01/09/2026
বাড়ি থেকে মা ফোন দিয়ে শুধু বলে—
“বাবা, এখনো কি তোমার চাকরি হয়নি? তোমার বাবা দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। তোমার ছোট বোনটাও বড় হয়ে গেছে, তার বিয়ে দিতে হবে। সংসারে কত খরচ… আমরা আর কতদিন এভাবে চলব?”
ছেলেটা ওপাশ থেকে নীরবে সব শুনে যায়।
কিন্তু কোনো উত্তর দিতে পারে না।
কারণ তার নিজের কাছেই তো কোনো উত্তর নেই! 😔
প্রতিদিন হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে এক অফিসের গেট থেকে আরেক অফিসের গেটে ঘুরে বেড়ায়। চোখে চাকরির স্বপ্ন, আর বুকের ভেতর হাজারটা দায়িত্ব। অথচ কোথাও একটা চাকরি হচ্ছে না।
গার্মেন্টসে নিয়োগ থাকলেও অভিজ্ঞতা ছাড়া অনেক জায়গায় সুযোগ নেই। কোথাও আবার পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে নারী শ্রমিকদেরই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তাহলে এই ছেলেগুলো যাবে কোথায়?
স্বপ্ন ছিল—পড়াশোনা শেষ করে একদিন সরকারি চাকরি করবে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে। কিন্তু আজ একটা সাধারণ চাকরির জন্যও তাকে দিনের পর দিন মানুষের দরজায় ঘুরতে হচ্ছে।
বাবার চিকিৎসা দরকার, বোনের বিয়ে দিতে হবে, সংসারের দায়িত্ব আছে—সবকিছু যেন একসাথে তার কাঁধে এসে পড়েছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—
এই দুঃখগুলো শোনার মতো মানুষও তার নেই।
যে দেশে শিক্ষিত তরুণের হাতে সার্টিফিকেট থাকে, কিন্তু কাজ থাকে না—
যে দেশে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অভাবে স্বপ্নগুলো প্রতিদিন ভেঙে যায়—
সেই বৈষম্যের অবসান কবে হবে?
এই সিস্টেমের পরিবর্তন কবে হবে?
শিক্ষা ও শ্রমের প্রকৃত মূল্যায়ন কবে হবে?
আর এই ছেলেটার মতো হাজারো তরুণের ভবিষ্যৎই বা কী?