03/06/2026
ইসলামি দৃষ্টিতে “ফেরাউন” ছিল এক অত্যাচারী শাসক, যে Musa (আ.)-এর যুগে Egypt শাসন করত। কুরআনে তার অহংকার, জুলুম ও অবাধ্যতার কথা বহুবার এসেছে।
ফেরাউনের অত্যাচার
ফেরাউন নিজেকে অনেক বড় শক্তিশালী মনে করত। কুরআনে উল্লেখ আছে, সে মানুষকে বিভিন্ন দলে ভাগ করেছিল এবং Musa (আ.)-এর সম্প্রদায় বনি ইসরাইলের ওপর অত্যাচার চালাত। ছেলেশিশুদের হত্যা করা হতো এবং নারীদের জীবিত রাখা হতো।
মুসা (আ.)-এর জন্ম
ফেরাউন খবর পেয়েছিল যে বনি ইসরাইলের মধ্য থেকে এক ছেলে জন্ম নেবে, যে তার ক্ষমতার পতনের কারণ হবে। তাই নবজাতক ছেলেদের হত্যা করা শুরু হয়।
তখন আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.)-এর মা তাকে একটি বাক্সে রেখে নদীতে ভাসিয়ে দেন। আল্লাহর ইচ্ছায় সেই শিশুকে ফেরাউনের পরিবারই খুঁজে পায় এবং প্রাসাদে লালন-পালন করা হয়।
নবুয়ত ও দাওয়াত
বড় হওয়ার পর আল্লাহ Musa (আ.)-কে নবী হিসেবে পাঠান। তিনি ফেরাউনকে আল্লাহর একত্বের দিকে আহ্বান করেন এবং বলেন অত্যাচার বন্ধ করতে।
ফেরাউন অহংকার করে বলে, সে-ই সবচেয়ে বড় ক্ষমতাবান। সে মুসা (আ.)-কে অস্বীকার করে এবং জাদুকরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে।
জাদুকরদের ঘটনা
ফেরাউনের জাদুকররা দড়ি ও লাঠিকে সাপের মতো দেখায়। তখন আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.)-এর লাঠি সত্যিকারের অলৌকিকভাবে তাদের সব কৌশলকে গ্রাস করে ফেলে। এই ঘটনা দেখে অনেক জাদুকর সত্য বুঝতে পারে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে।
সাগর বিভক্ত হওয়া
অবশেষে আল্লাহ Musa (আ.) ও বনি ইসরাইলকে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দেন। ফেরাউন সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের ধাওয়া করে।
তখন আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.) তাঁর লাঠি সাগরে আঘাত করেন। সাগর দ্বিখণ্ডিত হয়ে পথ তৈরি হয়। বনি ইসরাইল নিরাপদে পার হয়ে যায়।
ফেরাউন ও তার বাহিনী সেই পথ দিয়ে ঢুকলে পানি আবার একত্রিত হয়ে যায় এবং তারা ডুবে যায়।
ফেরাউনের শেষ মুহূর্ত
কুরআনে বর্ণিত আছে, ডুবে যাওয়ার সময় ফেরাউন ঈমান আনার কথা বলেছিল। কিন্তু তখন আর তার তওবা গ্রহণ করা হয়নি, কারণ সে সারা জীবন সত্য অস্বীকার করেছিল।
ইসলামে এই কাহিনি অহংকার, জুলুম ও সত্য অস্বীকারের পরিণতির একটি বড় শিক্ষা হিসেবে দেখা হয়। আর Musa (আ.)-এর ধৈর্য, ঈমান ও আল্লাহর ওপর ভরসার উদাহরণ হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।