16/05/2021
#কালিয়াকৈর_উপজেলার_ইতিহাস
#পরিচিতি_পর্বঃ১
#কালিয়াকৈর_উপজেলাঃ
বাংলাদেশে কালিয়াকৈর উপজেলার অবস্থানঃ-
স্থানাঙ্কঃ ২৪°৪′৩৪″ উত্তর ৯০°১২′৫১″ পূর্বস্থানাঙ্কঃ ২৪°৪′৩৪″ উত্তর ৯০°১২′৫১″ পূর্ব
দেশঃ বাংলাদেশ
বিভাগঃ ঢাকা বিভাগ
জেলাঃ গাজীপুর জেলা
আয়তনঃ
• মোট ৩১৪.১৪ বর্গকিঃমিঃ (১২১.২৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (১৯৯১)
• মোট ২,৩২,৯১৫
• জনঘনত্ব ৭৪০/বর্গকিঃমিঃ (১,৯০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চলঃ বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোডঃ ১৭৫০
প্রশাসনিক বিভাগের কোডঃ ৩০ ৩৩ ৩২
কালিয়াকৈর উপজেলা বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।
অবস্থানঃ
গাজীপুর সদর উপজেলার পশ্চিমে ২৪.৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.১৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা অংশে কালিয়াকৈর উপজেলা অবস্থিত। এই উপজেলার উত্তরে শ্রীপুর উপজেলা ও সখিপুর উপজেলা, পূর্বে গাজীপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে সাভার উপজেলা ও ধামরাই উপজেলা এবং পশ্চিমে মির্জাপুর উপজেলা অবস্থিত। কালিয়াকৈর থানার পাশে একটি হাইটেক সিটি রয়েছে যার নাম বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি।
নামকরণঃ
কালিয়াকৈর উপজেলা গাজীপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা। এই উপজেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি।তবে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত একটা ধারণা আছে যে, একটা পুকুরে কালিয়া নাগ নামে একটা বড় সাপ ছিল। কালক্রমে সেই কালিয়ানাগ এর কালিয়া এবং পুকুর এর কৈরা এই দুই শব্দ মিলে কালিয়াকৈর নামকরণ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ইতিহাসঃ
কালিয়াকৈর একসময় সাভার থানার অন্তর্গত ছিল। কালিয়াকৈর থানা গঠিত হয় ১৯২৩ সালে এবং ১৯৮৩ সালের ২ জুলাই থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।
প্রশাসনিক এলাকাঃ
👉 এ উপজেলায় ১ টি পৌরসভা ও ৯ টি ইউনিয়ন রয়েছে; এগুলো হলোঃ-
• কালিয়াকৈর পৌরসভা;
• ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন;
• চাপাইর ইউনিয়ন;
• বোয়ালী ইউনিয়ন;
• মৌচাক ইউনিয়ন;
• শ্রীফলতলী ইউনিয়ন ;
• সূত্রাপুর ইউনিয়ন;
• আটাবহ ইউনিয়ন;
• মধ্যপাড়া ইউনিয়ন;
• ঢালজোড়া ইউনিয়ন।
ভাষা ও সংষ্কৃতিঃ
শ্রীপুর উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কথ্য ভাষায় মহাপ্রাণধ্বনি অনেকাংশে অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা রয়েছে। উপজেলা উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে সন্নিহিত ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ঢাকার ভাষার অনেকটা মিল রয়েছে। শীতলক্ষা নদীর গতিপ্রকৃতি পাদদেশে শ্রীপুর, মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এই এলাকার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে শ্রীপুর সভ্যতা বহুপ্রাচীন। এই এলাকায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন সভ্যতার বাহক হিসেবে দেদীপ্যমান। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে শ্রীপুর অবদানও অনস্বীকার্য। প্রমুখ শিল্প সাহিত্য ভুবনবিখ্যাত সংগীতজ্ঞদের স্মৃতি বিজড়িত শ্রীপুর।
কালিয়াকৈর থানার একটি গ্রামের নাম খালপাড়।
যা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অনেক ভূমিকা রেখেছে।
⚽🥎🎾🏏🏑🏆খেলাধুলা ও বিনোদনঃ
প্রাচীনকাল থেকেই কালিয়াকৈর উপজেলা জনেগাষ্ঠী ক্রীড়ামোদী। এখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেই। কালিয়াকৈরে বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে। প্রতি বছর নিম্নলিখিত ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ঃ
(ক) গোল্ডকাপ ফুটবল
(খ) প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ
(গ) ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ
(ঘ) বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ।
(ঙ) বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ।
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলায় গত ২০১২সালে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাটমিন্টন,
📽️ ০২টি সিনেমাহল এবং নন্দনপার্ক
📸 দর্শনীয় এবং গুরুত্বপুর্ণ স্থানসমূহঃ
• তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ।
• জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
• আনসার একাডেমী ।
• বলিয়াদী জমিদার বাড়ী।
• শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ী।
• নন্দন পার্ক ।
• বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি ইত্যাদি।
👉 এছাড়াও মৌচাক ইউনিয়নের বাঁশতলী গ্রামে সাম্প্রতিককালে ৩০০ বছরের পুরানো একটি সাদা পাকুড় গাছ আবিস্কৃত হয়েছে যা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় নি। গাছটিকে ঘিরে পর্যটনশিল্প গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
নদ-নদীঃ
তুরাগনদী, বংশাই নদী,
এখানে একটি তুরাগ নদী আছে যা খালপাড় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। তুরাগ নদীটি শিল্পকারখানার দূষিত পানির কবলে পরে স্বীয় সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে।