16/06/2026
🌸 গল্প: "অচেনা নম্বর" (পার্ট–৪)
রিমির চোখ বিছানার নিচের অন্ধকারে আটকে গেল।
মেসেজটা এখনও স্ক্রিনে জ্বলছে—
"তোমার বিছানার নিচে একবার দেখে নিও।"
তার পুরো শরীর কাঁপছে।
মনে হচ্ছে হাত-পা অবশ হয়ে গেছে।
তবুও কৌতূহল আর ভয়ের অদ্ভুত মিশ্রণে সে ধীরে ধীরে নিচু হলো।
ফোনের টর্চ অন করলো।
আলোর রেখা বিছানার নিচে পড়তেই তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলো।
প্রথমে কিছুই দেখা গেল না।
শুধু ধুলো আর কয়েকটা পুরনো বই।
কিন্তু একদম কোণায় একটা ছোট্ট কালো বাক্স পড়ে আছে।
রিমি অবাক হয়ে গেল।
বাক্সটা আগে কখনো দেখেনি।
কাঁপা হাতে সেটাকে টেনে বের করলো।
বাক্সের ওপরে সাদা কাগজে লেখা—
"খুলবে না।"
রিমি কিছুক্ষণ বাক্সটার দিকে তাকিয়ে রইলো।
যে-ই এটা রেখে যাক, সে স্পষ্টতই চায় রিমি বাক্সটা খুলুক।
কারণ মানুষকে কোনো কিছু না করতে বললে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।
ঠিক তখনই আবার মেসেজ—
"যদি সত্যিটা জানতে চাও, খুলে দেখো।"
রিমি দ্বিধায় পড়ে গেল।
একদিকে ভয়।
অন্যদিকে রহস্য।
অবশেষে সে বাক্সটার ঢাকনা খুললো।
ভেতরে ছিল—
একটা পুরনো ডায়েরি।
আর একটা শুকিয়ে যাওয়া নীল গোলাপ।
ডায়েরির প্রথম পাতায় বড় করে লেখা—
"রিমির জন্য।"
তার হাত কেঁপে উঠলো।
সে দ্রুত পাতাগুলো উল্টাতে লাগলো।
প্রথম কয়েকটা পৃষ্ঠায় শুধু তার কথা লেখা।
সে কোন স্কুলে পড়েছে।
কোন খাবার পছন্দ করে।
কোন দিনে প্রথম সাইকেল চালাতে শিখেছিল।
এমনকি ছোটবেলায় পড়ে গিয়ে হাঁটুতে দাগ পড়ার ঘটনাও লেখা।
এগুলো এমন তথ্য যা খুব কম মানুষ জানে।
রিমির মাথা ঘুরতে লাগলো।
হঠাৎ একটা পাতায় এসে সে থেমে গেল।
সেখানে লেখা—
"যদি তুমি এই ডায়েরি পড়ো, তাহলে বুঝবে আমি আর বেঁচে নেই।"
রিমির বুকের ভেতর ধক করে উঠলো।
সে দ্রুত পরের লাইন পড়লো।
"তিন বছর আগে যে ঘটনাটা ঘটেছিল, সবাই সেটা দুর্ঘটনা বলেছিল। কিন্তু সেটা দুর্ঘটনা ছিল না।"
ঠিক তখনই পুরো ঘরের লাইট নিভে গেল।
চারপাশ অন্ধকার।
এতটাই অন্ধকার যে নিজের হাতও দেখা যাচ্ছে না।
আর সেই অন্ধকারের মাঝখানে ফোনটা কেঁপে উঠলো।
নতুন মেসেজ।
রিমি স্ক্রিনের দিকে তাকালো।
একটা মাত্র লাইন—
"এবার সত্যিটা জানার সময় হয়েছে..."
আর মেসেজের নিচে একটি লোকেশন পাঠানো হয়েছে।
এমন একটি জায়গার লোকেশন...
যেখানে রিমি জীবনে কখনো যায়নি।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—
জায়গাটার নাম দেখে তার মনে হলো সে যেন আগে কোথাও এটা শুনেছে...
চলবে... 🔥