15/01/2026
যেদিন আমার স্বামীকে কবর দেওয়া হলো, সেদিন ঢাকার আকাশটা অস্বাভাবিক রকম ভারী ছিল। সকাল থেকেই মেঘ জমেছিল, আর জানাজার পর কবর দেওয়ার সময় হঠাৎ করেই বৃষ্টি নেমে এলো। এমন বৃষ্টি, যেটা কাউকে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দেয় না। সবাই ভিজছিল—শরীরের বাইরেও, ভেতরেও।
আমি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম একদম নিশ্চুপ।
এক হাতে কালো ছাতা, আরেক হাতে নিজের ভেঙে পড়া মনটাকে শক্ত করে ধরে রাখার চেষ্টা।
আমার নাম দানিয়া হক।
আমার স্বামীর নাম ফয়সাল রহমান।
পনেরো বছরের সংসার। সবাই জানত আমরা খুব “ভালো দম্পতি”। ফয়সাল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরি করত, আর আমি একটি এনজিওতে ফাইন্যান্স ম্যানেজার। ঢাকায় নিজেদের ফ্ল্যাট, বছরে দু–একবার পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া—সব মিলিয়ে বাইরে থেকে আমাদের জীবন ছিল অনেকের চোখে ঈর্ষণীয়।
ফয়সালের বয়স ছিল বেয়াল্লিশ।
সে মারা গেছে হার্ট অ্যাটাকে—কক্সবাজারে, অফিসের একটি “ট্রেনিং প্রোগ্রামে” গিয়ে।
অন্তত সেটাই সবাই আমাকে বলেছিল।
কবরের ঠিক পাশে আমার ছোট বোন মিথিলা হাউমাউ করে কাঁদছিল।
কান্না বলা যাবে না—ওটা ছিল চিৎকার, হাহাকার। সে কবরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বারবার বলছিল,
“ফয়সাল ভাই, আমাকে রেখে গেলেন কেন?”
লোকজন ফিসফিস করছিল।
অনেকেই অবাক হচ্ছিল—বউ রেখে শালীর এতো কান্না কান্না কিসের!কাহিনী কি?
আমার মা শাহিদা বেগম তখন ওকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
“ও খুব নরম মনের মেয়ে। ওর বড় বোন কে খুব ভালোবাসে বলেই এমন করছে। ওর কান্নাটা সহানুভূতির।”
আমি কিছু বলিনি।
আমার মাথার ভেতর তখন একটা অদ্ভুত খটকা কাজ করছিল।
যদি ফয়সাল সত্যিই অফিসের কাজে গিয়ে থাকে,
তাহলে তার ব্যাগে ভেজা তোয়ালে, আর জুতোর ভেতরে বালু এল কোথা থেকে?
আমাদের পরিবারে আমি বরাবরই ছিলাম “দায়িত্ব নেওয়া মেয়ে”।
বাবা অবসর নেওয়ার পর সংসারের বড় খরচগুলো আমি সামলাতাম।
মা অসুস্থ হলে হাসপাতালের বিল, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা—সব জায়গায় আমিই ভরসা।
আর মিথিলা ছিল “অবুঝ মেয়ে”।
ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি, গান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—এসবেই তার জগৎ। পড়াশোনায় মন বসেনি কখনো।
বিশ বছর বয়সে হঠাৎ সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
বিয়ে হয়নি। ছেলের বাবার নাম কেউ জানে না—অথবা জানলেও কেউ মুখ খোলে না।
বাবা তখন বলেছিলেন,
“মেয়েটা ভুল করেছে। কিন্তু বাচ্চাটার তো দোষ নেই।”
ছেলেটার নাম রাখা হয় রায়ান।
রায়ানের জন্মের সব খরচ আমি দিয়েছি।
হাসপাতালের বিল, ডাক্তার, ও