15/08/2026
সন্তানকে শুধু শিক্ষিত নয়, অর্থসচেতনও করে তুলুন
যে সমাজে সন্তানদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থ সম্পর্কে কোনো বাস্তব ধারণা দেওয়া হয় না, সেই সমাজে উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী মানুষের সংখ্যা বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আমরা সন্তানদের গণিত শেখাই, কিন্তু নিজের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে শেখাই না। ভালো ফলাফল করতে বলি, কিন্তু সঞ্চয়, বিনিয়োগ, বাজেট ও ঋণের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দিই না। চাকরি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত করি, অথচ উপার্জিত অর্থ কীভাবে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হয়, তা শেখাতে ভুলে যাই।
ফলে পড়াশোনা শেষ করে আয় শুরু করার পরও অনেক তরুণ বুঝতে পারে না—
- প্রয়োজন ও ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য কী;
- মাসিক বাজেট কীভাবে তৈরি করতে হয়;
- কেন জরুরি তহবিল রাখা দরকার;
- ঋণ ও সুদের ফাঁদ থেকে কীভাবে বাঁচতে হয়;
- সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য কোথায়;
- সততার সঙ্গে উপার্জন ও উদ্যোগ গড়ে তোলার উপায় কী।
অর্থ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া মানে সন্তানকে অর্থলোভী করে তোলা নয়। বরং তাকে দায়িত্বশীল, আত্মনির্ভরশীল এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। ছোটবেলা থেকেই বয়স অনুযায়ী পকেটমানির হিসাব রাখা, অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ করা, সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়া এবং পরিশ্রমের মূল্য বোঝানো উচিত।
একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধু সরকারের নীতি বা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না; এর ভিত্তি তৈরি হয় প্রতিটি পরিবারে। আর্থিকভাবে সচেতন সন্তানই ভবিষ্যতে নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
তাই সন্তানকে শুধু বলবেন না—
“ভালো করে পড়াশোনা করো, একটি ভালো চাকরি পাবে।”
তাকে এটাও শেখান—
“সৎভাবে উপার্জন করো, বুঝে খরচ করো, নিয়মিত সঞ্চয় করো এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করো।”
মনে রাখতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে পেশার উপযোগী করে, আর আর্থিক শিক্ষা তাকে জীবন পরিচালনার উপযোগী করে তোলে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ পরিবার, সমাজ ও দেশ গড়তে হলে আর্থিক শিক্ষাকে জীবনের শিক্ষার অংশ করতেই হবে।
#আর্থিকশিক্ষা #সচেতনঅভিভাবকত্ব #সমৃদ্ধভবিষ্যৎ