
31/03/2024
৫০০ টাকা কেজিতে গরুর গোশত খেতে চাচ্ছেন? তাহলে এই বিষয়গুলো আপনার জানা উচিৎ।
আপনি কি কসাইয়ের কাটিং গরু
আর
কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা সুন্দর রং, সুন্দর গঠন, উন্নত জাত, সুষম খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে হৃষ্টপুষ্ট করা গরু গুলোকে একই মনে করেন?
যদি কোন ব্যবধান আপনার চোখে না পরে, তাহলে আপনি ভুল। কুরবানির শর্ত - “কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর” গরু গুলোই দেশের বড় বড় খামারে কুরবানির জন্য লালন পালন করা হয় যা দেশের মোট কুরবানির পশুর ১-২% এর বেশি হবে না। যদি মনে করে থাকেন গোশতের দাম বৃদ্ধিতে বড় বড় খামারিদের হাত, তাহলে আপনি আবারো ভুল করলেন।
তবে বলতে পারেন খামারে গরুর দাম বেশি, কেন হবে না? হাট বাজারের সেরা সেরা গরু গুলা বাছাই করে খামারিরা গরু সংগ্রহ করে থাকে। ঐ গরু গুলার দাম কসাই গরু থেকে অনেক বেশি দিয়েই ক্রয় করতে হয়। আপনি কি জানেন? এভারেজ থেকে শুধু ২-৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ প্রস্থে লম্বা গরু হলেই কসাই গরু থেকে মন প্রতি ৫-১০ হাজার বেশি দিয়ে কিনতে হয়? আর যদি থাকে সুন্দর রং, সুন্দর গঠন, বড় নাভি, ঝুলন্ত গলকম্বল যেগুলা আপনারাই কুরবানির জন্য পছন্দ করে থাকেন, তাহলেতো কোন কথাই নাই। ঐ গরু গুলাতো আর গোশতের হিসেবে কিনতে পারেনা খামারিরা। উন্নত জাতের গরুর বাছুর ক্রয় করতে আজকাল ৩-৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হয় যেগুলা ২-৩ বছর পালন করার পরেই যেয়ে ৮০০-১০০০ কেজি হয়ে থাকে। এই বাছুর খামারিরা হাট-বাজার অথবা প্রান্তিক খামারির গোয়াল থেকেই সংগ্রহ করে থাকে। যদি বলেন ৩-৫ লক্ষ টাকায় কেন কিনে, তাহলে আপনাকে জানতে হবে, সব এভারেজ দেশাল গরু ৮০০-১০০০ কেজি ওজনের হয় না। যেই উন্নত জাতের গরু গুলা এমন বড় হবে, সেগুলার বাছুর অনেক দামেই কিনতে হয়। এভারেজ গরু বাছুর ২-৩ বছর পালন করার পর ৫০০-৬০০ কেজি ওজন আসবে সর্বোচ্চ। একারনেই হেবিওয়েটের গরু গুলার দাম এভারেজ ৫০০-৬০০ কেজির গরু থেকে অনেক বেশি হয়ে থাকে।
【মূল প্রসঙ্গ】
এবার আসি গোখাদ্যের দামে। গেল ৫-৬ বছরে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে এভারেজে ১০০% এরও বেশি। ৫-৬ বছর আগে গোশতের দাম ছিল ৪০০-৫০০ টাকা। তাহলে এখন গোশতের দাম কত হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন? হিসেব করলে ১০০০ টাকা চলে আসবে। যদি ৭০০-৮০০ টাকায় গরুর গোশত পেয়ে থাকেন তাহলে এটা বাংলাদেশ সরকারের ক্রেডিট।
তাছাড়া রাখলদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, সেড ভাড়া, পরিবহন খরচ, মেডিসিন খরচ ইত্যাদি কোন জিনিসটার খরচ বাড়েনি এই ৫-৬ বছরে?
যেকোন একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন -
১। দেশের বড় বড় খামারে কখনও কি দেখেছেন গোশতের/কসাইয়ের কাটার গরু পালতে?
২। কসাইদের কি দেখেছেন দেশের বড় বড় খামারে যেই গরু গুলা পালন করা হয় সেগুলা কাটতে?
বি:দ্র: শুধু মাত্র অসুস্থ হয়ে যাওয়া গরু গুলাই খামারিরা কম মুল্যে লসে কসাইয়ের কাছে বিক্রয় করে থাকে।
তাহলে গোশতের দাম বৃদ্ধিতে অল্প সংখ্যক বড় বড় খামারির হাত কিভাবে থাকতে পারে?
পুরো সাপ্লাই চেইন এর খরচ না কমিয়ে যদি গরুর গোশত ৫০০-৬০০ টাকায় নামানর চেষ্টা করা হয়, তাহলে অসংখ্য প্রান্তিক খামারি যারা মূলত সারা বছর এই কসাই গরুর উৎপাদন করে থাকে, তারা সহ দেশের বড় বড় খামার গুলাতেও আর গরু পালন করা সম্ভব হবে না। বন্ধ হয়ে যাবে ছোট বড় সকল খামার। কি ভাবছেন? এসবের পর ৫০০ টাকায় গোশত পাবেন? দিবে পার্শবর্তি দেশ কম দামে গরু? তাহলে আপনি আবারো ভুল। দেশের খামারিরা গরু পালন বন্ধ করলে গরুর গোশতের দাম ১০০০-১৫০০ হতে সময় লাগবে না।
সরকার যদি গোখাদ্যের দাম ২০১৯ সালে যেমন ছিল, ঐখানে নামিয়ে আনতে পারে, ১ বছর সময় লাগবে গোশতের দাম ৫০০ টাকার নিচে নামতে।
এভাবে দেশের খামারগুলা এবং এর সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ খামারিরাও বাঁচবে।
তবে খলিল এবং অন্যান্য ২-৪ জন কসাইরা কিভাবে পারলো ৬০০ টাকায় গোশত দিতে তা অনলাইনে কম বেশি আমরা সবাই দেখেছি। তবে খলিল বড় বড় খামারিদের দোষ দিয়ে, যাদের কন্ট্রিবিউশন ১-২% ও না, ভারতের বর্ডার খুলে দিতে বললো, এর পিছে অন্য কোন কারন থাকতেই পারে। তার এই দাবি দেশবিরোধী, লক্ষ লক্ষ গবাদিপশুর খামারিদের নিস্ব করার পরিকল্পনা। তাকে ভারতীয় এজেন্ট বললে কি ভুল হবে? তাছাড়া বর্ডারে যে সমস্ত চ্যানেল/করিডোর দিয়ে গরু চোরাচালান হয়, সেখানে গরুর সাথে অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ ইত্যাদির চোরাচালানের খবরও আমরা প্রায়শই মিডিয়াতে দেখে থাকি। তাহলে কি এজন্যই খলিল বর্ডার খুলে দিতে বলছে? গোখাদ্যের দাম কমানোর দাবি না করে বর্ডার খুলার দাবির পিছনে খলিলের স্বার্থ কি তা একটু ভাববার বিষয় বলে মনে করি।
খামারি বাঁচুক, দেশ বাঁচুক। গোখাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ হোক। আমরাও চাই গোশতের দাম ৫০০ টাকা থেকে কম হোক।
Credit: Ahmed Rasib vai.