SR Brother

SR Brother Without nature, people are helpless! Nature arouses human emotion and love! So love is not an option! "Love that body, Will awaken nature to your inner being. "

02/03/2026

গতকাল ইসরায়েলে চালানো ইরানী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে আল-জাজিরার প্রকাশিত ভিডিও।

কর্নেল গুলজারকে নিজের কবর নিজে খুঁড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল:বিডিআর বিদ্রোহের পর ...
26/02/2026

কর্নেল গুলজারকে নিজের কবর নিজে খুঁড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল:
বিডিআর বিদ্রোহের পর কয়েকমাসের মাথায় ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর মেজর রেজাউল করিমকে অপহরণ করা হয়।
মেজর রেজাউল করিমের চোখ টানা ৭/৮ দিন বাঁধা ছিল। ৭ দিন পর্যন্ত সে জানতেই পারেনি যে, সে কোথায় আছে।
৭ দিন পর যখন তার চোখ খোলা হয়, তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা'র হেফাজতে। সে অবাক বিস্ময়ে দেখতে পায়, তার সামনে বসা মানুষটা কর্নেল সালেহ। তার সাথে ছিলেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস। তিনি ছিলেন সেসময়ের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসের আপন ছোটভাই।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়: তিনি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এর ওপর বোমা হামলার সাথে জড়িত।
এই অভিযোগের জবাবে মেজর রেজাউল করিম বলেন:
- স্যার, এটা খুবই লজ্জাজনক যে, আমার বিরুদ্ধে এরকম একটা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ কমান্ডো ট্রেনিং প্রাপ্তদের একজন। আমার আক্রমণে যদি একজন মানুষও মারা না যায়, এটা পুরো বাহিনীর জন্য লজ্জার স্যার।
তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ আনা হয়েছিলো: তিনি বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানেত কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়ে সেনা বিদ্রোহের চেষ্টা করেছেন।
ফজলে নূর তাপস এর ওপর আসলে কোন বোমা হামলার ঘটনা ঘটনা ঘটেনি। তার অফিসের একটা এয়ার কন্ডিশন মেশিনে বিস্ফোরন ঘটেছিল। সারা বাংলাদেশে মেজর রেজাউল করিমের সবগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তন্নতন্ন করে খুঁজেও '৬ কোটি টাকা'র খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মেজর রেজাউল করিমকে পরবর্তিতে সেনা আইনের নিজস্ব ধারা অনুযায়ী সেসময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে 'অসদাচরণ' করার অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
MIST ( Military Institute of Science and Technology), সেনানিয়ন্ত্রিত ইউনিভার্সিটি Bangladesh University of Professionals- এর অধীনে একটা ইন্সটিটিউট।
যারা আমাকে পার্সোনালি চেনেন, তারা জানেন BUP এর সাথে আমার পার্সোনাল কিছু হিসাবনিকাশ আছে। কিন্ত এই গল্পটা আমার না।
MIST এবং BUP তে বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর অফিসার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা পড়াশোনা করতে আসেন।
পিলখানায় বিদ্রোহ শুরু হবার পর ভেতরে আটকে পড়া আর্মি অফিসাররা বিভিন্ন জায়গায় ফোন দেওয়া শুরু করেন। এদের মাঝে কেউ কেউ সেসময়ে MIST- তে অধ্যয়নরত ব্যাচমেটদের কল দিতে শুরু করে। এই কল পাওয়া মানুষদের মাঝেই একজন ছিলেন ক্যাপ্টেন সুবায়েল বিন রফিক।
এছাড়া কল পাওয়া আরেকজন ব্যাক্তি ছিলেন র‍্যাব -১ এ কর্মরত মেজর রেজাউল করিম।
MIST- তে অধ্যায়নরত সুবায়েল বিন রফিক আরো কয়েকজন ব্যাচমেটসহ অজ্ঞাত সোর্স থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে পিলখানার দিকে যাবার চেষ্টা করলে সেটা টিভিতে সম্প্রচার করা হয়। এসময় সিনিয়র অফিসাররা তাদের ইমিডিয়েট ফলব্যাক করার নির্দেশ দেন।
র‍্যাবে কর্মরত মেজর রেজাউল করিম এসময় সিনিয়র অফিসারদের জানান, এখনো সুযোগ আছে, যদি অনুমতি দেওয়া হয়, আটকে পড়া অফিসার এবং তাদের পরিবারকে বাঁচানো সম্ভব।
এই আবেদনের জবাবে মেজর রেজাউল করিমকে র‍্যাব থেকে প্রত্যাহার করে মূল বাহিনীতে সংযুক্ত করা হয়।
র‍্যাব কোন প্রকার অভিযান সেদিন চালাতে পারেনি।
ইতিমধ্যে ভারতীয় মিডিয়াতে খবর চলে আসে সেই সময়ের বিডিআর ডিজি শাকিল আহমেদকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্ত দেশের মিডিয়াতে সেসময় এই খবর চেপে যাওয়া হয়। দেশের সেনা কর্মকর্তাদের বারবার আশ্বস্ত করা হয়... এরকম কিছুই ঘটেনি।
এই সময়ে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র‍্যাক করে, ফোন কনভার্সেশন শুনে এবং নানা উপায়ে আর্মি অফিসারদের একজন একজন করে খুঁজে বের করছিল ঘাতকরা।
অনেক আর্মি অফিসারই ব্যাচমেটদের ফোনে জানাচ্ছিলেন তারা কোথায় লুকিয়ে আছেন। খুব সম্ভবত এটাও সেই আর্মি অফিসারদের খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
শোনা যায়, সেসময় মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এর কাছে এমন একটা ভিডিও ছিলো, যেটাতে দেখা যায়, কর্ণেল গুলজারকে নিজ কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। তারপর কর্ণেল গুলজার কে হত্যা করা হয়। কর্ণেল গুলজারকে হত্যার আগে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। জনশ্রুতি আছে মৃত্যুর আগে তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল।
সেদিন যে মিলিটারি অফিসারদের হত্যা করা হয়েছিল... তাদেরকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পোস্টিং দিয়ে পিলখানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। মূলত এক ধাক্কায় এদের সবাইকে মেরে ফেলাই ছিলো ওদের উদ্দেশ্য।
সেই ভিডিও ক্লিপ পরবর্তীতে র‍্যাব -২ এর জিয়াউল আহসান নিয়ে যায়। হ্যাঁ, এই সেই জেনারেল জিয়া। শেখ হাসিনার কসাই জিয়া।
জেনারেল জিয়া র‍্যাব - ২ এর অফিসে একটা ইন্টারোগেশন সেল খোলে। প্রায় প্রতিদিন দেখা যেত, তারা একজন করে বিডিআর জোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য নিয়ে যাচ্ছে এবং পরে তার লাশ ফেরত দিয়ে যাচ্ছে।
এভাবে জেনারেল জিয়াউল আহসানের হেফাজতে ৪৭ জন বিডিআর জওয়ান মারা যায়। এরা এমন কিছু জানত বা এমন কিছু দেখে ফেলেছিল... যার জন্য তাদের বাঁচিয়ে রাখা শেখ হাসিনা নিরাপদ মনে করেনি।
পরবর্তীতে বিডিআর বিদ্রোহের ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী আত্মহত্যা করেন।
এখানে আমি একটা জিনিস এড করতে চাই। আপনাদের যাদের সেই সময়ের পত্রিকাতে এক্সেস আছে... তারা চেক করে দেখতে পারেন।
এই বিদ্রোহের পরের কয়েক সপ্তাহের মাঝে একটা হোটেলে একজন সেনা কর্মকর্তার আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর নিউজ খুব সম্ভবত প্রথম আলোতে এসেছিল এবং একটা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাতেও একাধিক সেনা কর্মকর্তা মারা যান।
আমার ব্যাক্তিগত ধারণা... এই ঘটনাগুলোরও বিডিআর বিদ্রোহের সাথে যোগসূত্র আছে।
বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তিনটা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন আকন্দ। যে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়।
বিজিবির তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন আজিজ। যে পরবর্তীতে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পায়।
সেনাবাহিনীর তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর।
সেনাবাহিনীর তদন্ত দলের সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ পান ক্যাপ্টেন সুবায়েল বিন রফিক।
তদন্তের এক পর্যায়ে জানা যায়, এই বিদ্রোহের পরিকল্পনা নভেম্বর থেকেই শুরু হয়। আওয়ামী লীগের দুইজন সাংসদের বাসায় এই পুরো পরিকল্পনা করা হয়। আওয়ামী লীগের দুইজন সাংসদ এই পরিকল্পনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। সেই সাংসদদের একজন এক মিটিং এ পরামর্শ দেন-
- বেশি অফিসার মাইরো না। অফিসার মানুষ। দুই একজন মাইরো। আমরা সামাল দিবো নে।
সেই দুই সাংসদের নাম ছিলো ফজলে নূর তাপস এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক।
২০০৯ সালের অক্টোবরের ১৪ তারিখ সেনাবাহিনীর তদন্ত দলের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সুবায়েল বিন রফিককে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে শেখ হাসিনা তদন্ত রিপোর্টটা সুবায়েল বিন রফিক এর মুখের উপর ছুড়ে মারে এবং বলে:
- এগুলা কী আসতেছে রিপোর্ট- এ। কোনো পলিটিক্যাল ফিগারের নাম রিপোর্টে আসা যাবে না।
১৯ অক্টোবর ক্যাপ্টেন সুবায়েল বিন রফিককে আবারো ডেকে পাঠানো হয়। এসময় শেখ হাসিনা জানতে চান রিপোর্ট কেন এখনো চেঞ্জ করা হয়নি।
ক্যাপ্টেন সুবায়েল বিন রফিক জবাব দেন:
- আমি আমার ভাইয়ের রক্তের সাথে বেঈমানি করতে পারবো না।
এরপর সুবায়েল বিন রফিককে তুলে নিয়ে যাওয়া। তাকে ৩৬১ দিন অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়।
সেই অজ্ঞাত স্থানই বর্তমানের - আয়নাঘর।
মেজর রেজাউল করিম পরবর্তীতে আর কখনোই চাকুরিতে ফিরতে পারেননি। পাঁচ বছর পর যখন তিনি জেল থেকে বের হয়ে আসেন... তার জীবন জাহান্নামে পরিণত করা হয়। তিনি কোথাও চাকরির দরখাস্ত করলে... সেখানে ফোন করে হুমকি দেওয়া হতো। তিনি ব্যবসা করতে গেলে তার পার্টনারকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হতো।
মেজর রেজাউল করিম পরবর্তীতে উবার ড্রাইভার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্টা করেন। সেখানেও বাঁধার সৃষ্টি হলে তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা শুরু করেন।
একজন নেভি অফিসারের সন্তান... যে নিজেও একজন আর্মি অফিসার... যে নিজে কমান্ডো ট্রেনিং- এর সর্বোচ্চ ধাপগুলো অতিক্রম করা.... তাকে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে টাকা রোজগার করতে হতো এরচেয়ে দু:খজনক আর কী হতে পারে?
এরপর সেনাবাহিনীর বাছাই করা অনুগত অফিসাররা র‍্যাবে আসতে থাকেন। জেনারেল জিয়াউল আহসান ছোট্ট আইসবার্গের মাথা মাত্র। এরকম অসংখ্য খুনি অফিসার এখনো সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে আসীন আছেন।
এবং এই র‍্যাব থেকেই পরিকল্পিতভাবে পুলিশের মাঝে কিলিং স্কোয়াড চালু করা হয়। গুম-ক্রসফায়ারের কালচার পুলিশে ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
র‍্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনীকে কীভাবে দানবে পরিণত করা হলো... তা জানতে হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সেইসব অফিসারের কাছে আপনাকে যেতে হবে... যাদের বছরের পর বছর প্রমোশন দেওয়া হয়নি। যাদের বিনা দোষে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। যাদের ডাম্পিং পোস্টিং- এ ফেলে রাখা হয়েছে।
আপনার জানা দরকার: ২০০৯ এর পর থেকে অসংখ্য আর্মি অফিসারকে ইসলামিস্ট আখ্যায়িত দিয়ে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।
________________________________________________

আমাদের সামগ্রিক ভাবে দাবি তুলতে হবে:
১. পিলখানা হত্যার সবগুলো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।
২. মানবাধিকার লংঘনে জড়িত সব সেনা অফিসারের বিচার করতে হবে।
৩. র‍্যাব ভেংগে দিতে হবে।
৪. দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, এবং
৫. সেনা কিংবা পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া প্রত্যেক বিডিআর জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাতেও তদন্ত করতে হবে।

[তথ্যসূত্র: ক্যাপ্টেন সুবায়েল এবং মেজর রফিক- এর তৃতীয়মাত্রায় দেওয়া নিজ মুখের বক্তব্য।

মনসুর ২০১৯ সালের ১৭ ই অক্টোবর কাতার থেকে তুর্কি বা তুরষ্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় উদ্দেশ্য ছিল জীবিকার তাগিদে ইউরোপের কোন ...
25/02/2026

মনসুর ২০১৯ সালের ১৭ ই অক্টোবর কাতার থেকে তুর্কি বা তুরষ্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় উদ্দেশ্য ছিল জীবিকার তাগিদে ইউরোপের কোন দেশে প্রবেশ।

এরপর কেটে গেল ৬ বছর মনসুরের কোন খোঁজ নেই।
মনসুর এর বৃদ্ধ মা আশায় বুক বেঁধে আছে একদিন হয়তো তার আদরের সন্তান মা'কে জড়িয়ে বলবে

"তোমার সন্তান তোমার কোলে ফিরে এসেছে মা"

মনসুর এর চিন্তায় তার মা আজ ভীষণ অসুস্থ প্রতিটা দিন জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ফরিয়াদ করেন তার মনসুর এর জেনো খোঁজ পাওয়া যায়।পেটের সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মনসুর এর মা।

