Lekha hobe

Lekha hobe Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Lekha hobe, Digital creator, .

দুনিয়াটা আল্লাহ'র মত করে সাজিয়ে নিন। আখিরাত টা আল্লাহ আপনার মতো করে সাজিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ-🌸
28/02/2024

দুনিয়াটা আল্লাহ'র মত করে সাজিয়ে নিন। আখিরাত টা আল্লাহ আপনার মতো করে সাজিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ-🌸

I Love You বাবা 🥰ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা ❤️💙🖤
28/02/2024

I Love You বাবা 🥰
ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা ❤️💙🖤

আপনার জীবনের প্রতিটা ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি, আপনার বন্ধুরা, যাদের সাথে আপনি মিশেন প্রতিনিয়ত, যাদের সাথে গল্প-...
28/02/2024

আপনার জীবনের প্রতিটা ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি, আপনার বন্ধুরা, যাদের সাথে আপনি মিশেন প্রতিনিয়ত, যাদের সাথে গল্প-আড্ডায়, খোশ-আলাপে আপনি পার করেন জীবনের মূল্যবান সময়, তাদের ব্যাপারেও আপনাকে হতে হবে সমান মনোযোগি।

সুরা আল কাহাফে গুহা-বাসী যুবকদের ঘটনা বিবৃত করার পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে— নবিজীর কার সাথে মেশা উচিত আর কার সাথে মেশা উচিত নয়।

আয়াতটা পড়তে গিয়ে আমার পূর্বের একটা ব্যাপার মনে পড়ে গেলো। আমাদের ব্যক্তিগত বন্ধু নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত সে ব্যাপারে আমি কিছুদিন আগে লিখেছিলাম। সেখানে আমি বলেছিলাম— ব্যক্তিগতভাবে এমন কাউকে আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু, নিকটজন হিশেবে বাছাই করবো না যারা সিনেমা-নাটক দেখে দিন পার করে। যারা অবসরের সঙ্গী হিশেবে গান শোনাকে প্রাধান্য দেয়। যারা সুন্নাহ পালনে তেমন মনোযোগি নয়।

তবে, আমার সেই লেখাটাকে বেশ অনেকে মিস-কোট করেছেন। তারা বললেন— 'যারা সিনেমা-নাটক দেখে, যারা গান শোনে, যারা সুন্নাহ পালনে উদাসীন, তাদের সাথে যদি আপনি না-ই মিশেন, তাহলে ভালোর দাওয়াতটা তাদের কাছে পৌঁছাবে কীভাবে?'

আমার লেখাটায় তারা যেটা মিস করে গেছেন তা হচ্ছে 'দাওয়াত দেওয়া'র জন্যে মেশা আর 'অন্তরঙ্গ বন্ধু' হিশেবে মেশার মধ্যকার পার্থক্য।

ভালোর দাওয়াত নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাইতে সফলভাবে আর কে যেতে পেরেছে? কিন্তু, যে লোক হারামে ডুবে ছিলো, নবিজী তার সাথে সারা দিনমান কাটিয়ে দেন নি। তাকে শুধরানোর জন্যে তার হারামের মুখরোচক গল্পগুলোকে উপভোগ করেন নি। তিনি সতর্ক করেছেন উত্তম উপায়, উত্তম চরিত্র এবং উত্তম ব্যবহারের সাথে। যাদের সাথে তিনি দিনমান কাটাতেন, যারা সর্বক্ষণ নবিজীর সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকতো, কেমন মানুষ ছিলেন তারা? আবু বকর সিদ্দিক, ওমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান এবং আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুম। নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরঙ্গ বন্ধুদের ব্যাপারে ধারণা পেতে এই নামগুলোই যথেষ্ট।

আমার লেখাটার মূল কথাও ছিলো সেটা— কেউ যদি হারামের মাঝে থাকে, সাধ্য এবং সুযোগ থাকলে আপনার অবশ্যই উচিত তাকে সতর্ক করা, তাকে নাসীহাহ করা। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে মেশার জন্যে আপনার কখনোই উচিত নয় এমন কাউকে বাছাই করা যার কাছ থেকে আপনার আসলে শেখবার কিছুই নেই। যে আপনার বিপদে আপনাকে ধৈর্যের ব্যাপারে নসীহত করতে পারে না, আপনার আনন্দে আপনাকে শুকরিয়া করতে বলতে পারে না।

ধরুন আপনার ভীষণ মন খারাপ। এমন মন খারাপের দিনে আপনি আপনার সিনেমা-পোঁকা কোন বন্ধুকে ফোন করে বললেন, 'দোস্ত, মনটা বেশ খারাপ।'

আপনার মন খারাপ শুনে আপনার ওই বন্ধু আপনাকে সম্ভাব্য কোন কথাটা বলতে পারে? সে হয়তো বলবে, 'ধুর, মাথায় রাখিস না ওসব। নতুন একটা মুভি এসেছে। একদম সুপার-হিট লেভেলের। ওটা দেখে ফেল এক বসায়। দেখবি মনটা কেমন ফুরফুরা লাগে'।

আবার ধরা যাক আপনি এমন এক বন্ধুকে ফোন দিলেন যে সিনেমা-টিনেমা দেখে না। গান-টানও শুনে না। তার দ্বীনদারিত্ব নিয়ে আপনার মধ্যে কোন সংশয় নেই। আপনি তাকে বললেন, 'বন্ধু, মনটা আজকে ভীষণ খারাপ'।

আপনার মন খারাপের কথা শুনে এই বন্ধুটা আপনাকে কী বলতে পারে? খুব সম্ভবত তিনি বলবেন— 'মন খারাপের দিনে আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিকির-আযকারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। বেশি বেশি দুয়া করতেন আল্লাহর কাছে। তোমার মন খারাপের কারণ জানি না, তবে দুয়া করছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা যেন তোমার সবকিছু ঠিকঠাক করে দেন। তোমার মন খারাপ দূর করে দেন। আশা করি মন খারাপের এই অবস্থা তোমাকে রবের আরো অধিক নিকটবর্তী করবে, ইন শা আল্লাহ'।

এই দুই বন্ধুর মধ্য থেকে নিজের জীবনের জন্য কাকে আপনি বেছে নিবেন আমি বলতে পারি না, তবে আমাকে যদি বেছে নিতে বলা হয় আমি নির্দ্বিধায় দ্বিতীয় জনকে বেছে নেবো।

বন্ধু নির্বাচনে এটাই ছিলো আমার প্রস্তাবিত ফর্মুলা। তার মানে কিন্তু এটা নয় যে আমার সিনেমা-দেখা বন্ধুটাকে আমি খরচের খাতায় ফেলে রাখবো। তার সাথেও আমার যোগাযোগ থাকবে, তবে নিজের একান্ত সময়ের সঙ্গী হিশেবে তাকে আমি জীবনে স্থান দেবো না। সেটা আমার নিজের নফসের হেফাযতের উদ্দেশ্যেই।

সুরা কাহাফের ২৮ নাম্বার আয়াত পড়তে গিয়ে আমি ঠিক তেমন কিছুরই সন্ধান পেলাম। এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা বলছেন,

'আপনি দৃঢ়চিত্ত হয়ে তাদের সাথে অবস্থান করুন যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে'।

এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের সাথেই দৃঢ়চিত্ত হয়ে থাকতে বলছেন যারা সকাল-সন্ধ্যা নিজেদের মহান আল্লাহ তা'য়ালার স্মরণে ব্যাপৃত রাখে।

সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর স্মরণে থাকবার অর্থ হলো— যারা পুরোদিনে নিজেদের সর্বোচ্চ আল্লাহর পথে ধরে রাখে। যারা হালালের পথ ছেড়ে হারামের পথ না মাড়াবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়। তারা কারো সাথে মেশে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই। কারো সাথে হেসে কথা বলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই। কারো সাথে সদাচরণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই। কারো বিপদে সাহায্যের হাত বাড়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই। কারো জন্যে দুয়া করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই। নিজের জন্য এবং পরের জন্য যা কিছুই তারা করে, সবকিছুর উদ্দেশ্য থাকে একটাই— আল্লাহর সন্তুষ্টি।

যাদের জীবনধারা এমন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলছেন সেসব লোকদের সাথেই যেন তিনি নিজের জীবনটাকে জড়িয়ে রাখেন। নবিজীর মাধ্যমে সেই একই উপদেশ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা আমাদেরকেও দিয়েছেন যেন আমরা তাদেরকেই বন্ধু হিশেবে বাছাই করি যারা নিজেরা আল্লাহর স্মরণে থাকে এবং যাদের সংস্পর্শে এলে আমাদের অন্তরেও আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত হবে।

একটা পঁচনধরা ফলের পাশে একটা ভালো ফল যদি রাখা হয়, ভালো ফলটাতেও পঁচন ধরার সম্ভাবনা শতভাগ। কাদেরকে আপনি আপনার জীবনের সাথে জড়াবেন তা এজন্যেই গুরুত্বপূর্ণ যে— এর ওপর আপনার দুনিয়া-আখিরাতের অনেককিছুই নির্ভর করে।

'আমার কাহাফ ভাবনা-পৃষ্ঠা১০'
প্রচার:Islamer kotha

🦋পুকুরের পানি সবাই পছন্দ করে।কিন্তু কেউ পান করে না।তেমন বেপর্দা নারী ভালো লোক পছন্দ করে।🥀কিন্তু কেউ জীবনসজ্ঞী করে না। আল...
28/02/2024

🦋পুকুরের পানি সবাই পছন্দ করে।
কিন্তু কেউ পান করে না।
তেমন বেপর্দা নারী ভালো লোক পছন্দ করে।🥀
কিন্তু কেউ জীবনসজ্ঞী করে না।
আল্লাহ সবাইকে বুঝার তওফীক দান করোক।
আমিন।🦋

তুমি কী দেখেছো কভু,     রুটি কী ভাবে হয়?আটার নরমে. তাওয়ার গরমে,     ফুলে ফুলে রুটি হয়!!!আমিতো দেখেছি কত না রুটি,        ...
28/02/2024

তুমি কী দেখেছো কভু,
রুটি কী ভাবে হয়?
আটার নরমে. তাওয়ার গরমে,
ফুলে ফুলে রুটি হয়!!!
আমিতো দেখেছি কত না রুটি,
পুড়ে পুড়ে ছাই হয়,,,,
বেলুনের চাপে কারো কারো রুটি,
মানচিত্র হয়!!!
ভাজি রুটিগুলো টানার চোটে,,
চিড়ে ফানা ফানা হয়!!!
আটার নরমে তাওয়ার গরমে,
ফুলে ফুলে রুটি হয়!!!
ফুলে ফুলে রুটি হয় !!!
প্রতিদিন কতো রুটি আসে যে,
টেবিলে থালা ভরে!!!
রুটি বাননোর ইতিহাস টুকু,
রয়ে যায় অগোচরে !!!
কেউতো জানেনা রুটি তৈরি তে,
কতো ঘাম ঝরে যায় !!!
সুখি মানুষেরা রেডিমেট পেয়ে,
আরামে বসে খায়!!!
পাশাপাশি প্লেটে রুটি গোশত,
কেউ বুঝি কারো নয় !!!
আটার নরমে তাওয়ার গরমে,
ফুলে ফুলে রুটি হয় !!!

