22/09/2026
সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। এখন ফলাফলের অপেক্ষায় থাকার কথা শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যেই ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের এক শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, উত্তরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ফেনী পলিটেকনিকে নিয়ে আসা হয়েছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড়ে সিএনজি অটোরিকশায় আসার সময় ভুলক্রমে উত্তরপত্রগুলো গাড়িতে রেখে চলে যান ওই শিক্ষক। পরে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত উত্তরপত্রগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে। পলিটেকনিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক লিও মো. মেহেদী হোসাইন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড় আসার সময় সিএনজিতে ফাইনাল পরীক্ষার প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে গেছে। কেউ পেয়ে থাকলে জানানোর অনুরোধের পাশাপাশি উপযুক্ত সম্মানির কথাও উল্লেখ করা হয়। পরে পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে উত্তরপত্রগুলো কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের—এমন তথ্য তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেননি বলে পরে জানান।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ—
একসঙ্গে প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এসব উত্তরপত্রের মূল্যায়ন কীভাবে হবে এবং ঘটনাটি চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফেনী পলিটেকনিকের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আশ্রাফুল হক বলেন, একসঙ্গে এতগুলো উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা অবশ্যই দুশ্চিন্তার। এতে চূড়ান্ত ফলাফলে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী মুজাহিদ সৌরভ বলেন, একটি উত্তরপত্র শুধু পরীক্ষার একটি খাতা নয়; এর ফলাফলের সঙ্গে একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের বিষয়ও জড়িত। তাই গুরুত্বপূর্ণ এসব নথি সংরক্ষণ ও পরিবহনে আরও সতর্কতা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী আজম জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে সিএনজিতে আসার সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক ভুলবশত উত্তরপত্রগুলো রেখে চলে যান। ওই শিক্ষক এখনো উত্তরপত্রগুলো খুঁজছেন। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. জাহেদুল কবির খান বলেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য এনেছিলেন। ভুলক্রমে সেগুলো সিএনজি অটোরিকশায় রেখে আসার বিষয়টি ইতোমধ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এখন মূল প্রশ্ন—হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না এবং উদ্ধার না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলে এর প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা হবে? বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।