ছবিতে মনসুর এতদিনে ওর বয়স ৩৫/৩৬ হবে।

প্রবাসী ভাইরা মনসুর কে ফিরিয়ে দিতে বা খোঁজ দিতে সাহায্য করবেন।

আমি
সুমনা বেগম
(মনসুর এর ফুফুর মেয়ে)

ইনবক্স থেকে

 #ফেনীর_গুরুত্বপূর্ণ_ইতিহাস ফেনীর যে বিমানঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।১৯৪৪ সালে নির্মিত ফেনী বিমানঘাঁট...
24/12/2025

#ফেনীর_গুরুত্বপূর্ণ_ইতিহাস

ফেনীর যে বিমানঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।১৯৪৪ সালে নির্মিত ফেনী বিমানঘাঁটি ছিল ব্রিটিশ-মার্কিন মিত্র বাহিনীর অন্যতম বড় সামরিক স্থাপনা। বার্মায় জাপানি বাহিনীর অগ্রগতি রুখে দিতে তৈরি হয়েছিল এটি। পরিত্যক্ত এই বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল বিমান বিধ্বংসী কামান, যুদ্ধবিমানসহ যোগাযোগের নানা গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। সংরক্ষণ না করায় হারিয়ে গেছে কালের সাক্ষী এই বিমানঘাঁটির নানা স্থাপনা।

আকাশ থেকে তোলা ফেনী বিমানঘাঁটি১৯৪৪ সালে ছবিটি তোলেন এলমার ই ফিশার। রিমেম্বারিং শেয়ারড অনার নামের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
ফেনী শহরের মূলকেন্দ্র ট্রাংক রোড থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর বিরিঞ্চি এলাকা। রিকশায় গেলে ভাড়া গুনতে হয় ৩০ টাকা, শেয়ারের অটোরিকশায় ১০ টাকা। উত্তর বিরিঞ্চিতে নামতেই ইট বিছানো একটি লম্বা রাস্তা। রাস্তা ধরে কিছু দূর হাঁটলে ঘরবাড়ির বাধা। মনে হবে রাস্তাটা সেখানেই শেষ, কিন্তু বাড়িঘরের সীমানা পার হলে আবারও দেখা মিলবে পুরোনো ইটের তৈরি রাস্তাটির। কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশে অবারিত ধানের খেতও চোখে পড়ে।

এলাকার প্রবীণ মানুষজন জানেন, এটি আসলে সাধারণ কোনো রাস্তা নয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ব্রিটিশ-মার্কিন মিত্র বাহিনীর অন্যতম বড় বিমানঘাঁটির রানওয়ে। পরিত্যক্ত এই বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল বিমান বিধ্বংসী কামান, যুদ্ধবিমানসহ যোগাযোগের নানা গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম। ভারতবর্ষে জাপানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দিতেই তৈরি হয়েছিল বিমানঘাঁটিটি।

উত্তর বিরিঞ্চি এলাকার মতো শহরের সুলতানপুর, বারাহিপুর, মজলিশপুর, ধর্মপুর ও দেবীপুরের প্রায় সাড়ে তিন শ একর ভূমির ওপর এই বিমানঘাঁটি গড়ে উঠেছিল। এখন এটির স্থানে স্থানে আবাদ, ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। আছে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

আট দশক আগে স্থানীয় অনেকেই এই বিমানঘাঁটিতে নানা কাজে যাতায়াত করতেন। অনেকের বসতবাড়ি ছিল ঘাঁটিসংলগ্ন এলাকায়। বিমান বিধ্বংসী কামানের (অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান) কান ফাটানো শব্দ, কিংবা বিমান ওঠানামার দৃশ্য পরিচিত ছিল তখনকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তবে তাঁদের কেউই আর বেঁচে নেই। কিন্তু রয়ে গেছে বিমানঘাঁটির গল্পগুলো।

গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ১৯৪৪ সালে এই বিমানঘাঁটি নির্মাণ করে বলে সে দেশের সরকার প্রকাশিত ‘এয়ার ফোর্স কমব্যাট ইউনিটস অব ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ-মার্কিন মিত্রবাহিনীর ‘বার্মা অভিযানের’ গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধঘাঁটি ছিল এটি। ‘যুক্তরাষ্ট্র আর্মি এয়ার ফোর্সের’ দশম বিমানবাহিনীর অপারেশনাল রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে, ফেনী বিমানঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দশম বিমানবাহিনীর অধীনে থাকা দ্বাদশ বোমারু দলের প্রধান ঘাঁটি। ১৯৪৪ সালের জুলাই থেকে ১৯৪৫ সালের জুন পর্যন্ত ফেনী থেকে নিয়মিত যুদ্ধ মিশন পরিচালিত হয় এই ঘাঁটি থেকে।

এই ঘাঁটি থেকে মাঝারি পাল্লার বোমারু বিমান দিয়ে বার্মায় জাপানি বাহিনীর অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালানো হতো। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি এয়ারফোর্সের যুদ্ধকালীন বিবরণে বলা হয়েছে, ওই সময় বার্মায় ব্রিটিশ চতুর্দশ সেনাবাহিনী যখন জাপানি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন ফেনী বিমানঘাঁটি থেকে গোলাবারুদ, অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।

‘এয়ারফোর্স কমব্যাট ইউনিটস অব ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু’ গ্রন্থে আরও উল্লেখ রয়েছে, দ্বাদশ কমব্যাট কার্গো স্কোয়াড্রন ফেনীতে বিমান থেকে সরাসরি রসদ ও গোলাবারুদ ফেলত, যা যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাদের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ফেনী বিমানঘাঁটি ব্যবহৃত হতো সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে এবং এয়ার টেকনিক্যাল সার্ভিস কমান্ডের একটি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ডিপো হিসেবেও। যুদ্ধকালীন সময়ে এখানেই বিমান মেরামত ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজ চলত। জাপানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়াই কেবল নয়, বরং শত্রুর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ধ্বংসেও এই ঘাঁটি অবদান রেখেছে। বলা যায়, এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘোরানো একটি বিমানঘাঁটি।

যুক্তরাষ্ট্র আর্মি এয়ারফোর্সের অপারেশনাল রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ফেনী বিমানঘাঁটি থেকে সামরিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হয়। এরপর এটি আর সক্রিয় বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রানওয়ে ও অবকাঠামো অবহেলায় নষ্ট হতে থাকে।

পেছনে বোমারু বিমান, সামনে কমান্ডো জিপে বসা কয়েকজন সৈনিক
পেছনে বোমারু বিমান, সামনে কমান্ডো জিপে বসা কয়েকজন সৈনিক১৯৪৪ সালের এই ছবি কাজি শামসুদ্দিনের সৌজন্যে বাংলাদেশ ওল্ড ফটো আর্কাইভ নামের ফেসবুক পেজ প্রকাশ করেছে। ছবিটি ওই ফেসবুক পাতা থেকে নেওয়া
ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়া দেয়াল
গত বুধবার শহরের উত্তর বিরিঞ্চি এলাকায় গিয়ে বিমানঘাঁটির ইট বিছানো রানওয়ে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক জায়গায় চোখ আটকে যায়। ঝোপঝাড় আর লতায় ঢাকা পড়ে আছে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার একটি দেয়াল। এর ৭০০ ফুট দূরে আরও একটি দেয়ালের দেখা মিলল। দেয়ালের চারপাশে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও স্থাপনা। পুরোনো বিমানঘাঁটির এই দুটি স্মৃতিচিহ্ন এখনো টিকে আছে। জানা গেছে, এখানে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার ছিল।

উত্তর বিরিঞ্চি এলাকায় একটি দেয়ালের পাশ ঘেঁষে নির্মিত বাড়ির উঠানে একটি মাটির চুলায় রান্নার কাজে ব্যস্ত দেখা গেল এক গৃহিণীকে। বিবি কুলসমা নামের ওই নারীর কাছে জানতে চাওয়া হয় দেয়ালগুলোর সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘শ্বশুরের মুখে শুনেছিলেন দেয়ালটির পাশে বিমানঘাঁটির বিমান রাখা হতো। যুদ্ধে পর তাঁর শ্বশুর পরিত্যক্ত দেয়ালের পাশে বসতি গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করলেও সম্প্রতি সেনাবাহিনী বিমানবন্দরের জায়গা অধিগ্রহণ করেছে।

বিরিঞ্চি এলাকার থাকেন স্থানীয় সাংবাদিক সাপ্তাহিক নীহারিকা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মূলত বিরিঞ্চি এলাকায় বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার ছিল। বিমানঘাঁটির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এই দুটি দেয়াল কেবল টিকে আছে। আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে দেয়ালগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। এগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী।’

বিরিঞ্চি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সুলতানপুর এলাকায় বিমানবন্দরের জায়গায় গড়ে উঠেছে গার্লস ক্যাডেট কলেজ। দুই দশক আগে ২০০৬ সালে ৪৯ একর জমির ওপর ক্যাডেট কলেজ নির্মিত হয়। তখন সেখানে বিমানবন্দরের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে তিনতলা একটি ভবন ছিল। তবে কলেজ নির্মাণের সময় সেটি বিনষ্ট হয়।

