28/01/2026
আগামীর বাংলাদেশে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে ইসলাম ও ইসলামি বিধান পালনের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে—যেমনটা আমরা প্রতিবেশী কিছু দেশে দেখতে পাই। কারণ, বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রায়ই “জামায়াত”কে সামনে এনে দাড়ি, টুপি, পর্দা, সালাতের মতো ইসলামি আমলগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দলের “সিম্বল” বানিয়ে ফেলা হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—এগুলো কোনো দলের সম্পত্তি নয়। দাড়ি-টুপি, পর্দা, নামাজ—এসব সাধারণ মুসলমানের ধর্মীয় পরিচয়। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এগুলো পালন করেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই, শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
দুঃখজনকভাবে, জামায়াত এসব ইসলামি আমলকে অনেক সময় নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে, যার ফলে সাধারণ মুসলমানরাও অযথা রাজনৈতিক টার্গেটে পরিণত হন।
বর্তমানে বিএনপির কিছু কর্মীর আচরণ লক্ষ্য করলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। কোথাও নারীদের বোরকা টেনে খোলার চেষ্টা, কোথাও পর্দানশীন নারীর ওপর হামলা, কোথাও অপমান—এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আজ এটা সীমিত পরিসরে ঘটছে, কাল তা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতি যতটা “স্মার্ট” ও কৌশলী, তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর। সেখানে অশিক্ষা, উগ্রতা ও নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ অনেক সময় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে—ইসলাম কোনো দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। ইসলাম মানে ন্যায়বিচার, শালীনতা, সহনশীলতা ও মানবিকতা। যে রাজনীতি এই মূল্যবোধকে আঘাত করে, সে রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।
তাই কোনো দল ক্ষমতায় এলে যেন সাধারণ মুসলমানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়, পর্দানশীন নারী, দাড়িওয়ালা পুরুষ কিংবা নামাজি মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়—এটাই হওয়া উচিত আমাদের সবার দাবি।