21/05/2026
একটা ছোট্ট গ্রামে থাকত রায়হান নামে এক ছেলে। তার স্বপ্ন ছিল খুব বড়—একদিন সে নিজের পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করবে, নিজের একটা ব্যবসা দাঁড় করাবে, আর গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করবে। কিন্তু স্বপ্ন দেখা যত সহজ, সেই পথে হাঁটা ততটা সহজ ছিল না।
রায়হান যখনই নতুন কিছু শুরু করত, তখনই কোনো না কোনো বাধা এসে দাঁড়াত। কখনো টাকার অভাব, কখনো মানুষের তিরস্কার, আবার কখনো নিজের ভয় তাকে থামিয়ে দিত। গ্রামের মানুষ হাসত আর বলত,
“তুই পারবি না।”
“এত বড় স্বপ্ন গরিবের জন্য না।”
একদিন সে ছোট্ট একটা দোকান শুরু করল। প্রথম মাসেই লোকসান হলো। ধার করা টাকা শোধ দিতে না পেরে সে রাতে চুপচাপ বসে কাঁদছিল। মনে হচ্ছিল, সব শেষ। তার ভেতরের শক্তিটা যেন ভেঙে পড়ছিল।
সেই রাতে তার বৃদ্ধ বাবা ধীরে ধীরে এসে পাশে বসলেন। বাবার হাতটা ছিল কাঁপা, কিন্তু কথাগুলো ছিল পাহাড়ের মতো দৃঢ়।
তিনি বললেন,
“বাবা, পথ চলতে গেলে মানুষ পড়ে যায়। যে মানুষ কখনো পড়েনি, সে কখনো বড় পথও হাঁটেনি। হোঁচট খাওয়া ব্যর্থতা না, থেমে যাওয়াটাই আসল ব্যর্থতা।”
রায়হান মাথা তুলে বাবার দিকে তাকাল।
বাবা আবার বললেন,
“তোমার গন্তব্যে পৌঁছাতে গেলে তুমি বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে। তাই বলে থেমে যাওয়া যাবে না। ওঠো, আবার দৌড়াও। একদিন দেখবা, তুমি ঠিকই তোমার গন্তব্যে পৌঁছে গেছ।”
সেই কথাগুলো রায়হানের হৃদয়ে আগুনের মতো জ্বলে উঠল।
পরের দিন থেকেই সে আবার শুরু করল। ভুল থেকে শিখল, মানুষের কথাকে শক্তিতে পরিণত করল। একদিন যে দোকানে ক্রেতা আসত না, সেই দোকানের সামনে এখন লাইন পড়ে যায়। যে মানুষগুলো একসময় তাকে নিয়ে হাসত, তারাই এখন বলে,
“রায়হান হার মানেনি বলেই আজ সফল।”
জীবন আসলে নদীর মতো। কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। কিন্তু নদী যেমন থেমে থাকে না, তেমনি মানুষকেও থামলে চলে না। কারণ প্রতিটা হোঁচট, প্রতিটা কষ্ট, প্রতিটা ব্যর্থতা—তোমাকে তোমার গন্তব্যের আরও কাছে নিয়ে যায়।
তাই যদি কখনো জীবনে পড়ে যাও, মনে রেখো—
পড়ে যাওয়া শেষ না।
শেষ হলো তখনই, যখন তুমি উঠে দাঁড়ানো বন্ধ করে দাও।