Flikymation

Flikymation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Flikymation, Digital creator, Gazipur.

Flikymation-এ আপনাকে স্বাগতম! এখানে আপনি পাবেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ইতিহাসের রোমাঞ্চকর সব গল্পের বিস্তারিত ও সিনেমাটিক ডকুমেন্টারি। আমাদের সাথেই থাকুন, হারিয়ে যান অন্য এক যুগে।

16/08/2026

মক্কা থেকে মদিনার হিজরত ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি।
কুরাইশের ষড়যন্ত্র, গোপন প্রস্তুতি, ভিন্ন পথের পরিকল্পনা, সাওর গুহায় অবস্থান, অনুসরণকারীদের অনুসন্ধান এবং শেষ পর্যন্ত মদিনায় পৌঁছানো—পুরো ঘটনাপ্রবাহ আমাদের শেখায় পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের প্রকৃত অর্থ।
আল্লাহ বলেন:
“দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।”
— সূরা আত-তাওবা, ৯:৪০
এই ভিডিওটি ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কুরআন ও নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বর্ণনার আলোকে তুলে ধরেছে।
ভিডিওটি ভালো লাগলে Like 👍 করুন, Share 🔄 করুন এবং Follow/Subscribe করুন।
আপনার একটি Share হয়তো এই ইতিহাস এমন একজন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, যে এখনও এটি জানে না।
Sadaqah Jariyah-এর নিয়তে শেয়ার করুন।
🔎 Keywords
হিজরত, হিজরতের ইতিহাস, হিজরত মক্কা থেকে মদিনা, রাসূলের হিজরত, সাওর গুহা, গারে সাওর, মক্কার ইতিহাস, মদিনার ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামিক ইতিহাস, হিজরত ঘটনা, Hijrah, Hijrah history, Makkah to Madinah, Cave of Thawr, Islamic History, Seerah
#️⃣ Hashtags
#হিজরত #ইসলামের_ইতিহাস #সাওর_গুহা #মক্কা #মদিনা #ইসলামিক_ইতিহাস #হিজরতের_ইতিহাস

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল—মসজিদুল হারাম থেকে এক অলৌকিক যাত্রা শুরু হলো, যার গন্তব্য ছিল আসমানের সীমা পেরিয়ে মহান আল্লাহর...
15/08/2026

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল—মসজিদুল হারাম থেকে এক অলৌকিক যাত্রা শুরু হলো, যার গন্তব্য ছিল আসমানের সীমা পেরিয়ে মহান আল্লাহর বিশেষ নিদর্শনসমূহ দর্শন!

মক্কার সেই রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন মসজিদুল হারামে। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে এমন এক বিশেষ সফরে নিয়ে গেলেন, যার কথা কুরআন নিজেই ঘোষণা করেছে।

প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত। কুরআনে আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে সেই মসজিদে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার চারপাশ তিনি বরকতময় করেছিলেন—যাতে তাঁকে তাঁর নিদর্শন দেখাতে পারেন।

মসজিদুল আকসায় রাসূলুল্লাহ ﷺ নবীদের ইমাম হয়ে নামাজ আদায় করলেন।

এরপর শুরু হলো আরও বিস্ময়কর যাত্রা।

তাঁকে আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। প্রথম আসমানের দরজায় পৌঁছালে জিবরীল (আ.) দরজা খোলার অনুমতি চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? জিবরীল (আ.) উত্তর দিলেন। তাঁর সঙ্গে কে আছেন—জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, মুহাম্মদ ﷺ।

তখন জিজ্ঞেস করা হলো—তাঁকে কি ডাকা হয়েছে?

