13/09/2026
📖 আপন প্রতিভা — তোমার, আমার
Week 01 | গল্প 01
গল্প শুধু কিছু শব্দের সমষ্টি নয়।
একটি গল্পের ভেতরে থাকতে পারে কল্পনা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং একজন সৃষ্টিশীল মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। ✨
“আপন প্রতিভা — তোমার, আমার”-এর প্রথম সপ্তাহে আমাদের সঙ্গে নিজের সৃষ্টিশীলতা ভাগ করে নিয়েছেন একজন শিক্ষার্থী।
📖 গল্প: অজ্ঞতার শিকার
✍️ লেখক: রিফাত ইসলাম, Food Engineering, 21-22
GSTU-এর শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীল কাজগুলো সবার সামনে তুলে ধরার এই ছোট্ট যাত্রায় আপনিও থাকুন আমাদের সঙ্গে। ❤️
আপনার প্রতিভাও পাঠিয়ে দিন GSTU Radio-এর কাছে।
📲 WhatsApp: 01560015304
🌟 Your Talent, Our Platform.
Be Creative • Be You • Be Heard. 🎙️❤️
্রতিভা_তোমার_আমার
গল্প: "অজ্ঞতার শিকার "
১১ বছরের রাফি ছিল গ্রামের এক চঞ্চল, প্রাণবন্ত কিশোর। স্কুলে যেত, খেলাধুলা করত, বন্ধুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাসত। মা জাহানারা বেগমের একমাত্র ছেলেটাই ছিল তার জীবনের আশ্রয়। বাবার মৃত্যু হয়েছিল রাফির তিন বছর বয়সে, সেখান থেকে ছেলেটিকে আঁকড়ে ধরে একাই জীবন পাড়ি দিচ্ছিলেন মা।
একদিন বিকেলে রাফি বাইরে খেলতে গিয়ে ফিরে এলো ধুলোময় হাতে। জাহানারা বেগম তখনো রান্না করছেন। খেয়াল করলেন, রাফির নখ অনেক বড় হয়ে গেছে। গরম ভাতে শুঁটকি দিয়ে খেতে খেতে বললেন, “চল, আজ তোর নখগুলো কেটে দিই। অনেক বড় হয়ে গেছে।”
সন্ধ্যার আবছা আলোয় রান্নাঘরের দরজায় বসে ছেলেকে কোলে বসিয়ে কাটছিলেন নখ। হঠাৎ একটি নখ একটু বেশি কেটে যায়। রাফি কেঁদে ওঠে, কিন্তু পরক্ষণেই চুপ করে যায়“ব্যথা কমে যাবে মা,” বলেই চলে যায় ঘরে।
দুই দিন পর শুরু হয় হাতে ব্যথা। মা ভেবেছিলেন, হালকা কেটে গেছে, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু রাফির হাত ফুলে ওঠে, জ্বর আসে, আর মুখ দিয়ে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। কিছুক্ষণ পর খিঁচুনি ওঠে।
গ্রামে আধুনিক চিকিৎসার অভাব ছিল। এমন হঠাৎ খিঁচুনি ও মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়ায় মানুষজন বলে ওঠে, “এটা জ্বর না, জিনে ধরেছে!” একজন বলেন, “আমি এমন ঘটনা আগেও দেখেছি, তাড়ার জন্য ওঝা আনতে হবে।”
জাহানারা বেগম অসহায় হয়ে যান। একজন মা হিসেবে বুকের ভেতর কাঁপতে থাকে, তবুও গ্রামের চাপে রাজি হন ওঝা আনতে। সন্ধ্যায় ওঝা আসে, ধূপ-ধুনো জ্বালায়, রাফির গায়ে জোরে জোরে ঝাঁটা দিয়ে তাড়াতে থাকে “জিন”।
রাফির অবস্থা তখন আরও খারাপ। চোখ উল্টে যাচ্ছে, মুখ দিয়ে ফেনা উঠছে। কেউ বলেন, “জিন রাগ করেছে, তেজ বেশি লাগে।” কেউ কেউ ভয় পায়, কেউ ভিডিও করে।
তিনদিন ধরে চলে এই “চিকিৎসা”। কিন্তু আসলে রাফির শরীরে বাসা বেঁধেছিল ধনুষ্টংকার যা আধুনিক চিকিৎসা পেলে হয়তো সারানো যেত। কিন্তু অজ্ঞতা আর কুসংস্কার ছিনিয়ে নেয় তার প্রাণ। একদিন রাতে খিঁচুনির মধ্যে ছটফট করতে করতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় রাফির।
পরদিন সকালে গ্রামের লোক জড়ো হয়। ওঝা বলে, “জিন চলে গেছে, কিন্তু শরীর সহ্য করতে পারেনি।” কেউ কেউ আফসোস করে, কেউ চুপ করে থাকে। কিন্তু রাফি আর ফেরে না।
জাহানারা বেগম এখনো প্রতিদিন একবার ছেলের পোশাকগুলো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখেন। চোখ বেয়ে নেমে আসে মৌন অশ্রু। শুধু একটি প্রশ্ন বুকের ভেতর বাজে
“রাফির যদি সময়মতো ডাক্তার দেখানো হতো... তবে কি সে বাঁচত?”
Md. Rifat Islam
Food Engineering (21-22)