06/11/2025
ঘরের মাঠে পরের হয়ে ট্রেন্ট
লুইস ফিগোর দলবদলের কথা মনে আছে? কাতালানদের মহাকাব্যে খলনায়ক হয়ে বার্নাব্যুকে করেছিলেন নতুন ঘর। সেই মহাকাব্যিক দলবদলের কলকাঠি নেড়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কর্ণধার ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ, যিনি বছরের পর বছর ধরে ছড়ি ঘুরিয়ে আসছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলে।
২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি কথা দিয়েছিলেন, যদি নির্বাচিত হন তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার তারকা লুইস ফিগোকে রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সি পরাবেন। কথা রেখেছিলেন পেরেজ, অসম্ভবকে করেছিলেন সম্ভব—ফিগোকে এনেছিলেন বার্নাব্যুতে। সাদা জার্সিতে ন্যু ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন অবশ্য ফিগোর জন্য মনে রাখার মতো ছিল।
গেল মৌসুমের শুরুতে মাদ্রিদের রাইট-ব্যাক দানি কারভাহাল ইনজুরিতে পড়ে পুরো মৌসুমের জন্য ছিটকে যান। পরবর্তীতে তার জায়গায় খেলানো হয়েছিল লুকাস ভাসকেজ থেকে শুরু করে মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দেকে। কিন্তু কারভাহালের অভাব পূরণ করতে পারেননি কেউই। ফলস্বরূপ ট্রফিশূন্য থাকতে হয়েছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। কারভাহালের বয়স বেড়ে যাওয়া এবং লম্বা সময়ের জন্য ইনজুরিতে পড়ার কারণে প্রশ্ন উঠেছিল—কে হবেন কারভাহালের যোগ্য উত্তরসূরি?
অবশ্য খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি মাদ্রিদ ভক্তদের। কিছুদিন পরই গুঞ্জন শুরু হয়—লিভারপুল তারকা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড হতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের নতুন রাইট-ব্যাক। মজার বিষয় হচ্ছে, ট্রেন্ট আসছেন বিনামূল্যে। সেই কারণেই লিভারপুল ভক্তরা বেজায় চটে গিয়েছিলেন ট্রেন্টের কাণ্ডে।
গত ৪ তারিখ চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয় লিভারপুলের। ম্যাচটি এনফিল্ডে হওয়ায় সবার নজর ছিল ট্রেন্টের মাঠে নামার মুহূর্তের উপর। তবে মাঠে নামার মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি—তার আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে মাঠের বাইরে।
ট্রেন্টের জন্মস্থান, যেখানে তিনি বড় হয়েছেন (সিবিল রোড, আনফিল্ড, লিভারপুল, ইংল্যান্ড)—সেখানে ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উদ্যাপন হিসেবে ট্রেন্টের একটি মুরাল তৈরি করেছিল ভক্তরা। কিন্তু ম্যাচ শুরুর এক দিন আগে সেই মুরালে রঙ দিয়ে বিকৃত করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছিল “rat” এবং স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল “Adios el rata”, যার বাংলা অর্থ “বিদায় ইঁদুর”। স্পষ্টতই লিভারপুল ভক্তরা ট্রেন্টের লিভারপুল ছাড়াকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখছে।
ইনজুরির কারণে বেশ কিছু ম্যাচ দলের বাইরে ছিলেন ট্রেন্ট। সাম্প্রতি ইনজুরি থেকে ফিরলেও শুরুর একাদশে ছিলেন না গত দুই ম্যাচে। আগেই অনুমান করা যাচ্ছিল, লিভারপুলের বিপক্ষে তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে না। তবে খেলা শুরুর আগে ওয়ার্ম-আপের সময় প্রথমবারের মতো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এনফিল্ডে প্রবেশের সময়ই বু দেন লিভারপুল ভক্তরা।
যিনি একসময় ছিলেন লিভারপুলের রক্ষণভাগের প্রাণভোমরা—যাকে ভাবা হচ্ছিল লিভারপুলের ভবিষ্যৎ লিজেন্ড—তাকেই এনফিল্ডে এভাবে বু শুনতে হবে, তা হয়তো লিভারপুল ভক্তরাও কখনও কল্পনা করতে পারেননি। কিন্তু ফুটবলে এটা হয়। আগেও হয়েছে। মাঠে বা মাঠের বাইরে—যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে বদলি হিসেবে নামানো হয় ট্রেন্টকে। রিয়াল মাদ্রিদ তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে। প্রথমবারের মতো সাদা জার্সিতে এনফিল্ডে নামেন ট্রেন্ট। ৬৬ নাম্বার লাল জার্সির সেই আবেগ ভুলে সাদা জার্সিতে অভিষেক হয় এনফিল্ডে। মাঠে নামার সময়ও বু দেন সমর্থকরা। এছাড়া খেলায় যখনই ট্রেন্টের পায়ে বল গিয়েছে, সমর্থকরা বু দিয়েছেন এই সাবেক লিভারপুল তারকাকে।
মাঠে নামলেও জয় নিয়ে ফিরতে পারেন নি ট্রেন্ট। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড থেকে একমাত্র গোলে লিভারপুল জয় পায় ১-০ ব্যবধানে। বিগত কিছু ম্যাচে লিভারপুলের ফর্ম ভালো না গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৮ নম্বরে অবস্থান করছে লিভারপুল। সমান ম্যাচ ও সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ডিফারেন্সে এগিয়ে থেকে ৭ নম্বরে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ।