18/05/2026
নবীগঞ্জের হাওরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৩০টি চায়না দোয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
১৮ মে ২০২৬ | নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওর অঞ্চলে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ৩০টি নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মৎস্য বিভাগ, থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।
চায়না দোয়ারি মূলত একটি ফাঁদ জাল, যা পানির নিচে স্থায়ীভাবে পেতে রাখা হয়। এর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে ছোট-বড় সব আকারের মাছ, পোনা, শামুক, কাঁকড়াসহ যাবতীয় জলজ প্রাণী একসাথে ধরা পড়ে। ফলে কোনো প্রাণীই বেঁচে বের হতে পারে না। মৎস্য অধিদফতরের সুরক্ষা আইন ১৫০-এর ধারায় এই জাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই জাল জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী চায়না দোয়ারি জালসহ যেকোনো ফিক্সড ইঞ্জিন উৎপাদন, মজুদ, আমদানি, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও নিজের অধিকারে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
চায়না দোয়ারি জাল হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
চায়না জাল ব্যবহারের ফলে মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাচ্ছে। পোনা মাছ ধ্বংস হওয়ায় প্রজনন চক্র ভেঙে পড়ছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ — যেমন শোল, গজার, টাকি, পুঁটি, মলা, ঢেলা — দিন দিন কমে যাচ্ছে।
জলাভূমির দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণিবৈচিত্র্যের ওপর চায়না দোয়ারি জালের প্রভাব মারাত্মক। শুধু মাছ নয়, ব্যাঙ, কচ্ছপ, শামুক, জলজ পোকামাকড়সহ হাওরের গোটা খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই জাল ব্যবহারে ভবিষ্যতে দেশি প্রজাতির মাছ অস্তিত্বসংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাওরে মাছ কমে গেলে জেলে পরিবারগুলোর জীবিকাও হুমকিতে পড়বে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও বহনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, এই জালের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে। একই সাথে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি।