28/07/2026
ছাগলনাইয়ায় সরকারি জব্দ করা সোয়া ২ লাখ ঘনফুট বালু উধাও, বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ লাখ টাকা
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ফেনী নদীর তীরে সরকারি জব্দ করা সোয়া ২ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে পুনরায় পরিমাপের পর এ তথ্য উঠে এসেছে। লোপাট হওয়া বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকা। এ ঘটনায় ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় সরকারি জব্দ করা বালুর প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলামকে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ১৭০টি বালুর স্তূপ পরিমাপ করেন। পরে দাখিল করা প্রতিবেদনে তিনি মোট ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৭ ঘনফুট বালু রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তবে ওই প্রতিবেদনের পর আদালতের নির্দেশে পুনরায় সরেজমিনে পরিমাপ করা হলে আগের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পুনরায় পরিমাপে দেখা যায়, ১৭০টি বালুর স্তূপে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৩০ ঘনফুট বালু কম রয়েছে। প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ৩০ টাকা হিসেবে লোপাট হওয়া বালুর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৬৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকা।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২০ জুলাই বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সরকারি জব্দ করা বালু চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯/৩৪ ধারায় ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি শুভপুর ঘাট এলাকা থেকে চুরি করা বালুবোঝাই তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ। সর্বশেষ ২৬ জুলাই মধ্যরাতে জব্দ করা বালু নিয়ে যাওয়ার সময় ছাগলনাইয়া জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে বালুভর্তি দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় দুই চালককে আটক করা হয়। পরে পৃথক মামলায় তিন ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জয়পুর গ্রামের মিয়াধনের ছেলে শাহাবুদ্দিন, একই গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ফজলুল করিম এবং নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ তাহিরপুর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে মমিনুল হক।
চোরাই বালুসহ ট্রাক জব্দের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভীর মেহেদী জানান, প্রাথমিক তদন্তে দুই লাখ ঘনফুটের বেশি বালু চুরির তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, সরকারি জব্দ করা বালুর নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে বিএনপির কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ, ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আলমগীর সিদ্দিকী ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার (টিপু)-এর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী নদীতে বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সাত থেকে আটটি সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে উঠেছে। এসব গ্রুপের প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্যের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তাদের দাবি, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশে পাইপ বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সদস্যরা হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে। এ কারণে অনেকেই নিরাপত্তার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।