লেখক: মো জয় ইসলাম
প্রচার:Islamer kotha

আমার ভালো লাগার একটি বই:কথা ফুরানোর আগেই বেলা ফুরায়,আর আশা ফুরানোর আগেই জীবন। .............................................
28/02/2024

আমার ভালো লাগার একটি বই:কথা ফুরানোর আগেই বেলা ফুরায়,আর আশা ফুরানোর আগেই জীবন। .................................................................................
'বেলা ফুরাবার আগে' বই পড়ে রিলেশানে থাকা মেয়েটা ছেলেটাকে ব্রেক-আপের কথা বলে। যদি সুযোগ থাকে, হালাল রিলেশানে, মানে বিয়ে অবধি সম্পর্কটা গড়ালে তবেই যোগাযোগ করবে— এমনটাই মেয়ের অবস্থান। ছেলেটাও 'বেলা ফুরাবার আগে' পড়ে এবং বিষয়টা অনুধাবন করে। মেয়ের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে সে-ও রাজি হয়। এখন দুজনেই দ্বীনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে, এবং দু'জনের কারো মধ্যেই যোগাযোগ নেই।

ঘটনাটা স্বয়ং ছেলেটার কাছ থেকেই জেনেছি গতকাল।

খুবই নামকরা কিংবা শক্তিশালী লেখক হতে কখনোই চাইনি। মানুষের মাঝে বোধোদয়ের দরোজা উন্মুক্ত করবার তাগাদা থেকেই লিখি। বিশ্বাস করি— যে লেখা হৃদয় থেকে আসে, কেবল তা-ই হৃদয় ছুঁতে পারে।

অল্প হলেও কিছু মানুষের জীবনে হেদায়াতের উসিলা হতে পারছি— এজন্যে মহান রাব্বুল আ'লামীনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া।

- আরিফ আজাদ
প্রচার:Islamer kotha

"মু’মিনদের মধ্যে কোন ব্যাপারে ফায়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে আহবান জানানো হয়, তখন তারা এই কথাই বলে ...
28/02/2024

"মু’মিনদের মধ্যে কোন ব্যাপারে ফায়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে আহবান জানানো হয়, তখন তারা এই কথাই বলে যে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আর এসব লোকই কল্যাণপ্রাপ্ত হবে।" [সূরা নূরঃ ৫১]
"

লেখক:মোঃ জয় ইসলাম
প্রচার: Islamer kotha

মোবাইল ফোনে কথা বলার ১৬ টি আদব:-১. নামাজের জামাতের সময় ফোন না দেওয়া। কেননা, এতে তার নামাজের একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।...
28/02/2024

মোবাইল ফোনে কথা বলার ১৬ টি আদব:-

১. নামাজের জামাতের সময় ফোন না দেওয়া। কেননা, এতে তার নামাজের একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে জামাতের নামাজে অন্য মুসল্লিদের নামাজও বিঘ্ন ঘটতে পারে। উপরন্তু যদি মোবাইল সাইলেন্ট করা থাকে, তবে ফোনকারী ব্যক্তি নিজেও পেরেশান হবে যে, কেনো ফোন ধরা হচ্ছে না! (সুনানে তিরমিজী; হা.নং৩৪৬, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক; হা.নং ৩৭২০)

২. একান্ত অপারগতা বা বিপদ-আপদ ব্যতিত স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্রাম/ঘুমের সময় ফোন না দেওয়া। এতে করে অহেতুক মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়। (বুখারী; হা.নং ১০)

৩. প্রথমবার কল করার পর দ্বিতীয়বার কল করার জন্য এতটুকু সময় বিরতি দেওয়া, যাতে করে কল রিসিভকারী নামাজে, খানায় কিংবা টয়লেটে অথবা এ জাতীয় কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে থাকলে তা সেরে এসে ফোন ধরতে পারে।

কাজেই লাগাতার ফোন দিতে না থাকা। নির্দিষ্ট বিরতিতে প্রয়োজন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ তিনবার ফোন দেওয়া যেতে পারে। এরপরও যদি রিসিভকারী ফোন রিসিভ না করে, তবে আর ফোন দেওয়া উচিত নয়। পরবর্তীতে চেষ্টা করা যেতে পারে।

অনেকে লাগাতার ফোন দিতেই থাকেন আর ফোন রিসিভ না হওয়ায় বিরক্ত হতে থাকেন। অথচ চিন্তা করা উচিত যে, যাকে ফোন দিচ্ছি, আমার প্রয়োজনের চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে সে ব্যস্ত থাকতে পারে। কাজেই এমনটা না করা চাই। (সূরায়ে নূর; আয়াত ২৭, বুখারী; হা.নং ৬২৫০)

