19/04/2025
অধ্যায় ৪: শেষ বেঞ্চের ছেলে
(লেখক: মোঃ লুৎফর রহমান)
কলেজে শেষ বর্ষের শুরুতেই রাফি একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়—নিজের একটি প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ (স্টার্টআপ) শুরু করবে। সে ভাবছিল এমন কিছু বানাবে, যেটা গ্রামবাংলার মানুষের জীবন সহজ করে দেবে, আর দামেও থাকবে সবার নাগালে।
একদিন তার কলেজে আয়োজিত একটি ইনোভেশন কনটেস্ট-এ অংশ নেয় সে। সেখানে সে উপস্থাপন করে তার আইডিয়া:
“সোলার স্মার্ট কিট”—একটি ছোট পোর্টেবল বাক্স, যার মধ্যে থাকবে:
সৌর বিদ্যুৎ চালিত চার্জার
ছোট ফ্যান
একটি এলইডি লাইট
জরুরি প্রয়োজনে ফোনে ব্যাকআপ চার্জ
আইডিয়ার বাস্তবতা, সাশ্রয়ী দিক ও পরিবেশবান্ধব ডিজাইনের কারণে বিচারকেরা মুগ্ধ হন।
বিশেষ এক বিচারক, যিনি একটি নামী এনজিও’র প্রতিনিধি, বললেন:
“তোমার এই প্রজেক্ট যদি বাস্তব রূপ পায়, আমরা ৫০ ইউনিট কিনে ফেলব গ্রাম এলাকায় বিতরণের জন্য।”
রাফি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
তার নিজের বানানো কিছু একটা কেউ কিনবে—এটাই যেন ছিল স্বপ্নের চেয়েও বেশি!
---
ছোট ঘর, বড় চিন্তা
রাফি বাড়ি ফিরে এসে তার চায়ের দোকানের পাশেই একটা ছোট্ট ঘরে ল্যাব বানায়—আসলে ল্যাব না, কিছু পুরনো যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক বাক্স, সোলার প্যানেল, আর কাজ করার জেদ।
সে তার কলেজের কয়েকজন আগ্রহী বন্ধুকে নিয়ে দল গঠন করে, নাম দেয়—
“প্রজেক্ট আলো”।
তাদের লক্ষ্য ছিল: “অন্ধকারে ডুবে থাকা গ্রামে একটুও আলো পৌঁছানো।”
প্রথমে পাঁচটি ইউনিট তৈরি করে দেয় তারা। সেই এনজিও ওদেরকে প্রথম চেক দিয়ে দেয় ২৫ হাজার টাকা!
রাফি টাকা হাতে নিয়ে বাবার কাছে গিয়ে বলল,
“বাবা, এই প্রথম আমি চা বিক্রি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে টাকা পেলাম!”
বাবা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
“শেষ বেঞ্চের ছেলেটা আজ নিজের পথ বানিয়ে নিয়েছে।”
---
প্রথম সাংবাদিকতা কাভারেজ
রাফির এই উদ্যোগ স্থানীয় এক পত্রিকায় খবর হয়। শিরোনাম ছিল:
“চায়ের দোকান থেকে প্রযুক্তির ল্যাব—রাফির জয়ের গল্প”
সেই রিপোর্ট ভাইরাল হয়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, এনজিও থেকে ডাক আসে। অনেকেই বিনামূল্যে সাপোর্ট দিতে চায়।
তবে রাফি জানত, পথ এখনও শেষ হয়নি—এটা কেবল শুরু।
---
এই অধ্যায়ের শিক্ষা:
স্বপ্ন তখনই সফল হয়, যখন তুমি শুধু স্বপ্ন না দেখে, তার জন্য ঘাম ফেলো, হার মেনে না নাও, আর সবার হাসিকে নিজের শক্তি বানাও।
#গল্পেরমহল
#শেষবেঞ্চেরছেলে
#পারবইইনশাআল্লাহ
#উদ্যোক্তারপথে
#শেখারভিত্তি