09/09/2026
আজ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার সকাল আনুমানিক ১১:৩০ মিনিটে।
কোথায় ঘটেছে: চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে।
বুকের ভেতর জমাট বাঁধা কান্নার কোনো শব্দ হয় না, শুধু নিঃশব্দে এক একটা হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং চলাকালে এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীর সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সবচেয়ে বুকভাঙা কষ্টের সত্যিটা কী জানেন? মৃত্যুর মাত্র কয়েকটা দিন আগেই তিনি বাবা হয়েছিলেন। যে হাত দিয়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের কচি মুখখানা স্পর্শ করার কথা ছিল, সেই হাত দুটি আজ শীতল, নিথর। যেই নতুন প্রাণটা কেবল পৃথিবীতে এলো, সে জানতেও পারল না তার বাবার গায়ের উষ্ণতা কেমন ছিল। বাবার হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে 'বাবা' বলে ডাকার পরম সৌভাগ্যটুকু তার অধরাই রয়ে গেল।
একদিকে এক নবজাতকের আগমনের আনন্দ, আর অন্যদিকে পুরো পরিবার জুড়ে নেমে এলো অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তিসাহস কি কোনো সান্ত্বনায় মেটানো সম্ভব? সদ্য বাবা হওয়া মানুষটার চোখের কোণে সন্তানের জন্য জমিয়ে রাখা স্বপ্নের আলোটুকুও তো নিভে গেল নিমেষেই।
দেশের সেবায় নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে পিয়াস ভাই আজ শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেছেন। কিন্তু পেছনে রেখে গেছেন এক নিঃস্ব পরিবার, এক বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া স্ত্রী আর অবুঝ এক শিশু—যে কোনোদিন বাবার আদর পাবে না।
হে পরম করুণাময় আল্লাহ, আপনি এই বীর সেনানীকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আর তাঁর সদ্যজাত সন্তান, স্ত্রী ও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই পাহাড়সম দুঃখ সহ্য করার তাওফিক দিন। আমিন।