উত্তর এলো—হ্যাঁ।

দরজা খুলে গেল।

প্রথম আসমানে রাসূলুল্লাহ ﷺ আদম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। এরপর একে একে পরবর্তী আসমানগুলো অতিক্রম করতে থাকলেন—দ্বিতীয় আসমানে ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারূন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মূসা (আ.), এবং সপ্তম আসমানে ইবরাহীম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো।

তারপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত।

সেখানে তিনি তাঁর রবের মহান নিদর্শনসমূহের কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করলেন—এমন বাস্তবতা, যা মানুষের কল্পনার সীমার বহু ঊর্ধ্বে।

আর এই মহারাত্রির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার ছিল পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।

আল্লাহ প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করেছিলেন। পরে মূসা (আ.)-এর পরামর্শ এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বারবার ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে করা হয়—কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান রাখা হলো পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান।

এটি ছিল শুধু একটি রাতের সফর নয়।

এটি ছিল আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক মহিমান্বিত নিদর্শন—যেখানে পৃথিবীর এক নবীকে আসমানের একের পর এক দরজা অতিক্রম করিয়ে এমন কিছু দেখানো হয়েছিল, যা মানবজাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত বিস্ময়ের বিষয় হয়ে থাকবে।

সূত্র: সূরা আল-ইসরা ১৭:১; সহিহ আল-বুখারি; সহিহ মুসলিম.

রাসূলুল্লাহ ﷺ যাদেরকে বিয়ে করেছিলেন, অবাক করা বিষয়—তাঁদের চারজনেরই বোনকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ে করেছিলেন একজন সাহাবী! কে ছিলে...
14/08/2026

রাসূলুল্লাহ ﷺ যাদেরকে বিয়ে করেছিলেন, অবাক করা বিষয়—তাঁদের চারজনেরই বোনকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ে করেছিলেন একজন সাহাবী! কে ছিলেন সেই সাহাবী?

তিনি ছিলেন তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ (রা.)—রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্যতম সাহাবী এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবির একজন। ঐতিহাসিক বর্ণনায় তাঁর চারটি বিবাহের কথা পাওয়া যায়—উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর বোন উম্মু কুলসুম, যায়নাব বিনতে জাহশ (রা.)-এর বোন হামনা, উম্মু হাবিবা (রা.)-এর বোন ফারিয়া এবং উম্মু সালামা (রা.)-এর বোন রুকাইয়্যার সঙ্গে।

কিন্তু এই আশ্চর্য পারিবারিক সম্পর্কের চেয়েও তালহা (রা.)-এর জীবনের আরেকটি দিক ছিল আরও বিস্ময়কর—তাঁর দানশীলতা।

তিনি এমন মানুষ ছিলেন, যাঁর কাছে সম্পদ ছিল মানুষের প্রয়োজন পূরণের একটি আমানত।

এক বর্ণনায় কুবাইসা ইবন জাবির বলেন, তিনি তালহা (রা.)-এর সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর মতো বিপুল সম্পদ কাউকে মানুষের চাওয়ার আগেই উদারভাবে বিলিয়ে দিতে দেখেননি।

কল্পনা করুন—একজন মানুষ নিজের কাছে সম্পদ জমিয়ে রাখছেন না; বরং মানুষের প্রয়োজন দেখলেই তার দরজা খুলে যাচ্ছে।

কেউ সাহায্য চাইছে—তিনি দিচ্ছেন।

কেউ অভাবে আছে—তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

কেউ প্রয়োজনের কথা বলার আগেই তার প্রয়োজন বুঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এটাই ছিল তাঁর চরিত্রের সৌন্দর্য।

তালহা (রা.) আমাদের শেখান, মানুষের মর্যাদা শুধু তার সম্পদে নয়; বরং সেই সম্পদ দিয়ে সে কত মানুষের উপকার করেছে, তার মধ্যেই প্রকৃত সৌন্দর্য।

একজন সাহাবির জীবন আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়—

আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন, তা কি শুধু আমাদের জন্য?

নাকি আমাদের সম্পদের মধ্যেও লুকিয়ে আছে অন্য মানুষের অধিকার?