‘দৈনন্দিন জীবনে যুদ্ধের ধাক্কা, নিজের বাড়িতে ব্রিটিশ সৈন্যদের অবস্থান, তীব্র অভাব-ফেনীতে সে সময় নেমে এসেছিল যেন এক প্রলয়। যখন-তখন যুদ্ধবিমান হতে আক্রমণ, হত্যা, রক্ত—এর সবই দেখেছে সেময়ের মানুষজন। ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে এখন স্মৃতিচিহ্ন রয়ে গেছে ফেনীর একাধিক স্থানে।’
কাজী এবাদুল হক প্রয়াত বিচারপতি ও লেখক।

যুদ্ধের দামামা
বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত একাধিক বইয়ে ফেনী বিমানঘাঁটির উল্লেখ রয়েছে। ১৯৮৯ সালে ‘সমতট প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত জমির আহমেদের ‘ফেনীর ইতিহাস’ গ্রন্থে ফেনীর বিমানটি ও যুদ্ধ নিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে।

জমির আহমেদ তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের রণ দামামার বিকট শব্দে ফেনীর মতো নিভৃত পল্লি বেসামাল হয়ে পড়ে। জাপানি আগ্রাসনে বার্মার পতন ঘটলে শত্রুপক্ষ ফেনী-চট্টগ্রামের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়। শত্রুপক্ষের আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য ফেনী অঞ্চলে মিত্র বাহিনী অগ্রবর্তী ঘাঁটি স্থাপন করে। শহর ও পল্লি অঞ্চলের এখানে-সেখানে সেনা ছাউনি স্থাপন করা হয়। ফেনী অঞ্চল সহসা একটা রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করে। কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দেয়। জাপানি বিমান হামলার আশঙ্কায় ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ সহসা জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। ফেনী কলেজ ও ফেনী হাইস্কুল ভবনে মিত্র বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ফেনী কলেজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়।’

প্রয়াত বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের আত্মজীবনীতে ফেনী বিমানঘাঁটির কথা উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফেলে আসা সেই সব দিনের কথা’ বইয়ে এবাদুল হক লেখেন, ‘দৈনন্দিন জীবনে যুদ্ধের ধাক্কা, নিজের বাড়িতে ব্রিটিশ সৈন্যদের অবস্থান, তীব্র অভাব—ফেনীতে সে সময় নেমে এসেছিল যেন এক প্রলয়। যখন-তখন যুদ্ধবিমান হতে আক্রমণ, হত্যা, রক্ত—এর সবই দেখেছে সেময়ের মানুষজন।’

ধ্বংস হয়ে গেছে সব স্মৃতিচিহ্ন। কেবল টিকে আছে ঝোপে ঢেকে যাওয়া দুটি হ্যাঙ্গার ওয়াল। ফেনী বিমানঘাটির ২০ ফুট উঁচু এমন একটি হ্যাঙ্গার ওয়াল। শহরের উত্তর বিরিঞ্চি এলাকায়।ছবি: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ১৯৪৪ সালে এই বিমানঘাঁটি নির্মাণ করে বলে সে দেশের সরকার প্রকাশিত ‘এয়ার ফোর্স কমব্যাট ইউনিটস অব ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ-মার্কিন মিত্রবাহিনীর বার্মা অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধঘাঁটি ছিল এটি। যুক্তরাষ্ট্র আর্মি এয়ার ফোর্সের দশম বিমানবাহিনীর অপারেশনাল রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে, বার্মা ফ্রন্টের কাছাকাছি হওয়ায় এবং কৌশলগতভাবে নিরাপদ অবস্থানের কারণে ফেনীকে বিমানঘাঁটির জন্য নির্বাচন করা হয়। এখান থেকে বার্মায় অভিযান পরিচালনা করা তুলনামূলক সহজ ছিল।

