14/06/2026
ফজরের নামাজেও যদি তারা এভাবে উপস্থিত থাকত... আহ্! কী আফসোস!
ব্রাজিল-মরক্কোর খেলা দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় যেন এক বিশাল স্টেডিয়ামের দৃশ্য! হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, মানুষ আগ্রহের জন্য কত কিছুই না করতে পারে।
আজকের খেলাটি শুরু হয়েছে ঠিক ফজরের নামাজের আগ মুহূর্তে। অর্থাৎ উপস্থিত অধিকাংশ মানুষ হয় ফজরের আগেই ঘুম থেকে উঠেছিল, অথবা সারারাত জেগে ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো ফজরের নামাজের জন্য কি আমরা এমন আগ্রহ, এমন প্রস্তুতি, এমন উপস্থিতি দেখাতে পারি?
আল্লাহ তাআলা বলেন
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ﴾
অর্থ: “আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ভ্রষ্ট করার জন্য অর্থহীন কথাবার্তা ও বিনোদনকে বেছে নেয় এবং আল্লাহর পথকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিষয় বানায়। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরা লোকমান: ৬)
মুফাসসিরগণ ‘لَهْوَ الْحَدِيثِ’ (লাহওয়াল হাদীস)-এর ব্যাখ্যায় শুধু গান-বাজনাকেই বোঝাননি; বরং এমন প্রত্যেক কথা, কাজ ও বিনোদনকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ, কুরআন এবং নামাজ থেকে গাফেল করে দেয়।
খেলাধুলা বা বৈধ বিনোদন নিজে হারাম নয়। কিন্তু যখন কোনো বিনোদন আমাদের ফরয ইবাদত, নামাজ এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তখন তো হারাম হয়ে যায় একজন মুমিনের উচিত নিজের অবস্থান নিয়ে চিন্তা করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে তাঁর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন, নামাজের প্রতি ভালোবাসা দান করুন এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী বিনোদনের চেয়ে আখিরাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার তাওফীক দান করুন।