৪. ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে আগে আগে সালাম প্রদানে উভয়পক্ষেরই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব থাকা উচিত। অন্যথায় যার আগে কথা বলার সুযোগ হবে, তিনি সালামের মাধ্যমে কথা শুরু করবেন। অনেক সময় রিসিভকারী ‘হ্যালো’ বলে চুপ করে থাকেন, এমনটা ঠিক নয়। (মুসলিম; হা.নং ৯৩, তিরমিজী; হা.নং ২৬৯৯)

৫. বারবার ফোন করার প্রয়োজন হলে প্রতিবারই সালাম দেওয়া উচিত। হাদিস শরিফে নবীজি সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের ব্যাপারে অত্যাধিক গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন- “কেউ যদি তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে তাহলে যেন তাকে সালাম দেয়।

অতঃপর যদি কোনো গাছ বা পাথর (অল্প সময়ের জন্য হলেও) দু’জনের মাঝে আড়াল সৃষ্টি করার পর পুনরায় তাদের সাক্ষাৎ হয় তাহলে যেন আবার সালাম দেয়।” (সুনানে
আবূ দাউদ; হা.নং ৫২০০)

৬. ফোন রিসিভ হওয়ার পর ফোনকারী সর্বপ্রথম নিজের পরিচয় দিবেন। এরপর ফোন রিসিভকারী উদ্দিশ্য ব্যক্তি কি না? এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া চাই। পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার পর ফোনকারী নিজের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবেন।

অনেকে নিজের পরিচয় না দিয়ে কিংবা রিসিভকারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কথা বলা শুরু করেন। এ কারণে অনেক সময় উভয়েরই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। (বুখারী; হা. নং ৬২৫০)

৭. শরী‘আতে গাইরে মাহরাম নারী/পুরুষের সাথে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক পর্দা রক্ষা করে প্রয়োজন পরিমাণ কথা বলার অবকাশ দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আকর্ষণ সৃষ্টিকারী কোনো আচরণ কিংবা উচ্চারণ সম্পূর্ণ হারাম। কাজেই কোনো গাইরে মাহরাম মহিলা কিংবা পুরুষকে ফোন করতে হলে এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ৩০৪৯, ফতোয়ায়ে শামী; ৬/৩৬৯)

৮. মোবাইলে কথা বলার প্রয়োজনে গাইরে মাহরাম নারী/পুরুষের মাঝে সালামের আদান-প্রদানও বৈধ হবে। তবে যদি ফেতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে এ জাতীয় ‘আন্তরিকতাপূর্ণ সম্ভাষণ’ বৈধ হবে না। (ফতোয়ায়ে শামী; ৬/৩৬৯)

৯. মোবাইলে কথা বলার সময় অনেকেই ‘আপনি এখন কোথায় আছেন’? এ প্রশ্নের উত্তরে মিথ্যা বলে থাকে। অথচ (ক্ষতির আশংকা না থাকলে) মিথ্যা কথা বলা কবিরাহ গোনাহ! কাজেই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক। (বুখারী; হা.নং ৩৩)

১০. একটি পরামর্শ : মোবাইলের রিংটোনের আওয়াজ যাতে না হয়, এ জন্য অনেক ভাই মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখেন। তাদের জন্য পরামর্শ হলো, প্রয়োজনে মোবাইল বন্ধ করে মিসড কল এলার্ট দিয়ে রাখতে পারেন। এতে করে ফোনকারী অযথা বিরক্ত কিংবা চিন্তিত হয় না যে, কেন ফোন ধরছে না! উপরন্তু জরুরী ফোন হলে রিসিভকারী পুনরায় কলব্যাক করতে পারবে।

১১. অনেক সময় দেখা যায়ে যে, কোনো মুফতী সাহেবের কাছে মাসআলা জানার জন্য ফোন দেওয়া হয়, কিন্তু তার এখন মাসআলা বলার সময় আছে কি না?- তা না জেনেই মাসআলা জিজ্ঞাসা করা শুরু করা হয়, যা খুবই বিরক্তকর।

কাজেই কথা দীর্ঘ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ হলে ফোন রিসিভকারী এখন কথা বলার মত অবস্থায় আছেন কি না?- তা জেনে নেওয়া আবশ্যক। এখন সময় না থাকলে পরবর্তীতে তিনি কখন সময় দিতে পারবেন- তা জেনে নেওয়া চাই। (সূরা নূর; আয়াত ২৭, ফতাওয়ায়ে শামী ৫/৫০৯)

১২. মোবাইলে কথা শেষ হওয়ার পর সালামের আদান-প্রদান শেষ হওয়ার আগেই লাইন কেটে দেওয়া ঠিক নয়। কেননা, সালামের জবাব পারতপক্ষে শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। (সুনানে আবু দাউদ; হা.নং ৫২০৮, ফাতাওয়ায়ে শামী; ৬/৪১৩)

১৩. অনেক দীনদার ভাই মাসআলা জানার উদ্দেশ্যে মুফতী সাহেবানদের কাছে ফোন করে থাকেন। ব্যক্তিগত কিংবা দীনী ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিক ফোন রিসিভ করতে না পেরে স্ক্রীনে মিসড কল দেখে যদি মুফতি সাহেব কল ব্যাক করেন, তবে অনেকক্ষেত্রে সেই কল রিসিভ করেই উক্ত ফোনকারী ব্যক্তি তার মাসআলা জিজ্ঞাসা করা শুরু করেন। এটা উচিত নয়।

প্রয়োজন যার, তিনিই পয়সা খরচ করে ফোন করবেন- এটাই সুস্থ নীতি হওয়া উচিত। (সুনানে আবূ দাউদ; হা.নং ৩৫০৮, আল আশবাহ লি- ইবনে নুজাইম; ১/৩৭৭)

১৪. বাস/ট্রেন কিংবা জনবহুল স্থানে কথা বলার ক্ষেত্রে অনেকে উচ্চ আওয়াজে কথা বলে থাকেন। এমনটা ঠিক নয়। কেননা, এতে অকারণে অন্যের বিরক্তি সৃষ্টি করা হয় অসুস্থ কিংবা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ অথবা কোনো পরীক্ষার্থীকে অনর্থক কষ্ট দেওয়া হয়।

কাজেই এ জাতীয় স্থানে নিম্নস্বরে কথা বলা আবশ্যক। উপরন্তু নিচু আওয়াজে কথা বললে নিজের গোপনীয়তাও বজায় থাকে। (সূরা লুকমান; আয়াত ১৯, বুখারী; হা.নং ১০)

১৫. গাড়ির চালক অনেক সময় গাড়ি চালানোর সময় কথা বলে থাকেন। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় এমনিতেই এ ধরণের আচরণ আইনত দ-নীয়। উপরন্তু শরী‘আতের দৃষ্টিতেও তা অবশ্য পরিত্যাজ্য। একান্ত প্রয়োজন হলে গাড়ি থামিয়ে কথা বলা উচিত। (সূরা বাকারা; আয়াত ১৯৫, বুহুস ফি কাযায়া; ১/৩১০)

১৬. ফ্রি-মিনিট পেয়ে অনেকে অনর্থক কথাবার্তা বলতে থাকে। এটা উচিত নয়। কেননা, হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে- مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ

যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং কিয়ামাত দিবসের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে। অথবা চুপ থাকে। (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ৭৬২৬)

লেখক: মুফতি মনসূরুল হক হাফিঃ
প্রচার: Islamer kotha

রাসুল (সাঃ) বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চারটি বস্তু হতে আশ্রয় চাই। • এমন জ্ঞান, যা উপকারে আসে না।• এমন হৃদয়, যা ভীত...
28/02/2024

রাসুল (সাঃ) বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চারটি বস্তু হতে আশ্রয় চাই।
• এমন জ্ঞান, যা উপকারে আসে না।
• এমন হৃদয়, যা ভীত হয় না।
• এমন আত্মা, যা তৃপ্ত হয় না।
• এমন দুআ, যা কবুল হয় না।

আবু দাউদ // হাদিস নম্বর: ১৫৪৮

✿ ✿ইসলামিক শিক্ষাণীয় কিছু কথা✿ ✿ (১)একবার একটা সফরে খাওয়ার সময় উপস্থিত হলে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা ভেড়া...
28/02/2024

✿ ✿ইসলামিক শিক্ষাণীয় কিছু কথা✿ ✿

(১)

একবার একটা সফরে খাওয়ার সময় উপস্থিত হলে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা ভেড়া জবাই করার কথা উঠালেন। ভেড়া জবাইয়ের কথা শুনে সাহাবিদের একজন বললেন, ‘আমি ভেড়াটাকে জবাই করবো’। অন্যজন বললেন, ‘কাটাকুটির কাজটা আমি করবো’। তারপরে আরেকজন বললেন, ‘আর রান্নার কাজটা আমি করতে চাই’।

তাদের সকলের কথা শুনে নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ঠিক আছে৷ তাহলে লাকড়ি জোগাড় করার দায়িত্বটা আমি নিলাম’।

নবিজী লাকড়ি কুড়াবেন— ব্যাপারটা কি সাহাবাদের পক্ষে মেনে নেওয়ার মতো? তারা হৈহৈ করে উঠে বললেন— ‘না ইয়া আল্লাহর রাসূল! এই কাজটাও আমরা করতে পারবো’।

তখন নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি জানি এই কাজটাও তোমরা করতে পারবে৷ তবে— আমি সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে বসে থাকতে অপছন্দ করি৷ আল্লাহর এক বান্দা অন্যদের ওপর (দায়িত্ব চাপিয়ে) বসে আছে— এটা আল্লাহও পছন্দ করেন না।

(২)

নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের এই ঘটনা আমাকে ভালো রকমের একটা শিক্ষার মুখোমুখি এনে দাঁড় করালো৷ কোথাও বেড়াতে গেলে, কোন ট্যুর অথবা কোন ঘরোয়া আয়োজন— সম্ভব হলে যেকোনো কাজে অন্যদের সাথে হাত লাগানোর চেষ্টা করা উচিত। আমাদের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী আর হিতাকাঙ্ক্ষীরা হয়তো সেটা আমাদের কর‍তে দিতে চাইবেন না। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে— কোথাও গিয়ে একেবারে হাত পা গুটিয়ে, পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে অন্যদের খাটিয়ে নেওয়াটা সুন্দর নয় এবং সেটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এবং তাঁর নবির সুন্নাহর মধ্যেও পড়ে না।

যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো কাজে স্বাচ্ছন্দ্যে অন্যদের সাথে শরীক হতে পারলে দুইটা লাভ হয়।
প্রথমত— নিজের ভেতরে তৈরি হওয়া বড়ত্বের বড়াইটা দমে যায়, এবং দ্বিতীয়ত— সম্পর্কের রসায়নটা আরো গাঢ় হয়৷

এ-তো গেলো একটা দিক৷ নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের এই ঘটনা থেকে দ্বিতীয় যে দিকটা আমাকে নাড়া দিয়ে গেলো সেটা হচ্ছে— আমাদের অনেকের জীবনে ফ্যামিলির ভালো সাপোর্ট থাকে৷ পড়াশুনার যাবতীয় ব্যয় নিয়ে কখনোই মাথা ঘামাতে হয় না৷ বাবাকে বলার আগে টাকা অ্যাকাউন্টে এসে হাজির হয়ে যায়৷ অনেকে এমন আছি যাদেরকে ফ্যামিলির খরচাপাতি নিয়ে একদম ভাবতে হয় না৷ বাবা অথবা ভাইয়ের কাঁধের ওপরে দিব্যি চলে যায় জীবন। এরকম সুবিধে থাকাটাকে দোষের বলতে চাইছি না, কিন্তু অসুবিধে হলো— এই সুবিধেগুলোকে আমরা অনেকেই স্থায়ী ধরে নিই৷

দেখুন— নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাইলে লাকড়ি না কুড়িয়েও পারতেন৷ এই কাজটা করার জন্যে লোকের তো অভাব ছিলো না কাফেলায়৷ কিন্তু সুবিধাটা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিলেন না৷ একেকজন একেক কাজে যেহেতু লেগে গেছে, নবিজীও হাত লাগালেন অন্য একটা কাজে।

পড়াশোনার খরচের জন্য অথবা পরিবারের খরচাপাতি সামলানোর জন্য যাদেরকে একটুও পেরেশান হতে হয় না তাদের উচিত প্রথমত এই সুবিধেটুকুর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা৷ তাদের দ্বিতীয় কাজ হলো— বাবা অথবা ভাই— যারাই তাদের হয়ে দায়িত্বটুকু কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের প্রতি কিছুটা হলেও সহযোগি হওয়া৷ কিছুটা দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে তাদেরকে একটু হালকা করা৷

যারা পড়াশোনায় আছেন তারা টিউশনি করে অথবা পার্ট টাইম জব কিংবা ফ্রি-ল্যান্সিং করে নিজে অন্তত নিজের কিছু খরচ বহন করতে পারেন৷ পড়াশোনার বাইরে যারা আছেন, তারা ছোটোখাটো ব্যবসা, বা কোনো চাকরি অথবা অন্যকোনো হালাল উপার্জনের মাধ্যমে পরিবার আর পরিজনের কিছু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

লক্ষ্য হোক— একেবারে অলস না থাকা। কিছু না কিছুতে যুক্ত থাকা সর্বদা৷ ইচ্ছাকৃতভাবে হাত পা গুটিয়ে যারা অন্যের কাঁধের ওপর বসে থাকে, আমার ধারণা— তাদের ছায়াও তাদেরকে অপছন্দ করে৷

মূসা আলাইহিস সালামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে নান্দনিক যে পরিণতি—সেখানেও আছে দরিয়ার উপস্থিতি।আমরা জানি—নবি মূস...
28/02/2024

মূসা আলাইহিস সালামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে নান্দনিক যে পরিণতি—সেখানেও আছে দরিয়ার উপস্থিতি।

আমরা জানি—নবি মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দরিয়ায় তৈরি করে দিয়েছিলেন পথ এবং ওই একই দরিয়ায় তলিয়ে মেরেছিলেন জালিম ফিরআউন ও তার বাহিনীকে। জীবনের চরম সংকটময় এই মুহূর্তে মূসা আলাইহিস সালামের অবস্থান আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করে রাখে।

সামনে অকূল দরিয়া আর পশ্চাতে ফিরআউনের বিশাল বহরের শক্তিশালী বাহিনী! এ যেন জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘের গল্পটার মতোই—দুই জায়গাতেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাতছানি! অবস্থা বেগতিক দেখে ভয়ে অস্থির হয়ে উঠলো বনি ইসরাঈল সম্প্রদায়। তারা বললো— ‘আমরা বুঝি ধরা পড়েই গেলাম’। (১)

অন্য সকলের মতো মূসা আলাইহিস সালামও দেখছিলেন যে—সম্মুখে যতোদূর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি! নেই কোনো নৌকা, পারাপারের বাহন। আর পশ্চাতে একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে চিরশত্রু ফিরআউন! তিনি না সম্মুখে যেতে পারছেন, না পারছেন পেছনে যাত্রা করতে। দৃশ্যত অন্য সকলের মতো তার সামনেও যাওয়ার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।

কিন্তু অন্য সবার মতো তিনি ঘাবড়ে গেলেন না। যদিও খালি চোখে সম্মুখে উপনীত বিপদ এড়াবার কোনো পথ তিনি দেখছেন না, তবুও একেবারে নির্ভয় আর নির্ভার থেকে তিনি অন্যদেরকে আশ্বস্ত করলেন এই বলে যে— ‘কখনোই নয়। আমার রব আমার সাথে আছেন। তিনি শীঘ্রই আমাকে পথ দেখাবেন’। (২)

