03/01/2026
“ভারতীয় আধিপত্যবাদ একটি ভূতের নাম, যার উৎপত্তি ও অস্তিত্ব নষ্টদের মগজে। খারাপ রাজনীতির প্রসিদ্ধ সূত্র— কিছু কাল্পনিক শত্রু উদ্ভাবন করো, মানুষকে সেগুলোর ভয় দেখাও, এবং বোঝাও যে, একমাত্র তুমিই পারো সেই শত্রু থেকে দেশকে বাঁচাতে। ভারত সেই ইনভেন্টেড এনিমি। হিটলার রাশিয়ার ভয় দেখাতো। বলতো, ইহুদীরা বলশেভিকদের সাথে ষড়যন্ত্র করছে, জার্মানির বিরুদ্ধে। ওই শালা বলশেভিক দালাল, সেই শালা টলশেভিক এজেন্ট। মৌলবাদী ছা/*গলরাও তাই বলছে। অমুক ভারতের সাথে ষড়যন্ত্র করছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এই শালা ইন্ডিয়ার দালাল, সেই শালা বিজেপি’র এজেন্ট। স্তালিন যখন ডিজাস্টার সৃষ্টি করলেন, সমাজতন্ত্রের নামে, তখন ঘুমের মাঝেও পুঁজিবাদের দালাল আবিষ্কার করতেন। বিজ্ঞানী? পুঁজিবাদের দালাল। চিকিৎসক? পুঁজিবাদের দালাল। ধনী কৃষক? পুঁজিবাদের দালাল। সারা দেশে পুঁজিবাদের দালাল! ল্যাবরেটোরি, বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি সর্বত্র পুঁজিবাদের দালাল তালাশ করা হতো। ব্রিটিশ আধিপত্যবাদী খোঁজা হতো।
একই চিত্র বাংলাদেশে। জন্তুরা মাস-দিন ভারতের দালাল, ভারতের দোসর, আধিপত্যবাদ, এসব জপছে। জন্মের সময় নাম ছিলো জলিল, আবুল, কাসেম, শরিফ, কিন্তু এখন নাম হয়েছে আবুল বিন রমজান, ওসমান বিন জলিল। যদি জিগ্যেস করা হয়, মশাই, আধিপত্যবাদ জিনিসটা কী? তখন ঘাইঘুই করবে। আলু দিয়ে বেগুনভর্তা বানাবে। ভুজুং ভাজুং বোঝাবে।
ভারত আওয়ামী লীগকে সাহায্য করতো। তো এই সাহায্য ভারত কোন দলকে না করেছে? বিএনপিকে করে নি? এখন করছে না? মোনাফেক পার্টির আমীর ভারতী সাহায্য চেয়ে গোপন মিটিং করে নি? হিন্দুস্তান জামাতে ইসলামীর আমীরকে অমিত শাহ’র কাছে পাঠায় নি? আসল কথা— শালা, আমাকে দিচ্ছিস না, অমুককে দিচ্ছিস ক্যান? ভিখেরীরা দেখবেন তার সামনে অন্য ভিখেরিকে ভিক্ষা দিলে খুব রাগ করে। আপনি এক ভিখেরির সামনে আরেক ভিখেরিকে পাঁচ টাকা বেশি দিয়ে দেখুন, দেখবেন সে কী করে। প্রতিটি ইসলামপন্থী মূলত অভিশপ্ত ভিখেরি।
বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, এখানে ইসলামপন্থাকে ইসলাম বলে চালানো হয়। ইসলামপন্থীকে মুসলমান ভাবা হয়। আর যে মুসলমান, তাকে বলা হয় নাস্তিক। ইসলাম ও ইসলামপন্থা যে এক জিনিস না, ইসলামপন্থী যে ইসলামবিরোধী, সে যে মুসলমানই নয়, এটি মাতাল ওয়াজখোরদের বোঝানো অসম্ভব। সে পড়বে আওয়ামী লীগ নেতার মাদ্রাসায়, খাবে বিএনপি নেতার এতিমখানায়, এবং ফেসবুকে ঢুকেই প্রথম জিহাদ করবে বিএনপি ও লীগের বিরুদ্ধে! সে যে-ভাত খাচ্ছে, ওই ভাতের চাষ ভারতী মাহিন্দ্র ট্রাক্টরে। যে-বাসে ঢাকা যাচ্ছে, সেই বাস ভারতে তৈরি। ট্রাক, লেগুনা, সিএনজি, সবই ভারত থেকে আনা। যে-পাঞ্জাবী পরছে, সেই পাঞ্জাবীর ইয়ার্ন ও লেইস ভারতের। যে-ওষুধ খাচ্ছে, ডায়রিয়া-আমাশয়ে আল্লাহ আল্লাহ বলে ফার্মেসিতে যাচ্ছে, এগুলোর কাঁচামাল ভারতের। হজ্বে যাচ্ছে ভারতের আকাশ দিয়ে! ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, এগুলোর সিংহভাগ ইঞ্জিনিয়ার ভারতের। পেঁয়াজ রসুন তেল রান্নাঘর ভারতের। অথচ প্যান্টের নিচে দুটি শুষ্ক বরই ছাড়া যার আর কিছু নেই, সে শ্লোগান দিচ্ছে— দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা! ঢাকা!
এদের বাপ হয়তো কৃষিকাজ করে, দোকানদারি করে, মা হাঁসমুরগী পালে, এবং অনেক কষ্টে সন্তানকে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিন্তু সন্তান কী করছে? ফেসবুকে ইসলাম ফলাচ্ছে, আধিপত্যবাদ ফলাচ্ছে, যাকে তাকে নাস্তিক মুরতাদ আখ্যা দিচ্ছে, যাপন করছে জামাত-শিবিরের দাসের জীবন। ভাবছে, জামাতের দাসই আল্লাহর দাস!”
— মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
সাক্ষাৎকার / ২ জানুয়ারি ২০২৫
(রবিউল ইসলাম / বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)