কাজী এবাদুল হকের বই থেকে জানা যায়, ১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল ফেনী শহরে জাপানি বিমান হামলা হয়। ওই দিন ছিল ফেনীতে হাটবার। জনসমাগমের কোনো কমতি ছিল না। যুদ্ধাবস্থা থাকলেও ফেনীতে কোর্ট কাছারি ও সরকারি অফিস-আদালত চালু ছিল। শুধু স্কুল, কলেজগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জাপানি বিমান তাদের ঘাঁটি থেকে আকাশে উঠলে ফেনীতে বিপৎসংকেত (ডেঞ্জার সাইরেন) বাঁশি বাজানো হয়। সেদিন ডেঞ্জার সাইরেন বেজে উঠলে ফেনী শহরে আগত লোকজন পড়িমরি করে শহরের বাইরে আশপাশে আশ্রয় গ্রহণ করে। অল্পক্ষণ পরে ক্লিয়ার সাইরেন বেজে উঠলে সকলে আবার শহরে সমাগত হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ডেঞ্জার সাইরেন বেজে উঠলে লোকজন তা অগ্রাহ্য করে শহরে থেকে যান। অল্প কিছুক্ষণ পর জাপানি বিমান থেকে বোমাবর্ষণ শুরু হয়। জাপানি বোমারু বিমান বিতাড়নের জন্য ফেনী শহরের আশপাশের গ্রামগুলোয় পাহাড়ের মতো মাটির উঁচু ঢিবি করে সেখানে বিমান বিধ্বংসী কামান পাতা হয়েছিল। গোলন্দাজকে কামানের সঙ্গে লোহার শৃঙ্খলে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। তা ছাড়া ফেনী বিমানঘাঁটির পাশে স্তূপাকারে বোমা জমা করে রাখা হয়েছিল।

প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসার আত্মজীবনী ‘আমার বেলা যে যায়’ বইয়ে তালগাছের কামান শীর্ষক একটি লেখা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফেনীসহ আশপাশের চিত্র পাওয়া যায় ওই লেখায়। তাঁর মৃত্যুর পর প্রথমা প্রকাশন এ আত্মজীবনী প্রকাশ করে (২০১৪)।

বইয়ের এক জয়গায় মূসা লিখেছেন, ‘শান্তির হাটে গিয়ে টের পেলাম, যুদ্ধ চলছে, যে যুদ্ধ আমি চাটগাঁ শহরে ফেলে এসেছি। ওপারে ফেনীর সোনাগাজী থানার বুভূড়িয়া ঘাট। এপার থেকে দেখলাম, সেখানে ছোট একটি বিমানঘাঁটি। নৌকায় নদী পার হয়ে সেখানে দেখতে পেলাম অনেকগুলো ব্রিটিশ জঙ্গি বিমান, সেগুলোর ছিল এক ইঞ্জিনের প্রপেলার বা ডানা। যুদ্ধের পর এই ফাইটার উড়োজাহাজগুলোকে যাত্রীবাহী বিমানে পরিণত করা হয়েছিল। তখন নাম হয়েছিল ডাকোটা বা ডিসি থ্রি। এ রকম একটি উড়োজাহাজেই আমার প্রথম বিমানভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছিল পাকিস্তান আমলে। সেই বিমান যাত্রীসেবায় নিয়োজিত ছিল।’
C

ছবিতে সংযুক্ত বাংলাদশি নাগরিক প্রায় ৫০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইরানে অনুপ্রবেশ করেন। এখন শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে দ...
10/12/2025

ছবিতে সংযুক্ত বাংলাদশি নাগরিক প্রায় ৫০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইরানে অনুপ্রবেশ করেন।

এখন শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে যেতে চান। উনি তেহরান থেকে প্রায় ১১০০ কিলোমিটার দূরের শহর বন্দর আব্বাসে ছিলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস তেহরানকে সেখানে বসবাসরত কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি অবহিত করলে আমরা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এর সহযোগিতায় উনাকে তেহরানে নিয়ে আসি।

উনার কাছে হাতে লেখা একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। উনি এতবছর আগে আসায় অনেককিছুই ভুলে গিয়েছেন।

উনার দেয়া তথ্যগুলো এরকম:

*নাম:* মো: আব্দুল মান্নান

*পিতার নাম:* আক্তারুজ্জামান

*ঠিকানা :* গ্রাম :নাওয়াগাঁও,পোস্ট অফিস : খেলাফত বাজার ,ওয়ার্ড নং- ০৮,উপজেলা: বেগমগঞ্জ ,জেলা: নোয়াখালী।

*বৈবাহিক অবস্থা :* অবিবাহিত

*ভাইয়ের নাম :* বারিক

*বোনদের নাম:* পেয়ারা,রশিদা,শহিদা।

*কোন এক বোনের ছেলের নাম :* ইসলাম

তিনি বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাস তেহরানের তত্ত্বাবধানে একটা হোটেলে অবস্থান করছেন। সেখানে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দেশে পাঠানো হবে। তার আগে উনার পরিবারকে খুঁজে বের করা জরুরি।

আমরা বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে পত্র মারফত অনুরোধ জানিয়েছি। আপনাদের মধ্যে কেউ যদি বেগমগঞ্জে থাকেন তাহলে একটু সহযোগিতা করবেন।

দীর্ঘ মেসেজের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী ও অগ্রিম ধন্যবাদ।
C

মানুষের মস্তিষ্করবের এক অবিশ্বাস্য কুদরতআপনি যে ছবিটি দেখছেন, এটি মানুষের মস্তিষ্কের উপরিভাগের রক্তনালীর অতিসূক্ষ্ম দৃশ্...
10/12/2025

মানুষের মস্তিষ্ক
রবের এক অবিশ্বাস্য কুদরত

আপনি যে ছবিটি দেখছেন, এটি মানুষের মস্তিষ্কের উপরিভাগের রক্তনালীর অতিসূক্ষ্ম দৃশ্য
এই রক্তনালীগুলোই আপনার চেতনাকে প্রতি সেকেন্ডে জীবিত রাখছে।

এই ছোট লাল রেখাগুলো বয়ে নিচ্ছে
অক্সিজেন, গ্লুকোজ, ইলেকট্রোলাইট, আর জীবন।

আর ভয়ের বিষয় হলো
মস্তিষ্ক শরীরের মাত্র ২%, কিন্তু ব্যবহার করে মোট অক্সিজেনের ২০%।
এবং রক্তপ্রবাহ এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হলে
সহ্য করার ক্ষমতা প্রায় শূন্য!

রক্তপ্রবাহ বন্ধ হলে:
• ১০ সেকেন্ডে জ্ঞান হারানো
• ৩–৪ মিনিটে মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি
• ৫–৬ মিনিটে মৃত্যু বা অপূরণীয় ক্ষতি

এই কোমল রক্তনালীর জালই ধরে রাখে আপনার
আপনার স্মৃতি, ব্যক্তিত্ব, কথা বলা, চলাফেরা, পুরো পরিচয়।

কোরআন বলে:

"অতঃপর আমি তাকে গড়ে তুললাম, এবং তার মধ্যে নিজ রূহ থেকে ফুঁক দিলাম।"
(সূরা সাদ 38:72)

আল্লাহ নিজ হাতে মানুষের মস্তিষ্ক, তার চেতনা, তার সত্তাকে তৈরি করেছেন
এ কারণেই এই অঙ্গটি এত মূল্যবান, এত নাজুক।

স্ট্রোক এত মারাত্মক কেন?

• একটি ছোট জমাট রক্ত একটিমাত্র ধমনী বন্ধ করলেই, সেই অংশের মস্তিষ্ক মারা যেতে শুরু করে।
• ধমনী ফেটে গেলে, রক্তচাপ আশপাশের স্নায়ুকে চাপা দেয়।
• ফুলে গেলে,আরও রক্তনালী বন্ধ হয়,
আরও মস্তিষ্ক নষ্ট হয়।

এ যেন জীবন্ত ডোমিনো
একটি পড়ে গেলে সারি ধরে ধ্বংস।

এ কারণেই ইসলাম আমাদের সতর্ক করেছে:

"নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।"
(সূরা বাকারা 2:195)

তাই নিজের প্রতি দায়িত্ব

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
কোলেস্টেরল ঠিক রাখা
ধূমপান পরিহার
পর্যাপ্ত ঘুম
মানসিক চাপ কমানো

এই মস্তিষ্ক
এটি এক কোমল, অক্সিজেন-ক্ষুধার্ত নেটওয়ার্ক…
রবের দেওয়া নিখুঁত নকশা।

**এবং এর কোন অংশ একবার নষ্ট হলে

পুনর্জন্ম হয় না।**

তাই প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি স্মৃতি
রবের অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই নয়।

"তোমরা আমার নেয়ামত স্মরণ করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।"

(সূরা বাকারাহ 2:152)
চলুন শুকরিয়া জানাই রবের, শেয়ার করে প্রিয় মানুষকে সতর্ক করি..

ডা.আমিনুল ইসলাম

06/12/2025

"বাংলাদেশ কারো প্রভুত্ব মেনে নিবে না"
- জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

বিশ্বের ৭০% অর্থের মালিক এই ৭ জন।বাকি ৩০% এর মালিক আমরা ৮০৯ কোটি জন।
23/11/2025

বিশ্বের ৭০% অর্থের মালিক এই ৭ জন।
বাকি ৩০% এর মালিক আমরা ৮০৯ কোটি জন।

18/11/2025
ফৌজদারী কার্যবিধি ৩৮২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীলোকের মৃত্যুদন্ড স্থগিত হতে পারে, যদি সে গর্ভবতী হয় 🫣আমার কথা নয় আইনের কথা 😏
17/11/2025

ফৌজদারী কার্যবিধি ৩৮২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীলোকের মৃত্যুদন্ড স্থগিত হতে পারে, যদি সে গর্ভবতী হয় 🫣
আমার কথা নয় আইনের কথা 😏

13/11/2025

এক কথায় অসাধারণ

Address

Feni

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SR Brother posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share