24/09/2025
প্যারেন্টিং টিপস:
১. ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলুন
শিশুর প্রতি মনোযোগ দিন: যখন আপনার সন্তান আপনার সাথে কথা বলতে আসে বা কিছু দেখায়, তখন ফোন বা অন্যান্য কাজ থেকে মন সরিয়ে তাদের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিন। এতে তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে।
আবেগ প্রকাশে সাহায্য করুন: শিশুকে তাদের অনুভূতিগুলো চিনতে ও প্রকাশ করতে শেখান। যেমন, "আমি দেখছি তুমি খুব রেগে আছো কারণ তোমার খেলনাটা ভেঙে গেছে।" তাদের রাগকে বা দুঃখকে ছোট করে দেখবেন না।
একসাথে সময় কাটান: প্রতিদিন কিছু নির্দিষ্ট সময় রাখুন যখন আপনি এবং আপনার সন্তান একসাথে মজা করে কিছু করবেন—তা সেটা খেলাধুলা, বই পড়া, রান্না করা বা শুধু গল্প করাই হোক না কেন। মানসম্পন্ন সময় (Quality Time) কাটানো খুব জরুরি।
২. সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমানা তৈরি করুন
নিয়ম পরিষ্কার রাখুন: পারিবারিক নিয়মগুলো কী, তা স্পষ্ট করে বলে দিন এবং কেন এই নিয়ম মানা জরুরি, সেটাও বোঝান। যেমন, "খাওয়ার আগে হাত ধুতে হবে, কারণ তাতে রোগজীবাণু দূর হয়।"
স্থির থাকুন: একবার কোনো নিয়ম তৈরি করলে, সব পরিস্থিতিতে তা মেনে চলার চেষ্টা করুন। একবার নিয়ম ভাঙতে দিলে শিশুরা বিভ্রান্ত হতে পারে।
বয়স উপযোগী প্রত্যাশা: আপনার সন্তানের বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের কাছে কিছু প্রত্যাশা করুন। যেটা তাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়, এমন কিছু আশা করবেন না।
৩. ইতিবাচক শৃঙ্খলা শেখান
ভালো কাজের প্রশংসা করুন: শিশু যখন কোনো ভালো কাজ করে, তখন শুধু "ভালো" না বলে সুনির্দিষ্টভাবে প্রশংসা করুন। যেমন, "তুমি নিজে থেকে তোমার খেলার জিনিস গুছিয়ে রেখেছো, এটা খুব দায়িত্বশীল কাজ।" ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধি (Positive reinforcement) খুব কার্যকর।
চিৎকার করা থেকে বিরত থাকুন: যখন শিশু ভুল করে, তখন শান্ত থাকুন। চিৎকার না করে কেন তাদের কাজটি করা উচিত হয়নি, সেটা বোঝানোর চেষ্টা করুন।
নিয়মানুবর্তিতার ফল: কোনো নিয়ম ভাঙলে তার ফল কী হতে পারে, তা আগেই বুঝিয়ে দিন এবং তা প্রয়োগ করুন। ফলস্বরূপ, শিশু তাদের কাজের দায়িত্ব নিতে শেখে।
৪. নিজের যত্ন নিন
মা-বাবার সুস্থতা: মনে রাখবেন, একজন সুস্থ ও হাসিখুশি অভিভাবকই ভালোভাবে প্যারেন্টিং করতে পারেন। নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে জীবনসঙ্গী বা অন্য কারো সাহায্য নিন।