13/03/2026
***নিজের সুন্দর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম ***
কয়েকদিন আগে স্বামীর অফিস ট্যুরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে শুধু অফিসের আনুষ্ঠানিকতা নয়, ছিলো আনন্দ, মিলনমেলা আর একসাথে সময় কাটানোর অসাধারণ আয়োজন।
খাওয়া-দাওয়া, ঘুরাঘুরি, বিভিন্ন খেলা প্রতিযোগিতা—সবকিছুই ছিলো দারুণভাবে সাজানো। সন্ধ্যা নামার পর মাঠে আগুন জ্বালিয়ে শুরু হলো অন্যরকম একটা মুহূর্ত। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা কুপনের কাগজ ধরে অভিনয় করছিলেন, কেউ গান গাইলেন, কেউ হাসির গল্প বললেন। আকাশে উড়লো ডুন, হলো লটারি ড্র, আর শেষে দেওয়া হলো বিভিন্ন পুরস্কার।
সবচেয়ে বেশি অবাক হলাম যখন দেখলাম—যাদের কর্মজীবন সবচেয়ে দীর্ঘ, তাদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
সেখানে একজন কর্মীর কর্মজীবন ছিলো প্রায় ২৫ বছর। শুধু তিনি নন, আরও অনেকেই আছেন যারা এক জায়গায় এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
আমি সত্যিই অবাক হয়ে ভাবছিলাম—
প্রাইভেট সেক্টরে একজন মানুষ কিভাবে একই অফিসে এত বছর কাজ করে যেতে পারেন?
কারণ বর্তমান সময়ে আমরা যারা প্রাইভেট চাকরি করি, আমাদের কাছে বিষয়টা প্রায় অবিশ্বাস্য। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন বর্তমান প্রজন্মের কর্মীও বলছিলেন—
“আমরা তো এক অফিসে দুই বছরের বেশি কাজ করার কথা ভাবতেই পারি না।”
সময়ের সাথে সাথে মানুষের মানসিকতাও বদলে গেছে।
আগের প্রজন্মের মানুষগুলো ছিলো অনেক বেশি ধৈর্যশীল, স্থির, এবং দায়িত্ববোধে ভরা। তারা এক জায়গাকে নিজের জায়গা ভেবে আঁকড়ে ধরে রাখতেন।
আর বর্তমান প্রজন্ম?
তারা প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে, নতুন সুযোগ খুঁজতে সাহসী, নিজের অবস্থান নিজেই তৈরি করতে চায়। তাই তারা সহজে এক জায়গায় দীর্ঘদিন আটকে থাকতে চায় না।
তবে সত্যি কথা বলতে কী—
যে মানুষগুলো ২০-২৫ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে গেছেন, তারা শুধু চাকরি করেননি…
তারা সেই প্রতিষ্ঠানকে নিজের জীবনের একটা বড় অংশ দিয়ে গেছেন।
আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে হয়তো এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যাবে।
কিন্তু সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল—
একটা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস শুধু তার ভবন বা নাম দিয়ে তৈরি হয় না, তৈরি হয় সেই মানুষগুলোর ধৈর্য, পরিশ্রম আর দীর্ঘ পথচলায়।