সম্মুখে অকূলপাথার আর পশ্চাতে ঘাড়ের ওপর পড়তে যাচ্ছে শত্রুর নিশ্বাঃস! এর মধ্যে পথ কোথায় পাওয়া যাবে? পথ যে কোথায় পাওয়া যাবে তা মূসা আলাইহিস সালাম নিজেও জানেন না। তবে তিনি এটুকু জানেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে পথ অবশ্যই দেখাবেন।

এরপর যা ঘটলো, তা তো রূপকথাকেও হার মানিয়ে দেয়! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দরিয়ায় মূসা আলাইহিস সালামের জন্য তৈরি করে দিলেন পথ। আর পশ্চাতে যে শত্রু পিছু নিয়েছিলো, তাকে ডুবিয়ে মারলেন ওই দরিয়ার জলেই। ওইদিন মূসা আলাইহিস সালাম কল্পনাও করতে পারেননি যে—তাঁর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমুদ্রের মধ্যে পথ তৈরি করে দেবেন। তিনি শুধু এটুকু জানতেন—তাঁর রব তাঁর সাথে আছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যার সাথে থাকেন তিনি পথের কথা ভাবেন না, ভাবেন পথের মালিকের কথা। মূসা আলাইহিস সালামও পথের মালিকের স্মরণে বিভোর ছিলেন সেদিন।

রেফারেন্স:

(১) সূরা আশ-শুয়ারা, ৬১
(২) সূরা আশ-শুয়ারা, ৬২
লেখকঃ আরিফ আজাদ
প্রচারঃ Islamer kotha

আজকালকার দুনিয়ায় ‘ভাল্লাগেনা’ একটা রোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারপাশে তাকালে আমরা এমন হাজার হাজার লোকের সন্ধান পাবো, যারা ...
28/02/2024

আজকালকার দুনিয়ায় ‘ভাল্লাগেনা’ একটা রোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারপাশে তাকালে আমরা এমন হাজার হাজার লোকের সন্ধান পাবো, যারা জীবন নিয়ে চরম পর্যায়ের হতাশ। এমন নয় যে—তাদের অর্থকড়ি, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা নাম-যশ-খ্যাতির অভাব। তাদের কোনোকিছুরই অভাব নেই। তাদের সবকিছু আছে, তবু সবকিছু থেকেও যেন কোথাও কিছু নেই। তাদের জীবনে যেন এক বিশাল শূন্যতা বিরাজ করে আছে! প্রাপ্তিতে ভরে ওঠা তাদের জীবনপাতাটা জুড়ে যেন এক অদৃশ্য অপ্রাপ্তির আনাগোনা। আচ্ছা, কেন এমন হয়?

কখনো কখনো কি জীবন থেকে পালাতে মন চায় আপনার? মাঝে মাঝে হাহাকার করে ওঠে মন? ভীষণ মর্মপীড়ায় মাঝে মাঝে হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়? দুনিয়াকে বিষাক্ত লাগে? কবির মতন করে বলতে মন চায়, ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ?’

কখনো কি ভেবেছেন, কেন জীবনে আপনি তৃপ্তি পাচ্ছেন না? সবকিছু থেকেও কেন আপনার কিছু নেই? কেন আপনার কাজে মন বসে না? একজীবনে পরিতৃপ্তির জন্য যা কিছু উপকরণ দরকার, তার সবটাই তো আপনার কাছে আছে, তবু কেন আপনি ভীষণরকম একা?

আপনি হয়তো জানেন না আপনার এই দুর্বিষহ জীবনের নেপথ্য কারণ। ঠিক কোন কারণে আপনার ভরা বাসন্তী-জীবনে যাতনার প্লাবন, তা আপনার কাছে অজানা। তবে আপনার এই অজ্ঞাত, অনির্ণেয় দুঃখ-ভারাক্রান্ত জীবনের একটা কারণ সম্ভবত আমি জানি। আপনাকে উদ্দেশ্য করেই সম্ভবত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন—

‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিস্মৃত হবে, তার জীবন হয়ে পড়বে সংকুচিত।’ (১)

আয়াতটির সাথে আপনার জীবনের কি কোনো মিল পাচ্ছেন? এই যে আপনার জীবনজুড়ে হাহাকার, অপ্রাপ্তি, অতৃপ্তি এবং গভীর শূন্যতাবোধ—এর কারণ সম্ভবত আপনি আল্লাহর স্মরণ থেকে বিস্মৃত হয়েছেন।

আল্লাহর স্মরণ মানে হলো—জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে আল্লাহর অনুশাসন অনুসরণ করে চলা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা যা আপনার জন্য হালাল করেছেন, তা গ্রহণ করা এবং যা-কিছু তিনি হারাম করেছেন, তা এড়িয়ে চলা। প্রকৃতভাবে আল্লাহকে ভয় করা, আল্লাহকে ভালোবাসার নামই হলো আল্লাহর স্মরণ।

উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে আরো সহজ হবে। ধরা যাক, আপনি কোনো অফিসের বড় কর্মকর্তা এবং আপনার অধীনে ব্যাপক আকারে কর্মী নিয়োগ হয়ে থাকে। যেহেতু কর্মী নিয়োগের সকল ব্যাপার-স্যাপার আপনার হাত দিয়েই সম্পন্ন হয়, সুতরাং আপনি চাইলে এখানে স্বচ্ছভাবেও নিয়োগ দিতে পারেন অথবা রাখতে পারেন কোনো জালিয়াতির সুযোগ।

নিয়োগ সাধারণত মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই হয়। আপনার অফিসেও সেটাই হওয়ার কথা। কিন্তু একজন চৌধুরি সাহেব, যার আবার পকেটভর্তি টাকা, তিনি আপনার হাতে লাখ দুয়েক টাকার একটা বান্ডিল গছিয়ে দিয়ে বললেন, ‘অমুক আর অমুক আমার লোক। তাদেরকে অমুক অমুক পোস্টে বসিয়ে দেবেন।’

যে দুটো পোস্টে চৌধুরি সাহেবের লোক বসিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার কাছে বায়না এবং লোভনীয় সুযোগ এসেছে, সে পোস্টের জন্য আবেদন জমা পড়েছে হাজার হাজার, কিন্তু কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করে, একটা লোক দেখানো পরীক্ষা কিংবা ইন্টারভিউ নিয়ে আপনি সকলকে একে একে বাদ করে দিলেন নানান ছুতোয়। আপনার পকেটে যেহেতু নগদ দুই লাখ টাকা ঢুকে পড়েছে, সেহেতু আর কোনোদিকে তাকানোর সময় কি আপনার আছে? চুলোয় যাক ওসব সততা আর স্বচ্ছতা!

আরো ধরা যাক, সেই দুই লাখ টাকা দিয়ে আপনি কুরবানির ঈদের জন্য একটা ই-য়া-য়া সাইজের গরু কিনলেন। আপনার কেনা গরুর সাইজ দেখে পাড়া-মহল্লায় তো হৈহৈ-রৈরৈ অবস্থা! এত বড় গরু দিয়ে এই তল্লাটে আগে কেউ আর কুরবানি দিতে পারেনি। আপনিই প্রথম!

চারদিক যখন আপনার সক্ষমতা আর সম্পদ ত্যাগ করে এত বড় নজির স্থাপনের ভূয়সী প্রশংসায় মাতোয়ারা, আপনার অন্তরে তখন কিন্তু আনন্দের ছিটেফোঁটাও নেই। কারণ আপনি জানেন আপনার অর্জিত টাকা কোনোভাবেই হালাল নয়। আপনি জালিয়াতি ও প্রতারণা করে এই টাকা লাভ করেছেন। আপনি অনেকগুলো মানুষের হক নষ্ট করেছেন আর ধূলিসাৎ করেছেন অনেকগুলো মানুষের স্বপ্ন।

আপনি একজন ঠগ, প্রতারক আর জালিয়াত। আর কেউ না জানুক, আর কেউ না দেখুক, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তো জানেন আপনার এই অসততার ব্যাপারে। বাইরের দুনিয়া আপনাকে যতই মুত্তাকি, যতই পরহেযগার, যত হৃদয়বানই ভাবুক না কেন, আল্লাহর চোখে আপনি অসৎ ও জালিম ছাড়া আর কিছুই নন।

সুতরাং, হালাল টাকায় একটা বকরি কুরবানি দিয়ে একজন প্রকৃত মুমিন যে প্রশান্তি আর পুলক অনুভব করে, দুই লাখ টাকায় গরু কিনে আপনি তার ধূলিকণা পরিমাণ তৃপ্তিও পাবেন না। সেই পুলক আল্লাহ আপনাকে দেবেন না। আপনার হৃদয়ে নেই কোনো স্থিরতা, নেই কোনো প্রশান্তি।

এই যে—আপনার তো সবই আছে। একটা বড় কোম্পানির হর্তাকর্তা আপনি, কত লোক আপনার অধীনস্থ, বড় অঙ্কের টাকা মাস শেষে বেতন পান আপনি, কী বিশাল সাইজের গরু দিয়ে কুরবানি করেন, বছরের উমরাটাও হয়তো বাদ যায় না। এতসব করেও অন্তরে কেন শান্তির লেশমাত্র পান না জানেন? কারণ আপনি প্রকৃতার্থে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তাতেই আপনি ডুবে আছেন আগাগোড়া।

আপনার সব থাকবে—উন্নতি, পদোন্নতি, বাড়ি আর গাড়ি। কিন্তু যা থাকবে না, তা হলো অন্তরের প্রশান্তি। এইটার জন্য বিস্বাদ হয়ে উঠবে আপনার জীবন। বিষিয়ে উঠবে আপনার দেহমন। এক অদৃশ্য যাতনার সাগরে ডুবে থাকবেন আপনি। আপনার দালানকোঠা হয়তো আকাশ ছোঁবে, আপনার ক্ষমতার বলয় হয়তো বহুগুণ বিস্তৃত হবে, আপনার নাম-যশ-খ্যাতি হয়তো সীমানা ছাড়িয়ে যাবে, কিন্তু অন্তরের অন্তর্দহনে পুড়ে পুড়ে নিঃশেষ হতে থাকবেন আপনি।

রেফারেন্স:
১. সূরা ত্ব-হা, আয়াত—১২৪

লেখকঃ আরিফ আজাদ
প্রচারঃ Islamer kotha

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lekha hobe posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share