তালহা (রা.)-এর জীবন যেন সেই প্রশ্নের এক জীবন্ত উত্তর—সম্পদ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় হয়, তখন তা শুধু সম্পদ থাকে না; মানুষের জন্য কল্যাণের মাধ্যম হয়ে যায়।

“বাইরুহা—এখনই আল্লাহর পথে দিয়ে দাও!”—রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কথায় যেন মুহূর্তেই থমকে গেল মদিনার সেই বিশাল সবুজ বাগানের বাতাস।...
14/08/2026

“বাইরুহা—এখনই আল্লাহর পথে দিয়ে দাও!”—রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কথায় যেন মুহূর্তেই থমকে গেল মদিনার সেই বিশাল সবুজ বাগানের বাতাস।

মদিনার প্রখর রোদে বাগানটি ছিল ছায়া, ফল আর মিষ্টি পানির এক অপূর্ব আশ্রয়। এর নাম ছিল বাইরুহা। আর এটি ছিল আনসারি সাহাবি আবু তালহা (রা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ।

তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন। ঘন খেজুরগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ফলভরা ডালপালা দেখতেন, বাগানের পানির সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। কিন্তু একদিন তাঁর হৃদয় কেঁপে উঠল কুরআনের একটি আয়াতে—

“তোমরা কখনো প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।”

আবু তালহা (রা.) বুঝলেন—এটি শুধু পড়ার আয়াত নয়; এটি তাঁর জন্য একটি পরীক্ষা।

তিনি ছুটে গেলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে।

তাঁর সামনে নিজের প্রিয় সম্পদের কথা জানিয়ে বললেন, এই বাগান তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সদকা করে দিতে চান। তাঁর চোখের সামনে তখনও ভেসে উঠছিল সেই বাগানের ছায়া, পানি আর ফলের দৃশ্য—কিন্তু ঈমানের কাছে প্রিয় সম্পদের আকর্ষণ ছোট হয়ে গেল।

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর এই সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করলেন এবং তাঁকে পরামর্শ দিলেন, বাগানটি তাঁর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সদকা করতে।

আবু তালহা (রা.) আর এক মুহূর্তও দ্বিধা করলেন না।

তিনি তাঁর প্রিয় বাগানটি আল্লাহর পথে দিয়ে দিলেন।

যে সম্পদ তিনি ভালোবাসতেন, সেটিই হয়ে গেল তাঁর জন্য আখিরাতের পুঁজি।

মদিনার সেই বাগানের গাছগুলো হয়তো বাতাসে আগের মতোই দুলছিল। পাখিরা হয়তো আগের মতোই ডালে বসছিল। মানুষ হয়তো সেই পানি ও ফলের উপকার নিচ্ছিল।

কিন্তু মালিকের হৃদয়ে তখন এক বিশাল পরিবর্তন ঘটে গেছে।

তিনি দেখিয়ে দিলেন—সদকা শুধু অতিরিক্ত সম্পদ থেকে দেওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সত্যিকারের ত্যাগ হলো এমন কিছু আল্লাহর জন্য ছেড়ে দেওয়া, যেটিকে আমরা নিজের হৃদয়ের খুব কাছের মনে করি।

বাইরুহা তাই শুধু একটি বাগানের নাম হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে ঈমানের এক জীবন্ত শিক্ষা—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার শিক্ষা।

গারে সওরে মৃত্যুর নিঃশ্বাসপায়ের শব্দটা এবার একেবারে গুহার মুখে—আর আবু বকর (রা.) বুঝতে পারলেন, আর একবার নিচে তাকালেই অনু...
14/08/2026

গারে সওরে মৃত্যুর নিঃশ্বাস

পায়ের শব্দটা এবার একেবারে গুহার মুখে—আর আবু বকর (রা.) বুঝতে পারলেন, আর একবার নিচে তাকালেই অনুসরণকারীরা তাঁদের দেখে ফেলতে পারে!

মক্কা পেছনে ফেলে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও আবু বকর (রা.) হিজরতের পথে গারে সওরে আশ্রয় নিয়েছেন। বাইরে তখন অনুসরণকারীদের তীব্র অনুসন্ধান। তারা এত কাছে চলে এসেছে যে আবু বকর (রা.) নিচে তাকিয়ে তাদের পা দেখতে পাচ্ছিলেন।

এক মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি যেন থমকে গেল।

আবু বকর (রা.) বললেন, তাদের কেউ যদি নিজের পায়ের নিচে তাকায়, তাহলে সে আমাদের দেখে ফেলবে।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্তর ছিল সম্পূর্ণ আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বললেন, “দুজন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয়জন আল্লাহ?”

তারপর তিনি আবু বকর (রা.)-কে আশ্বস্ত করলেন—

“দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।”

গুহার বাইরে অনুসরণকারীরা দাঁড়িয়ে। ভেতরে মাত্র দুজন মানুষ। কোনো বাহ্যিক শক্তি নেই, কোনো সেনাবাহিনী নেই, পালানোর পথও নেই। অথচ রাসূল ﷺ-এর কণ্ঠে ভয়ের পরিবর্তে ছিল আল্লাহর ওপর অটুট বিশ্বাস।

এই মুহূর্তটি শুধু হিজরতের একটি ঘটনা ছিল না—এটি ছিল তাওয়াক্কুলের এক জীবন্ত শিক্ষা।

কুরআন পরে সেই ঘটনাকে চিরস্থায়ী করে দিল:

“যখন তারা দুজন গুহায় ছিল, তখন সে তার সঙ্গীকে বলেছিল, ‘দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’”

আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺ-কে সাহায্য করলেন এবং শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো।

গুহার অন্ধকারে সেই রাত শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের আলো হয়ে উঠল।

কারণ কখনো কখনো মানুষ যখন মনে করে—সব পথ বন্ধ, তখনই মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সত্যটি সামনে আসে:

আল্লাহ সঙ্গে থাকলে, একা হওয়া মানেই অসহায় হওয়া নয়।

সূরা আত-তাওবা ৯:৪০ এবং সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত এই ঘটনা হিজরতের সবচেয়ে গভীর মুহূর্তগুলোর একটি।

উসমান (রা.) ও রূমার কূপমদিনার তপ্ত মাটিতে মানুষ পানির জন্য ছুটছে—আর একটি কূপের পানি যেন মানুষের তৃষ্ণার চেয়েও বেশি দামী...
14/08/2026

উসমান (রা.) ও রূমার কূপ

মদিনার তপ্ত মাটিতে মানুষ পানির জন্য ছুটছে—আর একটি কূপের পানি যেন মানুষের তৃষ্ণার চেয়েও বেশি দামী হয়ে উঠেছে!

মদিনায় তখন পানির সংকট। রূমার কূপে পানি ছিল, কিন্তু সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় মানুষের জন্য সহজলভ্য ছিল না। প্রয়োজনের সময় পানির মূল্য দিতে হতো, আর দরিদ্র মানুষ পড়ত কঠিন সমস্যায়।

এই পরিস্থিতিতে রাসূল ﷺ মানুষের কল্যাণের জন্য রূমার কূপের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।

তখন উসমান ইবন আফফান (রা.) এগিয়ে এলেন।

তিনি বুঝেছিলেন—এটি শুধু একটি কূপ নয়। এটি মানুষের তৃষ্ণা নিবারণের একটি সুযোগ, এমন একটি দান যার উপকার বহু মানুষ পেতে পারে।

উসমান (রা.) কূপের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করলেন এবং কূপের অংশ ক্রয় করলেন। এরপর তিনি নিজের অংশ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন।

কিন্তু এখানেই তাঁর দানের মাহাত্ম্য শেষ হয়নি।

দিনের পর দিন মানুষ সেই কূপে পানি নিতে আসতে লাগল। কেউ নিজের পাত্র ভরছে, কেউ পরিবারের জন্য পানি নিয়ে যাচ্ছে, কেউ পশুকে পানি পান করাচ্ছে। একজনের সম্পদ পরিণত হলো অসংখ্য মানুষের উপকারের মাধ্যম।

কূপের পাশে মানুষের চলাচল বাড়ল। তৃষ্ণার্ত মুখগুলোতে স্বস্তি ফিরে এলো। আর উসমান (রা.)-এর দান নীরবে প্রমাণ করল—আল্লাহর পথে ব্যয় করা সম্পদ কখনো সত্যিকার অর্থে হারিয়ে যায় না।

একটি কূপ, কিন্তু তার উপকার অসংখ্য মানুষের কাছে।

একটি দান, কিন্তু তার প্রভাব বহুদিন ধরে চলমান।

এটাই সাদাকাহ জারিয়াহর শক্তি—এমন কল্যাণ, যার উপকার মানুষ পেতে থাকে।

মদিনার সেই পানির কূপ আমাদের সামনে এক গভীর প্রশ্ন রেখে যায়—

আমাদের হাতে থাকা সম্পদ কি শুধু আজকের জন্য, নাকি এমন কোনো ভালো কাজে ব্যয় করা যায় যার উপকার আমাদের অনুপস্থিতিতেও চলতে থাকবে?

উসমান (রা.)-এর দানের শিক্ষা আজও স্পষ্ট: মানুষের প্রয়োজন পূরণে ব্যয় করা সম্পদ আল্লাহর কাছে অমূল্য হয়ে উঠতে পারে।

মেরাজের মহিমান্বিত রজনীহঠাৎ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল—এক অসাধারণ যাত্রার দরজা খুলে গেল, যার বিস্ময় মানবজগতের সমস্ত সীমা...
14/08/2026

মেরাজের মহিমান্বিত রজনী

হঠাৎ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল—এক অসাধারণ যাত্রার দরজা খুলে গেল, যার বিস্ময় মানবজগতের সমস্ত সীমা অতিক্রম করবে!

মক্কার সেই রাত। চারদিকে নীরবতা, আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র। আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রস্তুত করলেন এক মহিমান্বিত সফর—ইসরা ও মেরাজ।

বুরাকের ওপর আরোহন করে তিনি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় পৌঁছালেন। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীদের ইমামতি করে সালাত আদায় করলেন। এরপর শুরু হলো আসমানের দিকে সেই অভূতপূর্ব ঊর্ধ্বযাত্রা।

প্রথম আসমানের দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্ত। ভেতর থেকে প্রশ্ন এলো—কে? উত্তর দেওয়া হলো, জিবরীল। তাঁর সঙ্গে কে? উত্তর—মুহাম্মদ ﷺ। অনুমতি মিলল।

এক এক করে আসমানের দরজা খুলতে লাগল।

প্রথম আসমানে সাক্ষাৎ হলো আদম (আ.)-এর সঙ্গে। দ্বিতীয় আসমানে ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.)। তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ.)। চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.)। পঞ্চম আসমানে হারূন (আ.)। ষষ্ঠ আসমানে মূসা (আ.)। আর সপ্তম আসমানে ইবরাহিম (আ.)।

প্রতিটি আসমান যেন এক নতুন বিস্ময়ের দরজা।

এরপর সামনে এলো সিদরাতুল মুনতাহা—সৃষ্টিজগতের এক মহিমান্বিত সীমান্ত। তার সৌন্দর্য ও বিশালতা মানুষের কল্পনারও বাইরে। সেখানে তিনি আল্লাহর মহান নিদর্শনসমূহের কিছু প্রত্যক্ষ করলেন।

এই সফরের অন্যতম মহৎ উপহার ছিল সালাত।

প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল। এরপর মূসা (আ.)-এর পরামর্শে রাসূল ﷺ বারবার আল্লাহর কাছে উম্মতের জন্য সহজতার আবেদন করেন। অবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারিত হলো, কিন্তু তার সওয়াব রাখা হলো পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান।

তারপর সেই মহিমান্বিত সফর সমাপ্ত হলো।

রাত শেষ হওয়ার আগেই রাসূল ﷺ মক্কায় ফিরে এলেন। পৃথিবীর মানুষ তখনও ঘুমিয়ে। কিন্তু আসমানের সেই সফর রেখে গেল এমন এক শিক্ষা, যা কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মুমিনের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

সালাত শুধু একটি আমল নয়—এটি সেই মহিমান্বিত মেরাজের স্মৃতি, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

অন্ধকার রাতের শেষে মক্কার আকাশ আবার নীরব হয়ে গেল। কিন্তু সেই রাতের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে চিরদিনের জন্য হয়ে রইল এক অকল্পনীয় মহিমার অধ্যায়।

উহুদের রণাঙ্গনে—যে হাত হয়ে গেল ঢালতীরগুলো একের পর এক ছুটে আসছিল—আর ঠিক তখনই এক সাহাবি নিজের হাত বাড়িয়ে দিলেন, যেন তাঁ...
14/08/2026

উহুদের রণাঙ্গনে—যে হাত হয়ে গেল ঢাল

তীরগুলো একের পর এক ছুটে আসছিল—আর ঠিক তখনই এক সাহাবি নিজের হাত বাড়িয়ে দিলেন, যেন তাঁর নিজের শরীরটাই হয়ে গেল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ঢাল!

উহুদের ময়দান তখন ধুলো, চিৎকার আর সংঘর্ষে পূর্ণ। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিম বাহিনীর অনেকেই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন। কিন্তু ত্বলহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে সরে গেলেন না।

শত্রুর আক্রমণ যখন সামনে থেকে এগিয়ে আসছিল, ত্বলহা (রা.) নিজের শরীর দিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে রক্ষা করতে থাকলেন। আঘাতের ভয় তাঁর কাছে নিজের জীবনের চেয়েও ছোট হয়ে গেল।

একটি তীর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দিকে আসতেই ত্বলহা (রা.) নিজের হাত দিয়ে তা প্রতিহত করলেন।

আঘাত থামেনি।

যুদ্ধ শেষ হলো। ধুলো ধীরে ধীরে বসে গেল। কিন্তু ত্বলহা (রা.)-এর সেই হাত আর আগের মতো রইল না।

কাইস ইবনু আবি হাযিম (রহ.) পরবর্তীতে তাঁর সেই হাত দেখেছিলেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছিলেন—যে হাত দিয়ে ত্বলহা (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে রক্ষা করেছিলেন, সেই হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

কিন্তু উহুদের সেই মুহূর্তে ত্বলহা (রা.) নিজের হাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেননি। তাঁর সামনে ছিল শুধু একটি লক্ষ্য—আল্লাহর রাসুল ﷺ-কে রক্ষা করা।

আর এই আত্মত্যাগের দৃশ্য উহুদের ময়দানে একা ছিল না। সহিহ বুখারির আরেক বর্ণনায় এসেছে, আবু তালহা (রা.)-ও নিজের ঢাল দিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে আড়াল করে রেখেছিলেন এবং বলেছিলেন, শত্রুর তীর যেন রাসুল ﷺ-এর কাছে না পৌঁছে—প্রয়োজনে তাঁর নিজের ঘাড় সামনে থাকুক।

উহুদের মাটি তাই শুধু যুদ্ধের ইতিহাস বহন করে না।

এটি বহন করে ভালোবাসার এমন এক সাক্ষ্য—যেখানে নিজের শরীরের ক্ষতকে তুচ্ছ মনে হয়েছিল, কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিরাপত্তাকে মনে হয়েছিল সবচেয়ে মূল্যবান।

একজন সাহাবির সেই হাত আজও আমাদের সামনে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—

আল্লাহর জন্য আমরা আসলে কতটা ত্যাগ করতে প্রস্তুত?

যে উটটি অভিযোগ করেছিলউটটি হঠাৎ এমনভাবে কাঁদতে শুরু করল যে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দৃষ্টি সেদিকেই ছুটে গেল—তার চোখ দিয়ে অশ্রু গ...
14/08/2026

যে উটটি অভিযোগ করেছিল

উটটি হঠাৎ এমনভাবে কাঁদতে শুরু করল যে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দৃষ্টি সেদিকেই ছুটে গেল—তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল, আর বুক থেকে বের হচ্ছিল গভীর কষ্টের শব্দ!

