28/06/2026
সুষমা রেজাকে একটা সময় ডাক্তার বলে দিয়েছিলেন যে তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না। এরপরও তিনি সন্তান লাভের জন্য চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন। ডাক্তারের চেম্বারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেছেন, দিনের পর দিন। সঙ্গে থাকতেন তার স্বামী ড. কুশলও।
অবশেষে তারা মা-বাবা হতে পেরেছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে তিন-তিনজন আমানত তারা পেয়েছিলেন। কিন্ত এত আরাধ্য বস্তু যে সন্তান, মা-বাবার সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য তারাও যথেষ্ট হলো না। সংসার ভেঙেই গেল অবশেষে। হয়তো আরও আগেই ভেঙে টুকরো হয়ে গিয়েছিল, আমরা কেবল বাইরে থেকে স্ট্র্যাকচারটা দেখতে পেতাম।
এমন অনেক দম্পতিকে চিনি যাদের একাধিক সন্তান, স্বাচ্ছন্দ্যে বাঁচার জন্য যা লাগে সব আছে জীবনে, শুধু নেই স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর মিল। তাদের চিন্তা আলাদা, বিছানা আলাদা, কেবল ছেড়ে গেলে আরও `খারাপ` অবস্থায় থাকতে হবে তাই একে অন্যকে ছেড়ে যায় না।
বন্ধ দরজার ওইপাশে কী ঘটে তা স্বামী আর স্ত্রী ছাড়া পৃথিবীর কোনো মানুষ জানে না। সবার সামনে ভেজা বেড়াল হয়ে থাকা, স্ত্রীর টাকায় চলা এবং স্বামী হিসেবে কোনো হক আদায় না করা স্বামীটিও হয়তো দরজার ওইপাশে স্ত্রীর জন্য ভয়ংকর সাইকো হয়ে ওঠে, যে রূপ আর কেউ দেখে না!
আমাদের মানুষের জীবন নিয়ে জাজ করা বন্ধ করা উচিত। যার যার জীবন তার তার। আজকে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে বলেই একটা সময় জানপ্রাণ দিয়ে একে অন্যের পাশে থাকাটা মিথ্যে হয়ে যায় না। সন্তান থাকার পরেও বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে বলেই মিথ্যে হয়ে যায় না সন্তানের আশায় থাকা পরস্পরের কাঁধে মাথা রাখার দীর্ঘ অপেক্ষার দিনগুলো। আজ কেউ একসঙ্গে আছেন বলেই যে সারাজীবন থাকবেন, সে কথাই বা কে বলতে পারে! লাইফ ইজ সো আনপ্রেডিক্টেবল।
আমাদের উচিত মানুষের চোখে পারফেক্ট কাপল হয়ে ওঠার চেষ্টা বন্ধ করা। জীবনে হাসির পাশাপাশি কান্নাও সত্যি। পুরোপুরি পারফেক্ট কেউ হয় না। বাথরুম ভেজা রাখার `অপরাধে` স্ত্রীর সঙ্গে মেজাজ দেখানো স্বামিটিই স্ত্রীর অসুখে মাঝরাতে ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে ছুটে যান। মসলা রাখার শখের বয়াম কিনে দেয়নি বলে রাত-দিন স্বামীকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা স্ত্রীটিই আবার স্বামীর প্রয়োজনে সবটুকু স্বর্ণ বেচে দেন।
Cp