17/08/2026
#মুক্তিযুদ্ধে_বাংলাদেশী_শহীদের_সংখ্যা_দুই_হাজারের কাছাকাছি!
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশী শহীদের সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি। এটাই সত্যি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের ১৯৭২ সালের ৬ জুনে প্রকাশিত শেখ মুজিবের আমলে জরিপে ২০০০ (দুই হাজার) টি পরিবার তাদের স্বজন হারানোর দাবী করেন বলে প্রকাশ করেন পৃথিবীর নামজাদা সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার শিক্ষক উইলিয়াম ড্রামন্ড। বর্তমানে উনার বয়েস ৮২ বছর হলেও তিনি এখনো দুনিয়ার সবচেয়ে বয়স্ক সাংবাদিকতার শিক্ষকদের একজন হয়ে এখনো নিজের পেশায় নিয়োজিত আছেন।
নিম্নে তাঁর প্রকাশিত কয়টি লাইনঃ
William Drummond — “The Missing Millions”
The Guardian, 6 June 1972
“Since the third week of March, when the Inspector General’s office in the Bangladesh Home Ministry began its field investigations, there have been about 2,000 complaints from citizens about deaths at the hands of the Pakistan Army.”
Story of Bangladesh
“My judgement, based on numerous trips around Bangladesh and extensive discussions with many people at the village level as well as in the government, is that the three million deaths figure is an exaggeration so gross as to be absurd.”
#উইলিয়াম_ড্রামন্ড ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪, ওকল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, একজন আমেরিকান সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং ইউসি বার্কলি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব জার্নালিজমের অধ্যাপক। তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে পড়াচ্ছেন এবং গবেষণা/প্রকল্পে জড়িত।
তিনি ওকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি থেকে জার্নালিজমে বিএ (সম্মানসহ, ১৯৬৫)।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব জার্নালিজম থেকে এমএস (সম্মানসহ, ১৯৬৬)।
পরে ইউসিএলএ-তে অর্থনীতিতে কিছু পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট কাজও করেছেন।
১৯৬৬–১৯৬৭: দ্য লুইভিল কুরিয়ার-জার্নাল-এ স্টাফ রাইটার; সিভিল রাইটস মুভমেন্ট কভার করেন।
১৯৬৭–১৯৭৬ লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এ স্থানীয় রিপোর্টার, অ্যাসিস্ট্যান্ট মেট্রোপলিটন এডিটর; পরে নিউ দিল্লি ব্যুরো চিফ (১৯৭১–৭৪, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ভারতের পারমাণবিক বিস্ফোরণসহ গুরুত্বপূর্ণ কভারেজ) এবং জেরুজালেম ব্যুরো চিফ (১৯৭৪–৭৬)। পরে ওয়াশিংটন ব্যুরোতে কাজ করেছেন।
১৯৭৬–১৯৭৭: হোয়াইট হাউস ফেলো (প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড কর্তৃক নিয়োগ)। স্টেট ডিপার্টমেন্টে হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে কাজ; পরে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের অ্যাসোসিয়েট প্রেস সেক্রেটারি।
১৯৭৭–১৯৭৯: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস-এর ওয়াশিংটন ব্যুরোতে ফিরে যান।
-- বরাবর ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশের কোনো সরকারই কেন মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা কত তা প্রকাশ করেনা? কেন শহীদের সংখ্যা যুদ্ধের পুরোটা সময় দেশে না থেকে পাকিস্তানের করাচি থাকা শেখ মুজিব দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশে এসে ৩০ লাখ বললে সেটাই ঊনবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগে আজো মেনে নেয়া হচ্ছে?
এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে গেলে উপরের দিকে থুথু ছিটালে নিজের শরীরেই এসে পড়ে বলেই কেউ সে সাহস দেখায়না। একদিকে শেখ মুজিব নিজের প্রধানমন্ত্রী হবার জন্যে মরিয়া, তিনি কথা চালাচালি করে যাচ্ছিলেন ইয়াহিয়া ও ভুট্রুর সঙ্গে।অপরদিকে মুজিবের দল আওয়ামীলীগ ও ভারত-বাংলাদেশের হিন্দুদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে থাকা নিরিহ নিরপরাধ পাকিস্তানি ও বিহারীদের সব প্রতিষ্ঠান দখলের পাশাপাশি গণহত্যা, গণধর্ষণ, লুটপাট করতে থাকে।তখন কিন্তু যুদ্ধ আরম্ভ হয়নি। সবচেয়ে বেশী হত্যালীলা চলে মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণের পর। ওই ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশের হিন্দুদের একটা অংশ এবং ভারতীয়রা কৌশলে বাংলাদেশে ঢুকে হত্যালীলা চালায় বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি নাগরিক ও বিহারীদের ওপর।
পাকিস্তান সরকার মুজিবের কাছে কারণ জানতে চাইলে মুজিব কোনো জবাব দিতে পারেননি। এভাবেই আওয়ামীলীগ ও ভারত বাংলাদেশের হিন্দুরা মিলে পাকিস্তানের নাগরিক ও বিহারীদের গণহত্যা করতে থাকে বরাবর ২৫ মার্চ পর্যন্ত।মুজিব এইসব গণহত্যা দেখে বারবার অনুরোধ করলেও তার দলের লোক ও হিন্দুরা শোনেনি তার কথা। এরপরই নিরুপায় মুজিব স্বইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান চলে যায়।
এই বিহারীরা কেউই পাকিস্তানি ছিলোনা। তাদের ভাষা উর্দু হবার কারণেই তাদেরকে গণহত্যা করে আওয়ামীলীগ ভারত ও বাংলাদেশের হিন্দুরা সহ মিলে। বিহারীরা সবাই ছিলো ভারতের বিহার অঙ্গরাজ্যের। হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় হিন্দুরা লাখ লাখ মুসলমানদের গণহত্যা করে। বেঁচে যাওয়া অনেক বিহারী পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান চলে আসে পাকিস্তান স্বাধীন হলে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের আগে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশী বিহারী থাকলেও যুদ্ধের পর বাংলাদেশে বিহারী পাওয়া যায় ৩ লাখের কিছু বেশী। বিহারীরা ভারত থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেও গণহত্যার শিকার হয় তাদের বাংলাদেশী মুসলমান ভাইদের হাতে, যারা শত্রু হিন্দুদের সঙ্গে নিয়েই তাদেরকে হত্যা করে।
আর বাংলাদেশ অংশে পাকিস্তানের উঁচু শিক্ষিত অনেক চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিতদের সবাইকেই গণহত্যা, নারীদের গণধর্ষণ ও তাদের টাকা-পয়সা, সম্পদ, প্রতিষ্ঠান লুটপাটের পর গণহত্যা করা হয় সবাইকেই। উল্লেখ্য যে, তখনো কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়নি। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো এইসব অপরাধ বন্ধ করাতে, কিন্তু কোনো কাজেই আসেনি সরকারের কোনো উদ্যোগ। এরপর সেনাবাহিনী আক্রমণে নামে ২৫ মার্চ রাতে।
বাংলাদেশের বেশীরভাগ গণহত্যার গণকবর বধ্যভূমিতে আছে নিরীহ পাকিস্তানি নাগরিক ও বিহারীদের লাশ, যাদের মধ্যে অসংখ্য শিশুও আছে। জীবিত থাকতে না দিয়ে তাদেরকে গণহত্যা করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নামে চালিয়ে দিয়ে এখন ওই মৃত লাশকে শ্রদ্ধা জানানো হয় বাংলাদেশী শহীদ মনে করে!যদিও সব বধ্যভূমির চিত্র একইরকম নয়।
এজন্যেই আজ ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সরকার শহীদদের সংখ্যা জরিপ করে প্রকাশ করেনা। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লিখতে গেলে প্রথমেই গণহত্যার ও ধর্ষণের দায় বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ ও হিন্দুদের ওপর চলে আসে।যদিও যুদ্ধ শুরু হলেই এই আওয়ামীলীগ ও হিন্দুরা সবাই ভারতে পালিয়ে যায়। যদি যুদ্ধে শহীদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়, তাহলে সেটা কত হবে? তার মধ্যে বাংলাদেশী কতজন হবে?১০ লাখ বিহারী ও পাকিস্তানের নাগরিকদের সংখ্যা কি এসেই যাবেনা?
বিএনপি তাদের ইশতেহারের ৩১ দফার ২২ নাম্বার দফায় বলেছে তারা যুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, ধর্ষিতাদের সংখ্যা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করে প্রকাশ করবে। এটা যে করবেনা বিএনপি তার প্রমাণ পাওয়া যায় যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী খুনি মুজিব বাহিনীর সদস্য ফজলুর রহমানের কথাতেই, তিনি এখনো ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ নারী ধর্ষণের সংখ্যা প্রতিদিন সরাসরি ও টকশোতে বলে থাকেন। শুধু তাই নয়, তাকে তারেক রহমান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ওই দায়িত্বে নিয়োজিত রেখেছেন যারা শহীদের সংখ্যা নির্ণয়ের ভূমিকায় থাকবেন! ফলে, বিএনপি শহীদের সংখ্যা প্রকাশ করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে আমরা ধরেই নেবো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বাংলাদেশীর সংখ্যা ২০০০ (দুই হাজার )ই। যুদ্ধের সময় াজার_মুক্তিযোদ্ধা_অংশ নিলেও ৫৫ বছর পর এখনো কেউ মরেনি, শুধু দিন দিন মুক্তিযোদ্ধা বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে ভাতাপ্রাপ্ত #মুক্তিযোদ্ধার_সংখ্যা_আড়াই_লাখ! শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ আর ধর্ষণের শিকার দুই লাখ মানতেই হবে!
এখনো ইচ্ছে করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই শহীদের সংখ্যা বের করা সম্ভব। এখনো দেশের প্রত্যেক এলাকায় কিছু চাক্ষুস মোরব্বি বেঁচে আছেন যারা তাদের এলাকার শহীদ হওয়াদের সংখ্যা জানার কথা। কিন্তু সংখ্যা নির্ণয়ের তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। তাই আমি বিশ্বাস করি সাংবাদিক #উইলিয়াম_জো_ড্রামেন্ডের পরিসংখ্যান। বতর্মান পৃথিবীতে জীবিত থাকা সবচেয়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিকের সংখ্যা ততদিন পর্যন্ত আমার কাছে সঠিক সংখ্যা হিসেবেই গণ্য থাকবে যতদিন সরকার জরিপ চালিয়ে শহীদের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ না করবে।
Abdul Quddush Paban.. ভাইয়ের বিশ্লেষণ থেকে কপিকৃত সংবাদ!
প্রকাশিত হয়...
১৫ আগষ্ট, শনিবার।