19/01/2026
চরমোনাইয়ের লাভটা কী হলো সমঝোতায় না গিয়ে?
চলেন হিসাবের অংকটা একটু মিলিয়ে নেই—
চরমোনাই যদি জামায়াতের সাথে যেত, বলা হচ্ছে ৪৫ আসনে ২০টা পেত।
তবুও কেন গেল না?
চরমোনাই যদি বিএনপির সাথে যেত, বলা হচ্ছে ৩৫ আসনে কমপক্ষে ২৫টা পেত।
তবুও কেন গেল না?
চরমোনাই যদি এককভাবে নির্বাচন করে, হয়তো ৫টা আসন পাবে।
তবুও কেন কারো সাথে যেতে চায় না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বুঝতে হলে সব দিক থেকেই চিন্তা করতে হবে।
জামায়াতের ভাইয়েরা বলেন—
সমঝোতা হলে চরমোনাই ১০টা আসনও পাবে না, তাই বেশি আসন দেওয়া যাবে না।
সমস্যাটা এখানেই!
যে আসনে জামায়াত দাঁড়ালে জিতবে, সেই আসনে চরমোনাই দাঁড়ালে জিতবে না কেন?
ভোট তো একই জায়গায়, মানুষ তো একই!
তাহলে একজন দাঁড়ালে জয়, আরেকজন দাঁড়ালে পরাজয়—এই ‘ক্যারিশমা’ কোথা থেকে আসে?
এটা কেমন নাটক?
যে জামায়াত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই দলের সাথেই জোট করেছে,
আর নিজেদের স্বার্থে কখনো চরমোনাইকে আওয়ামী লীগের দালাল বলেছে,
আবার কখনো বিএনপির দালাল বলেছে—
তাদের সাথে সমঝোতা করে লাভটা কী, বলেন তো ভাইয়েরা?
আর যেখানে গেলে আত্মমর্যাদা থাকে না,
সেখানে যাওয়ার চেয়ে না যাওয়াটাই আমার কাছে অনেক ভালো মনে হয়।
আচ্ছা, মানলাম আপনারা অনেক বড় দল।
বিএনপির থেকেও বড় দল!
তাহলে আপনাদের সমঝোতার দরকার কী?
আপনারা তো ২০০ আসনেই জিতবেন!
বিএনপি যেখানে জামায়াতকে ৩৫ আসনের অফার করে,
সেই বিএনপি চরমোনাইকেও ৩৫ আসনের অফার করে।
তাহলে আপনারা বড় দল হলে ১৫০ আসন নেন,
আর ইসলামী আন্দোলনকে ৭০ আসন দেন—সমস্যা কী?
গত দেড় বছর ধরে ইসলামী আন্দোলন উম্মাহর ইমামদের এক করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।
অবমূল্যায়নের কারণেই সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
আসন বণ্টনের হিসাব দেখুন—
এনসিপি যদি ৩০ আসন পায়,
মজলিস যদি ২০ আসন পায়,
তাহলে কওমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দল,
যাদের ৩০০ আসনে ভোটব্যাঙ্ক আছে,
ম্যানপাওয়ার আছে,
সুসংগঠিত কাঠামো আছে—
তাদের কয়টা আসন পাওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল?
শুধু বেইনসাফির কারণেই
দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতের সাথে বিভিন্ন কারণে ঐক্য চাই না।
তার অন্যতম কারণ—
তাদের মধ্যে কিছু ভাই চরমোনাইকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়,
হুজুরদের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়,
ব্যঙ্গ করে কথা বলে।
তারপরও দেশের স্বার্থে, ইসলামের স্বার্থে—
এই সব ভুলে গিয়ে সমঝোতা চেয়েছিলাম।
আজকের এই সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনকে
নিজ পায়ে দাঁড়াতে বড় সহায়তা করবে।
লিখে রাখুন—
এক সময় দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল
ইসলামী আন্দোলনকে কাছে পেতে প্রাণপণ চেষ্টা করবে।
সাধারণ মানুষ এই দলের দিকেই ঝুঁকবে।
জামায়াতের প্রতি রইলো
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।
পরনির্ভরশীল না হয়ে
ইসলামী আন্দোলন একা দাঁড়াক।
ইসলামী মূল্যবোধকে একা আঁকড়ে ধরুক।
যতদিন চরমোনাই হকের পথে থাকবে,
ইনশাআল্লাহ আমরাও আছি।