, আমাকে বিয়ে করলে একটা বউ পাগল জামাই পাবে।"

​এ মুহুর্তে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিৎ তা ভেবেই খানিকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো ফারিহার। পটপট করা মুখটায় যেন একদম কস্টেপ মেরে দিয়েছে তুষার। এর মাঝে তুষার ফের বলে,
"শুনো, প্রেম টেম করে টাইম পাস করে পাপ কামাতে চাই না। রাজি হলে বলে দিও ডিরেক্ট বিয়ে করে নিব, তারপর টোনাটুনির বিন্দাস সংসার।"

​খানিকটা সময় নিল ফারিহা। পরপর কয়েকবার পলক ঝাপটে যেন ঘোর থেকে বেড়িয়ে এল সে। অতঃপর কিছু বলতে যাবে তার আগেই কারো আগমনের শব্দ শুনে থেমে গেলো সে। সবাই আসছে খাওয়ার উদ্দেশ্যে। কাজেই তাকে থমকে দেখে তুষার ফিসফিসিয়ে ফের বলে,
"আমি তোমার সম্মতির অপেক্ষায় থাকবো চতুর মেয়ে।"
,
,
পরদিন সকাল ৭ টা। নাস্তার টেবিলে বসে আছে মেঘলার ২ চাচা। সামলে রাখা আছে মেঘলার বাবার সম্পত্তির সেই কাগজপত্রগুলো। সেগুলো নিয়েই আলোচনা চলছে তাদের মাঝে। সব রেডি করে রেখেছে তারা। কেবল মেঘলা সাইন করে দিলেই সব সমস্যা মিটে যায়। যদিও শুরুতে আপসে করতে চেয়েছিল সব। কিন্তু মেঘলা বিষয়টা বুঝে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। কাজেই বিষয়টা এই অবধি গড়ালো।

​চায়ের কাপে চুমুক দিল মেঘলার ছোট চাচা। খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বলে,
"কত ভাবেই তো চেষ্টা করলাম। শেষে মারধর করেও লাভ হলো না। আমার ভাই তার সবকিছু মেয়েটার নামে করে না দিয়ে গেলে কবেই এ ঝামেলা মিটে যেত।"
মেঘলার বড়ো চাচা কাপটা সামনে রেখে বলে,
"চিন্তা করিস না। এমন জায়গায় পাঠিয়েছি, কিছুদিন পর এসে বাপ বাপ বলে সাইন করবে। তবে যা করার সবকিছু জানাজানি হওয়ার আগেই করতে হবে।"
ছোট চাচা ফের বলে,
"ভাগ্যিস ভাইয়ের মৃত্যুর আগে মেঘলার বিয়ে হয়ে গেলে, অথবা ওর কোনো হাজব্যান্ড থাকলে বিষয়টা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যেত। যা হয় ভালোর জন্যই হয়।"

​এতটুকু বলতেই কলিং বেলের শব্দ ভেসে এলো তাদের কানে। দুজন একসাথে তাকালো দরজার দিকে। মেঘলার ছোট চাচা উঠে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো। অতঃপর খুলতেই দেখে বাইরে মাস্ক পরা দু'জন ছেলে দাঁড়িয়ে। তাদের দেখে তিনি খানিকটা ভ্রূ কুঁচকে বলে,
"কারা তোমরা? কার কাছে এসেছো?"
আকাশ খানিকটা হাসি রেখে বলে,
"আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল। এটা মুহিব আঙ্কেলের বাসা না? যিনি কিছুদিন আগে মারা গিয়েছিলেন।"
"ওয়া-আলাইকুম সালাম। হ্যাঁ, কিন্তু তোমাদের পরিচয়?"
এবার নীলয় স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"আঙ্কেল, আমি নীলয় আর সে আকাশ। আমরা মেঘলার কলেজ ফ্রেন্ড। কলেজ লাইফ শেষে অনেকদিন দেখা হয়নি আমাদের। তাই ওর সাথে একটু দেখা করতে এসেছি। তাকে ফোনে পাচ্ছিলাম না দেখে ভাবলাম সরাসরি বাসায় এসেই বরং একটা সারপ্রাইজ দেই।"

​To be continued............

টাইমলাইনে রেখে দিলাম-১৬/০২/২০২৬ ইং তারিখে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ।রিজার্ভ - ৩৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার সংবাদ মা...
16/02/2026

টাইমলাইনে রেখে দিলাম-
১৬/০২/২০২৬ ইং তারিখে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের রেখে যাওয়া বাংলাদেশ।

রিজার্ভ - ৩৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা -১৪৯ তম
মানব উন্নয়ন সূচকে - ১২৯ তম
গনতান্ত্রিক সূচকে অবস্থান- ৭৫ তম
বৈশ্বিক অর্থনীতির সূচকে- ৩৬ তম
অর্থনীতির আকার - (৪৫০-৪৫৫) বিলিয়ন ডলার।
মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ - ৭৮ হাজার টাকা।

🗣️ একবছর পর পর আপডেট দেখে কম্পেয়ার করলে বোঝা যাবে, দেশ আসলে কোনদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রেখে দিলাম প্রোফাইলে। শুভকামনা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ...... 🖤
©

এই মানুষগুলো যখন হেরেছিল, তখনই বোঝা হয়ে গেছে এ জাতির রুচি ও চিন্তাধারা কতটা উন্নত।💔
13/02/2026

এই মানুষগুলো যখন হেরেছিল, তখনই বোঝা হয়ে গেছে এ জাতির রুচি ও চিন্তাধারা কতটা উন্নত।💔

যে ছেলেটার বাবা রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো বলে তার বংশ মর্যাদা নিয়ে একটি দল তাকে অপমান করেছিল, আজ সেই হাসনাত আব্দুল্লাহ্'ই এম...
12/02/2026

যে ছেলেটার বাবা রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো বলে তার বংশ মর্যাদা নিয়ে একটি দল তাকে অপমান করেছিল, আজ সেই হাসনাত আব্দুল্লাহ্'ই এমপি.....✌️❤️‍🔥

12/02/2026

আজ এ অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা কেবল জামায়াত ও এনসিপির সাথে না, সমগ্র দেশবাসীর সাথে করা হচ্ছে।💔

বিস্তারিত কমেন্টে......

দেশ ও জাতির ভাগ্য নির্ধারণের আর মাত্র ১ দিন বাকি। পাঠক/পাঠিকার পাশাপাশি একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আপনি নতুন বাংলাদেশ ...
10/02/2026

দেশ ও জাতির ভাগ্য নির্ধারণের আর মাত্র ১ দিন বাকি। পাঠক/পাঠিকার পাশাপাশি একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আপনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে কোন জোটকে সমর্থন করছেন? ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কোন জোটের উপর আস্থা রাখতে চাইছেন? রিয়েক্টের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

BNP 🌾
Jamaat e Islami ⚖️

07/02/2026

#ছদ্মবেশ_৩ (পর্ব ২০)
#মেহেদী_হাসান_রিয়াদ

নিবিড় ও নীলার দিকে তাকিয়ে আছেন ফরিদা আন্টি। থমথমে পরিস্থিতিতে খানিকটা সময় অতিবাহিত হলে ফরিদা আন্টি গম্ভীর স্বরে বলে,
"এই ছিল তোর গুরুত্বপূর্ণ কাজ?"
বলেই খানিকটা থামলেন তিনি। অতঃপর ফের বলে,
"কিভাবে হলো এটা?"
নিবিড় এবার খানিকটা ইতস্তত বোধ করে বলে,
"আমি নিজেও বুঝতে পারিনি আন্টি। তবে তুষারকে ধন্যবাদ, এ ক্ষেত্রে আমাকে হেল্প করার জন্য।"
​"এই মেয়ে, সামনে আসো।"

নিবিড়ের কথা উপেক্ষা করে নীলাকে বলল ফরিদা আন্টি। ধীর পায়ে সামনে আসলো নীলা। ফরিদা আন্টি ফের গম্ভীর স্বরে বলে,
"আমাকে চেনো তুমি?"
বিব্রত হলো নীলা। আন্টি এটা কেমন প্রশ্ন ছুড়লেন? তবে কিছু বলার আগেই আন্টি ফের বলে,
"অবশ্য মনে রাখলে তো চিনতে।"
"সরি আন্টি।"

নীলার দৃষ্টি হালকা নত হলো। ফরিদা আন্টি ফের বলল,
"এই ছোট একটা শব্দ বলে তুমি এতদিনের সকল দুঃখ, কষ্ট কি মুছে ফেলতে পারবে?"
​এক পা এগিয়ে ফরিদা আন্টির পাশে দাঁড়ালো আরোহী। খানিকটা স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"দুঃখ প্রকাশের পেছনে একটা ভুল থাকে আন্টি। আর তার পেছনে থাকে অবশ্যই কোনো কারণ। আমরা তা অবশ্যই জানতে পারবো আন্টি। এখন ওদের জন্য এটা আনন্দের একটা মুহূর্ত। আপনি এভাবে রাগ পুষে রাখলে কারোরই ভালো লাগবে না আন্টি।"

এতটুকু বলতেই আরোহীর দিকে তাকালো ফরিদা আন্টি। হালকা থামলেও আরোহী ফের বলে,
"প্লিজ আন্টি।"
​আরোহীর কথার মানে বুঝলেন ফরিদা আন্টি। তবুও সেকেন্ড দুয়েক নীরব থেকে বলে,
"তোমরা আমাকে বোঝাতে আসবে না, আমি অবুঝ নই।"
বলেই নিবিড়ের দিকে চেয়ে বলে,
"এখন যদি বলি আমি এটা কখনোই গ্রহণ করবো না, আর তোকে তোর সবকিছু নিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। এটা পারবি?"

​ফরিদা আন্টির কথাটার উদ্দেশ্য ছিল মূলত নিবিড় কাকে বেছে নেয় তা যাচাই করা। কারণ নিবিড়ের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়ি খুব কাছেই। সে চাইলেই এটা করতে পারে। অবশ্য করবেও একদিন। কারণ নিজস্ব পরিবার হলে সবাই তো আর একসাথে থাকবে না। তবুও এ মুহূর্তে নিবিড়ের প্রতিক্রিয়া কি হয় তা বুঝতে নীরবে তাকিয়ে রইলেন ফরিদা আন্টি। নিবিড় এবার স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"হ্যাঁ, পারবো। তবে আপনাকেও আমার সাথে চলে যেতে হবে।"
"আমি কেন!"
নিবিড় ফের বলে,
"আপনিই তো বলেছেন, আমার সবকিছু নিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। এখানে সবাই আমার লাইফে আসার আগে আপনিই তো আমার সবকিছু ছিলেন। আর এখনো আছেন, আমার মায়ের জায়গা টা আঁকড়ে ধরে।"

​এবার হঠাৎ মৃদু হাসতে চেয়েও তা লুকালেন ফরিদা আন্টি। যা বুঝতে পেরে পাশ থেকে মৃদু হাসলো রাজ। কারণ, এবার ফরিদা আন্টির হাবভাব মোটামুটি নিশ্চিত। একটা হালকা শ্বাস ছাড়লো রুশানও। কারণ, পরিস্থিতি যেমন ভেবেছিল সে, তেমনটাও না। সব সমস্যার সমাধান সুন্দর ও ঠান্ডা মাথায়ই হোক। এবার মৃদু হেসে হাত বাড়ালেন ফরিদা আন্টি। নিবিড় ও নীলার উপর থেকে যেন পাথর সরে গেলো মুহূর্তেই। স্বস্তিতে দুজনই এক পলক চোখ বুঁজে এগিয়ে এলো ফরিদা আন্টির দিকে। দু'জনকেই দুই হাতে আগলে নিলেন ফরিদা আন্টি। থমথমে পরিস্থিতি যেন মুহূর্তেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠলো। ফরিদা আন্টি মৃদু হেসে নীলাকে বলে,
"ভেবো না ছেড়ে দিয়েছি। তোমাকে অবশ্যই কারণটা বলতে হবে।"
,
,
রাত তখন ৯ টা। খাবার সাজানো লম্বা টেবিলটার প্রধান চেয়ারে বসলো রাজ। যার এক পাশে ফরিদা আন্টি, অন্য পাশে আরোহী। আরোহীর পাশে সারিবদ্ধভাবে মেয়েরা বসা। আর ফরিদা আন্টির পাশে ছেলেরা। আকাশ বসলো নীলয়ের পাশে। তার জন্য এটাই প্রথমবার। কাজেই কেমন যেন অস্বস্তিও লাগছে খানিকটা। অতীতের কথা ভাবলে মাঝে মাঝে নিজের আত্মাই নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমি কে? কোথায় ছিলাম? আর কোথায় আছি?