একটি বাগানের পাশে রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের সঙ্গে ছিলেন। সেখানে একটি উট দাঁড়িয়ে ছিল। নবী ﷺ যখন তার কাছে গেলেন, উটটি যেন নিজের সমস্ত কষ্ট তাঁর সামনে প্রকাশ করে দিল।

রাসুলুল্লাহ ﷺ তার মাথার পেছনে হাত বুলিয়ে দিলেন। উটটি শান্ত হতে শুরু করল।

তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এই উটটির মালিক কে?”

এক আনসারি যুবক এগিয়ে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল ﷺ, এটি আমার।”

রাসুলুল্লাহ ﷺ তখন তাকে এমন একটি সতর্কবাণী দিলেন, যা শুধু সেই মালিকের জন্য নয়—প্রত্যেক প্রাণীর মালিকের জন্য।

তিনি বললেন, “তুমি কি এই প্রাণীটির ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো না, যাকে আল্লাহ তোমার মালিকানাধীন করেছেন? এটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে তুমি তাকে ক্ষুধার্ত রাখো এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করাও।”

সাহাবিরা নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন।

যে প্রাণী মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারে না, তার কষ্টও আল্লাহর কাছে অজানা নয়।

উটটি তার মালিকের কাছে সম্পদ ছিল। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—মালিকানা মানে ইচ্ছামতো অত্যাচার করার অধিকার নয়; বরং যার ওপর তোমার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার হক আদায় করা তোমার আমানত।

একটি ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, তাকে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া, অযথা বোঝা না চাপানো—এসবও মানুষের দয়া ও নেক আমলের অংশ।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই উট যেন নীরবে পুরো মানবজাতিকে একটি প্রশ্ন করে যাচ্ছিল—

“তোমার হাতে যাদের দুর্বলতা, তাদের সঙ্গে তুমি কেমন আচরণ করো?”

কারণ শক্তিশালী হওয়া পরীক্ষা নয়; শক্তির অধিকারী হয়েও দুর্বল প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানোই আসল পরীক্ষা।

আর সেই দিন একটি উটের অশ্রু মুসলিমদের শিখিয়ে দিল—আল্লাহর সৃষ্টি কোনো প্রাণীর কষ্টকেও অবহেলা করা যায় না।

12/08/2026

কুরাইশদের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র | ইসলামের ইতিহাসের অবিশ্বাস্য অধ্যায়
মক্কার নির্যাতন থেকে বাঁচতে মুসলিমরা যখন আবিসিনিয়ায় হিজরত করলেন, তখন কুরাইশরা তাদের ফিরিয়ে আনতে পাঠাল দুই কূটনীতিক—আমর ইবনে আল-আস ও আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়াহ।
সঙ্গে ছিল মূল্যবান উপঢৌকন, কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।
কিন্তু তারা জানত না—আবিসিনিয়ার দরবারে এমন একজন ন্যায়পরায়ণ সম্রাট অপেক্ষা করছেন, যিনি সত্য কথা না শুনে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
তারপর নাজ্জাশীর দরবারে দাঁড়ালেন জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)।
একটি ভাষণ।
কয়েকটি সত্য কথা।
আর সূরা মারইয়ামের আয়াত...
এরপর নাজ্জাশীর দরবারে যা ঘটেছিল, তা ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।
🎬 পুরো ঘটনাটি দেখুন এবং জানুন—কীভাবে কুরাইশদের বিশাল কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র নাজ্জাশীর ন্যায়বিচারের সামনে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল।
আপনার কাছে এই ঘটনার কোন অংশটি সবচেয়ে বেশি হৃদয়স্পর্শী মনে হয়েছে? কমেন্টে জানাতে পারেন।
#নাজ্জাশী #ইসলামেরইতিহাস #জাফরইবনেআবিতালিব

Address

Gazipur
1751

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Flikymation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share