23/08/2026
একলা একটা হাসপাতালের বেড, যন্ত্রের একটানা ওই কৃত্রিম টিকটিক শব্দ, আর নিঃশ্বাসের শেষ টান—এই সবকিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষ সত্যিটা উপলব্ধি করে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
জীবনভর আমরা কীসের পেছনে ছুটলাম ? একটু বাড়তি টাকা, একটু ক্ষমতার দম্ভ, নাকি সমাজের বানানো কিছু মেকি সম্মানের পেছনে? দিনশেষে যখন আইসিইউর ঠাণ্ডা ঘরটায় এসে শরীরটা হেলিয়ে পড়ে, তখন ওই কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের একটা চিকিৎসাও পারে না,,, একফোঁটা বুকের ভেতরে খাঁটি তৃপ্তি এনে দিতে।
যে হাত দুটো দিয়ে সারাটা জীবন শুধু পেয়ে যাওয়ার হিসাব কষেছি, শেষ প্রহরে সেই হাতটাই ব্যাকুল হয়ে খোঁজে চেনা কোনো আঙুলের স্পর্শ। কিন্তু হাত বাড়িয়ে মিলল কী? চিকিৎসকের দয়ায় প্লাস্টিকের গ্লাভসে ভরা খানিকটা কৃত্রিম উষ্ণ জল!
হাহাকারে ফেটে পড়ে মনটা, যখন চোখের কোণ বেয়ে একফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে এসে ভিজিয়ে দেয় চাদর। কতবার বাবা-মা ডেকেছিল, সময় দিইনি। কতবার প্রিয় মানুষটা একটু বসে কথা বলতে চেয়েছিল, আমরা ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে দূরে ঠেলে দিয়েছি। অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় এই কঠিন নিঃসঙ্গতার দিনে, কোনো মেকি ভালোবাসা কিংবা ডিজিটাল স্ক্রিনের লাইক-কমেন্ট পাশে এসে দাঁড়ায় না।
আমরা মরে যাই বহু আগেই, শরীরটা শুধু থেমে যায় শেষে এসে। বেঁচে থাকতে যাদের ভালোবাসার কথা ছিল, যাদের জড়িয়ে ধরে কান্না করার কথা ছিল, তাদের আমরা অবহেলার পাহাড়ের ওপারে পাঠিয়ে দিই। আর শেষ বেলায় এসে আকুল হয়ে থাকি একটা খাঁটি ভালোবাসার স্পর্শের জন্য।
প্লাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম উষ্ণতা দিয়ে জীবনকে ছলনা করা যায়, কিন্তু বুকের ভেতরের যন্ত্রণার হাহাকার নেভানো যায় না। মানুষ বেঁচে থাকতেই তার ভালোবাসার হিসাবটা মিটিয়ে নিন, প্রিয় মানুষদের বুকেই একটু জায়গা দিন। মৃত্যুর পরে শ্মশান বা গোরস্থানে অশ্রু বিসর্জন দেওয়ার চেয়ে, জীবদ্দশায় তাদের একটা নরম হাত শক্ত করে ধরে রাখা শতগুণ শ্রেষ্ঠ।
#জীবন
#বেদনা