​ভাবতেই নীরবে খাচ্ছে সে। সবাই নিজেদের মতো নিয়ে খেলেও তার মাঝে তেমন কিছু লক্ষ করা যাচ্ছে না। নীলয় নিয়ে দিচ্ছে মাঝে মাঝে। তা লক্ষ করলো আরোহী। 'ভাইয়াকে মাংস দাও' সাথীকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলতে যাবে তখনই রাজ বলে উঠে,
"আকাশকে মাংস দাও।"

​খানিকটা থমকালো আরোহী। অবাক হলো খানিকটা। কারণ, রাজ যেন তার মুখের কথাটাই কেড়ে নিয়েছে। পুরোপুরি মিলে গেলো কিভাবে? ভাবতেই রাজ আকাশের দিকে চেয়ে ফের বলে,
"লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এখানে যারা একসাথে আছি, আমরা সবাই-ই একটা পরিবার। তোমাকে এ পরিবারের সাথে মিশতে হলে তোমার নিজেকেও এ পরিবারের একজন সদস্য ভাবতে হবে।"

​বলেই মৃদু হাসলো রাজ। সবাই রাজকে সমর্থন করলো, রুশান ব্যতীত। নীরবে খাচ্ছে সে। আকাশকে উদ্দেশ্য করে রাজ ফের বলে,
"যেমন এখান থেকেই তোমাকে একটা উদাহরণ দিচ্ছি, তুষারের দিকে তাকাও। লজ্জার ক্ষেত্রে খাওয়ার সময় তুষার ভুলেই যায় তার পাশে কেউ আছে কি না।"

একসাথে হাসলো সবাই। খাবার মুখে নিতে গিয়েও থেমে গেলো তুষার। রাজের দিকে চেয়ে বলে,
"প্রশংসা করলে নাকি অপমান করলে?"
"প্রশংসাই করছি, যেন আকাশ বুঝতে পারে আমাদের ভ্রাতৃত্ব কেমন।"
"তাহলে ঠিক আছে।"

​বলেই মাংসের বাটির দিকে তাকালো তুষার। এমন মুহূর্তেই ফারিহা রাজের দিকে চেয়ে বলে,
"ভাইয়া, তিনি একটু পেটুক হলেও খুব বেশি খাদক নয়। যেমন সে ইতিমধ্যেই দুইবার মাংস নিয়ে ফেলেছে, এখন আপনি তাকে আর জোর করে মাংস দিলেও সে নিবে না।"

​মাংসের বাটির দিকে হাত বাড়াতে প্রস্তুত হলেও ফারিহার কথায় থেমে গেলো তুষার। এর মাঝে ফারিহা ফের বলে,
"বিশ্বাস না হলে, তাকে জোর করে দেখুন তো আর এক টুকরা খাওয়াতে পারেন কি-না। আপনারা আসলে তাকে যতটা খাদক মনে করেন, সে ততটাও খাদক নয়।"

​বলেই খাওয়ায় মন দিল ফারিহা। সবার চোখ তখন তুষারের দিকে। পাশ থেকে নিবিড় চামচ ধরে তুষারকে মাংস দিতে চাইলেও তুষার বাঁধা দিয়ে বলে,
"না না ভাই, আর নিব না। পেট ভরে গেছে।"
নিবিড় তাও জোর করে বলে,
"আরে একটু নে।"
"না ভাই, আর ইচ্ছে করছে না।"
বলেই মনে মনে বলে উঠে,
"তোর বোন তো আগেই ইচ্ছার বিষ মারি দিছে।"

​বলেই ফারিহার দিকে তাকালো তুষার। ফারিহা আর একবারও তাকাচ্ছে না তার দিকে। নীরবে খাচ্ছে সে। এদিকে রাগটা কেবল বেড়েই চলছে তুষারের। এবার মনে মনে ফের বলে উঠে,
"মানে,,,,,,,, আমি এখন ভাবছি এ মুহূর্তে তোমাকে গালিটা ঠিক কোন ভাষায় দেওয়া উচিত?"
,
,
রাত তখন ১১টা। দোতলার খোলা বারান্দাটায় বসে আছে রাজ, নীলয় ও আকাশ।রাতের নিস্তব্ধতাকে আপন করে নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত তারা৷ বিষয়বস্তু বারিশ ও বিহান। তাদেরকে কতটুকু বিভ্রান্ত করতে সফল হয়েছে আকাশ। যখন সে তাদের বলেছিল,
"তোমরা কোন তথ্যের উপর আস্থা রাখবে আমি জানি না। তবে সত্যটা হলো, রাজ মালদ্বীপ যাচ্ছে না। তারা যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। রাজ আগেই সব প্রস্তুত করে রেখেছিল। কদিন আগে তার মালদ্বীপের ট্যুর কনফার্ম করাটা ছিল তার একটি চাল মাত্র।"

​এ মুহূর্তে আকাশের দিকে নীরব দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আছে রাজ। সে নিজেই আকাশকে পাঠিয়েছিল এমন তথ্য নিয়ে। যদিও তথ্যটা সত্য। তবে এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল বেশ কয়েকটা৷ তার মাঝে একটা হলো, বারিশকে বিভ্রান্ত করা, আরেকটা হলো আকাশের প্রতি তাদের বিশ্বাসকে শক্ত করা। গতকাল রাতে দু'হাত ট্রাউজারের পকেটে গুঁজে আকাশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল রাজ। আকাশের কৌতুহলের বিপরীতে রাজ শান্ত স্বরে বলেছিল,
"বারিশ নিজেকে যতই সাধু হিসেবে উপস্থাপন করুক না কেন, আমার উপর তার অবশ্যই নজর থাকবে। আর তোমার উপরও বারিশ এত সহজে বিশ্বাস রাখবে না। কাজেই তার নজরদারিকে ব্যবহার করেই আমাদেরকে এ বিষয়ে চাল চালতে হবে। বারিশ মনে করে সে আমাদের চেয়ে এক পা আগে চলে। কিন্তু বাস্তবতার মৃদু হাওয়া গায়ে লাগলে অবশ্যই সে নিজেই তোমাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে। সে ভাবতে শুরু করবে, আমার বিরুদ্ধে তোমাকে তার প্রয়োজন।"

​অতঃপর আকাশ আজ বিকেলে তালুকদার বাড়িতে গিয়েছিল। এ মুহূর্তে রাজ ও নীলয়ের দিকে চেয়ে স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"চিন্তা করো না। বারিশের মনে এখন বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। তোমাদের গন্তব্য থেকেই সে উত্তর খুঁজে পাবে।"
"হ্যাঁ, এবার বাকিটা সময়ই বলে দিবে।"

​বলেই হেলান দিয়ে বসলো রাজ। তার দিকে চেয়ে মাথা নাড়লো আকাশ। এর মাঝেই তিন কাপ চা হাতে সেখানে উপস্থিত হলো আরোহী। যা টেবিলে রেখে রাজের দিকে চেয়ে বলে,
"আর কিছু লাগবে?"
"উঁহু।"
"আমি যাচ্ছি তাহলে।"
"হুম যাও, শুয়ে পড়ো। রাত হয়েছে অনেক। আমার ঘুমাতে একটু লেট হবে।"
"আচ্ছা।"

​বলেই চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো আরোহী। লক্ষ করলো আকাশ এক বারের জন্যও তাকায়নি তার দিকে। অন্য দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আছে সে। লক্ষ করলেও কিছু বললো না আরোহী। স্বাভাবিক ভাবে পা বাড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজের মাঝে প্রার্থনার ন্যায় বলে,
"হে আল্লাহ্,, তার জীবনে এমন কাউকে প্রেরণ করুন, যে তার জীবনকে গুছিয়ে দিতে পারবে।"
বলেই একটা শ্বাস ছেড়ে দ্রুত পায়ে হেটে চলে গেলো সে।
,
,
অতিবাহিত হয়ে গেলো দুটি দিন। গতকাল বিকেলেই রওনা দিয়েছিল রাজ ও আরোহী। সকালেই ফরিদা আন্টিকে কল করে জানালো, নিউজিল্যান্ডে নিরাপদেই পৌঁছেছে তারা। আরোহী একটু ক্লান্ত থাকায় আপাতত আজকের দিনটা বিশ্রামেই পার করবে তারা।

​এখন দুপুর ২ টা। একসাথে খেবে বসলো বারিশ ও বিহান। তাদের মাঝে আলোচনার প্রসঙ্গ এখন রাজ। কাটা চামচে খাবার নিয়ে মুখে দিল বারিশ। সামনে থেকে বিহান স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"আকাশ তাহলে মিথ্যে বলেনি। কিন্তু, আমি ভাবছি রাজের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কারণটা কি? নাকি সে বুঝতে পেরেছিল, মালদ্বীপে আমরা তাকে হত্যা করার প্ল্যান করেছিলাম?"
বিপরীতে বারিশ শান্ত স্বরে বলে,
"আলোচনাটা আমাদের দু'জনের মাঝেই হয়েছিল। যদি রাজ এটা জেনে থাকে, তাহলে আমাদের যেকোনো একজন হতেই এটা লিক হয়েছে।"

​খাবার মুখে নিতে গিয়েও থেমে গেলো বিহান। তাকালো বারিশের দিকে। খানিকটা অবাক হয়ে বলে,
"আমাকে সন্দেহ করছো?"
বারিশ ফের শান্ত স্বরে বলে,
"বিষয়টা সন্দেহের না। আমি বোঝাতে চাইছি, এ খবর রাজের কান অবধি পৌঁছায়নি।"
বলেই ফের খাবার মুখে নিল বারিশ। বিহান খানিকটা ভেবে বলে,
"যেহেতু আমরা তার অবস্থান জানি, সেহেতু আমরা সেখানে কেন তাদের মারছি না?"
​খানিকটা সময় নিল বারিশ। মুখে নেওয়া খাবারটা খেয়ে বলে,
"এতকিছুর পরও তোমার কি মনে হচ্ছে না, রাজ সতর্কতা অবলম্বন করছে?"

বলেই বিহারের দিকে তাকালো বারিশ। কাটাচামচ ধরা ডান হাতটি পয়েন্ট বোঝানোর হালকা উঁচু করে ফের বলে,
"তারচেয়ে বড় বিষয়, সে আমাদের নিয়ে খেলতে চাইছে। এটা হয়তো আমাদের উদ্দেশ্য বোঝার জন্য তার পাতা একটা ফাঁদও হতে পারে। আমরা পা দিলেই 'কট'।"
বলেই ফের খাওয়ার মন দিল বারিশ। বিহানও প্লেটের দিকে চেয়ে বলে,
"বাবা ঠিকই বলেছিল, রাজ আঘাত করতে গেলেও অন্যদের মতো লাফালাফি করে না। সে ঠান্ডা মাথায় নিজের লক্ষ্য মেপে নেয়।"
বিপরীতে বারিশ মৃদু হেসে বলে,
"আপাতত ছাড় দিলেও আমরা তাকে আর সেই সুযোগ দিব না।"
,
,
বিকেল তখন ৩ টা। মানসিক হাসপাতালে একসাথে পায়চারি করছে নিলয় ও আকাশ। হাঁটার পাশাপাশি আশপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকাচ্ছে তারা। ভেতরে থাকা কয়েকজন মানুষের সাথেও কথা বলেছিল দু'জন। তবে নীলয় তাকে হঠাৎ এখানে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যটা বুঝে উঠতে পারছে না আকাশ। কাজেই খানিকটা কৌতুহল রয়ে গেছে মনে।

