30/06/2016
বিল্লাল হোসেন, রাজগঞ্জ : অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটাসহ আবাসন ও শিল্পায়নের কারনে প্রতিবছর উদ্বেগজনকহারে কমছে ফসলী জমি। আর এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্বকভাবে হ্রাস পাবে বলে আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে ধারনা করছেন অভিজ্ঞ মহল থেকে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলা পরিসংখ্যান ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট জমির পরিমান ৪৯ হাজার ৪’শ ৯৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ যোগ্য জমি ৩৬ হাজার ৪’শ ৭৮ হেক্টর। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯২৩ হেক্টর জমিতে ফলবাগান, জলাশয় রয়েছে ২হাজার ৯১৫ হেক্টরে, বাড়ী-ঘর ২ হাজার ৫০ হেক্টর, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও রাস্তা-ঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামো ৪’শ ৬১ হেক্টর এবং পতিত জমি রয়েছে ৪৩২ হেক্টর। জাতিসংঘ পরিচালিত সয়েল রিসোর্স ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)-এর গবেষণায় সারা দেশে গত এক বছরে ফসলী জমির পরিমান ৬৮ হাজার ৭০০ হেক্টর কমেছে, যা মোট ফসলী জমির শূন্য দশমিক ৭৩৪ শতাংশ। এর আগে গত তিন দশকে জমির পরিমান কমেছে মাত্র ১৩ হাজার হেক্টর। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যে’র সাথে এসআরডিআই-এর তথ্যে’র অনেকাংশে মিল রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, এখন প্রতি বছর ফসলী জমি কমছে এক শতাংশ হারে। এ হিসেবে উপজেলায় বছরে প্রায় ৫’শ হেক্টর ফসলী জমি কমে যাচ্ছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৬’শ টন খাদ্য শস্য’র উৎপাদন কমছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে নিকট ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে জাতীয় খাদ্য নিরপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। মণিরামপুরে আবাদী জমির বেশীর ভাগ গ্রাস করছে অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা। এক সময় যে মাঠে সবুজের সমারোহ ছিল সেখানে আজ উড়ছে শুধুই কালো ধোঁয়া। অন্যদিকে জনসংখ্যার চাপে বাড়ী-ঘর, দালান-কোঠা তৈরী, শিল্পায়নের জন্য অবকাঠামো নির্মানও আবাদী জমি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে উপজেলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক ইটভাটা নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া ইটভাটার জন্য জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি কেটে ফেলাও ফসল উৎপাদন হ্রাসের কারন। সে কারনে আইন করে এখনই আবাদী জমি নষ্ট করা বন্ধ না করলে অচিরেই দেশ খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।
http://www.1newsbd.com/2016/06/30/157124
অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটাসহ আবাসন ও শিল্পায়নের কারনে প্রতিবছর উদ্বেগজনকহারে কমছে ফসলী জমি। আর এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্বকভাবে হ্রাস পাবে বলে আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা।