16/10/2025
বাবা বললেন,
> “তুই বড় হচ্ছিস রিমি, তোকে একা মানুষ করতে কষ্ট হয়। আমি আবার বিয়ে করব।”
আমি কিছু বলিনি। শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। মেঘলা আকাশের নিচে মনে হলো — আমার মা হয়তো ঠিক এই আকাশেই আছেন, তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।
কয়েকদিন পর এক মহিলা এলেন। নাম—শীলা।
সাদা শাড়ি, চুপচাপ মুখ।
বাবা বললেন,
> “এখন থেকে এই তোমার মা।”
আমি ঠোঁট নেড়ে বললাম,
> “মা?”
তিনি মৃদু হাসলেন, কিন্তু সেই হাসিতে উষ্ণতা ছিল না, ছিল একরাশ দূরত্ব।
---
দিন গড়াল।
এক সকালে আমি স্কুলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, তিনি বললেন,
> “এই জামাটা পরিস না, পুরনো হয়ে গেছে। ওটা ধুয়ে রাখিস।”
আমি বললাম,
> “ওটাই আমার প্রিয় জামা…”
তিনি চোখ সরিয়ে ফেললেন, যেন আমার কথার কোনো মানেই নেই।
বাবা থাকলে ঘর ভরে যেত হাসিতে,
আর বাবা চলে গেলেই ঘরে নেমে আসত নিস্তব্ধতা।
একদিন অসাবধানতাবশত গ্লাস পড়ে ভেঙে গেল।
তিনি চিৎকার করে উঠলেন,
> “তুই কি সব নষ্ট করবি? আমি তোকে মানুষ করব কীভাবে?”
আমি কিছু বলিনি। শুধু টুকরো কাচগুলো হাতে তুলে নিলাম, আর নিজের হাত কেটে ফেললাম।
রক্ত পড়ছিল, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ব্যথা হচ্ছিল মনে।
---
রাতের দিকে বাবা ফিরলেন।
আমি কাঁথা গায়ে দিয়ে পড়ছিলাম।
বাবা জিজ্ঞেস করলেন,
> “রিমি, ঠিক আছিস?”
আমি হাসলাম, বললাম,
> “হ্যাঁ বাবা, মা খুব ভালো রাখেন।”
সৎ মা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমার কথা শুনে তিনি চমকে তাকালেন।
সেই রাতেই তিনি নিঃশব্দে আমার পাশে বসে বললেন,
> “রিমি, তুই কেন এমন বললি?”
আমি ফিসফিস করে বললাম,
> “কারণ বাবা যেন কষ্ট না পান।”
তারপর আমি দেখলাম, তিনি মাথা নিচু করে কাঁদছেন।
হয়তো সেই মুহূর্তেই কিছু গলে গিয়েছিল তার হৃদয়ে।
---
কয়েক মাস পর পরীক্ষা ছিল। আমি প্রথম স্থান পেলাম।
পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠলাম।
হলঘরে বাবা আর মা বসেছিলেন।
যখন ট্রফিটা হাতে নিলাম, ঘোষক বললেন,
> “এই মেয়েটি বলেছে—ওর মা সব সময় ওকে প্রেরণা দেন।”
আমি মঞ্চ থেকে তাকালাম,
দেখলাম মা দাঁড়িয়ে আছেন, চোখে জল।
আমি দৌড়ে গিয়ে তাঁর গলা জড়িয়ে ধরলাম, বললাম,
> “মা, তোমার জন্যই পারলাম।”
তিনি কাঁপা গলায় বললেন,
> “না রিমি, তুই আমাকে ‘মা’ বানিয়ে দিয়েছিস।”
---
সেদিন বুঝেছিলাম —
সব সৎ মা খারাপ হয় না,
কেউ কেউ শুধু সময় চায়... ভালোবাসা চিনতে।