​তার ভাবনার ইতি ঘটিয়ে নীলয় স্বাভাবিক স্বরে বলে,
"তুমি হয়তো ভাবছো, তোমাকে হঠাৎ এখানে নিয়ে আসার কারণ কি।"
বলেই দাঁড়ালো নীলয়। আকাশ আশপাশে একনজর চেয়ে বলে,
"সেটাই ভাবছি আমি।"
নীলয় হালকা হেসে বলে,
"তেমন কোনো কারণ নেই। রাজের কাছে আমি একটা জিনিস শিখেছিলাম, নিজের অবস্থান বোঝা। রাজের একটা অভ্যাস আছে, যখন তার মনে হয় সে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে তখন সে একটা কবরস্থানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কারণ, মৃত্যু এক চরম সত্য। যা অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই। সামনে শুয়ে থাকা মানুষগুলো একসময় আমাদের জায়গায় ছিল আর আমরাও একসময় তাদের জায়গায় থাকবো, এটা তুমি মন থেকে ফিল করতে পারলেই কোনো পাপ করতে পারবে না।"

​খানিকটা নীরব রইল আকাশ। অতঃপর একটা শ্বাস ছেড়ে বলে,
"খুব কম মানুষই এই বাস্তবতা অনুভব করতে পারে। যেমন আমি নিজেও আগে কখনো এমনটা অনুভব করতে পারিনি। কেউ বললেও তা কান অবধিই সীমাবদ্ধ থাকতো। কখনোই মন অবধি পৌঁছাতো না।"
বলেই থামলো সে। নীলয় তার দিকে চেয়ে বলে,
"দেখো আমরা সুস্থ সবল মানুষ। না আমাদেরকে কোনো হসপিটালের ইমার্জেন্সিতে ছটপট করতে হচ্ছে, আর না এখানকার মানুষগুলোর মতো বছরের পর বছর জীবন পার করতে হচ্ছে। কিন্তু স্রষ্টা চাইলে, আমরাও তাদের জায়গায় থাকতে পারতাম। স্রষ্টার যে দয়াটাও আমরা কখনো বুঝি না।"

​নীলয়ের কথা শুনে খানিকটা নীরব রইল আকাশ। আশপাশে এক নজর চেয়ে বলে,
"এখন বুঝতে পারছি তোমার আমাকে এখানে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য কি।"
বলেই থামলো আকাশ। অতঃপর ফের বলে,
"তবে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে শিক্ষণীয় একটি বিকেল ছিল। যে শিক্ষাটা আমি আমার পরিবার থেকেও কখনো পাইনি।"

​গেট পেরিয়ে একটা গাড়ি প্রবেশ করলো ভেতরে। আলোচনার সমাপ্তি টেনে সেদিকে তাকালো নীলয় ও আকাশ, দু'জনই। দেখে একটা মেয়েকে নামানো হয়েছে গাড়ি থেকে। বয়স ২০ এর কম-বেশি হবে হয়তো। হালকা চিকন শরীরে ফর্সা গায়ের রং। চেহারাটাও প্রচণ্ড মায়াবী তার। যাকে এখানে দেখে এক মুহূর্তের জন্য আফসোস করবে না, এমন মানুষ মানুষ হয়তো বিরল।

​তেমনই খানিকটা আফসোস হলো আকাশেরও। নীরবে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে। পাশ দিয়ে দ্রুত পায়ে হেটে যাচ্ছিল একজন ডাক্তার। নীলয় তাকে থামিয়ে বলে,
"কি হচ্ছে এখানে? মেয়েটা কে?"
ডাক্তার স্বাভাবিক স্বরে বলল,
"নাম মেঘলা। মেন্টালি ট্রিটমেন্টের জন্য কদিন আগেই তার পরিবার তাকে এখানে রেখে গিয়েছিল। কিন্তু গতকাল রাতে সুযোগ পেয়েই পালিয়েছিল। তাই এখন আবার ধরে আনা হয়েছে।"
"ওকে, থ্যাংকস।"

​চলে গেলেন ডাক্তারটি। নীলয় তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ খানিকটা আফসোস নিয়ে বলে,
"মেয়েটাকে দেখো, তাকে যেন পৃথিবীর সমস্ত মায়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তার সাথে এমনটা হওয়া কি খুব বেশিই প্রয়োজন ছিল?"
নীলয় তাকালো তার দিকে। হালকা রসিকতা করে বলে,
"এক কাজ করতে পারো। তুমি তাকে এখান থেকে নিয়ে বিয়ে করে নাও। পাগলামি না-হয় একটু সহ্য করবে, প্রব্লেম কি?"

নীলয় হেসে কথাটা বললেও আকাশ খানিকটা সিরিয়াস ভাব নিয়ে বলে,
"যদি মেয়েটা খুব বেশি পাগল না হতো, আর তার পরিবার যদি রাজি থাকতো, তাহলে আমি সত্যিই তাকে আমার সাথে নিয়ে যেতাম। সে এখানে থাকার যোগ্য না।"
এবার তীব্র বিস্ময়ে ভ্রূ কুঁচকালো নীলয়। যে বিস্ময় ধরে রেখে বলে,
"তুমি কি সিরিয়াস?"
"হ্যাঁ।"
নীলয় ফের বিস্ময় নিয়ে বলে,
"তোমার মনে 'মায়া' শব্দটা জন্ম নিল কবে ভাই!"

​কিছু বললো না আকাশ। বলতে চেয়েও থেমে গেলো। শ্বাস ছাড়লো একটা। অতঃপর বলে,
"চলো, বেরিয়ে যাই। এখানে আর কিছুক্ষণ থাকলে আমার সত্যিই খারাপ লাগবে।"

​বলেই পা বাড়ালো আকাশ। পা বাড়ালো নীলয়ও। এর মাঝেই মেঘলা নামের মেয়েটার চিৎকার শুনে থমকে দাঁড়ালো আকাশ। তার বলা কথাটা যেন আকাশের কানে তিরের মতো বিধলো। সবাইকে উদ্দেশ্য করে মেয়েটা চিৎকার করে বলে উঠলো,
"আমার চাচাদেরকে বলে দিন, আমার বাবার অর্থ-সম্পদ কিছুই আর আমার প্রয়োজন নেই। সব তাদেরকে নিয়ে যেতে বলুন। আমি তাদের থেকে অনেক দূরে চলে যাবো। তবুও আমাকে মুক্তি দিতে বলুন দয়া করে। আমার এখানে ভালো লাগে না। আমাকে বিশ্বাস করুন প্লিজ, আমি সত্যিই পাগল নই।"

​To be continued.................

06/02/2026

গল্প প্রসঙ্গে,,,,
আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন, আমার কাজিনের ছেলে বাবু হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ্। যে বিষয়ে ব্যস্ত থাকার ফলে দু'দিন গল্প দিতে পারিনি। গতকাল রাতে আবার ফুপু হুট করেই খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে দেখার জন্য আজ ফুপুর বাড়িতেই ছিলাম। যার ফলে আজ গল্প দেওয়ার থাকলেও দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ আগেই বাসায় ফিরলাম। গল্প ইন'শা আল্লাহ্ আগামীকাল সন্ধায় পেয়ে যাবেন। আর সামনের পর্বগুলো থেকে চমক আসবে কিন্তু।🖤

Address

Parshuram
Feni
3940

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mehedi hasan Riyad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share