30/01/2026
দ্বীন নতুন কোনো প্রদর্শনী নয় দ্বীন হলো আল্লাহর বিধান, যার সৌন্দর্য আদব ও সীমারেখার ভেতরেই সবচেয়ে উজ্জ্বল।
যত বড় সুফি আপনি হোন, যত বড় “আবেগের মানুষ” আপনি হোন একজন জুলাই শহীদের মা হলেও মনে রাখতে হবে: আবেগ পবিত্র হতে পারে, কিন্তু সীমা ভাঙা পবিত্রতা নয়। ইসলাম আমাদের হৃদয় দিয়েছে কাঁদার জন্য, বুক দিয়েছে হাহাকার করার জন্য কিন্তু শরিয়াহর সীমারেখা দিয়েছে যেন সেই কান্নাও “ইবাদত” হয়ে ওঠে, “অবাধ্যতা” না হয়ে যায়।
১৪০০ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকান নবীজি সা. সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীন, হক্কানী বুজুর্গরা কারও জীবনে আপনি এমন দৃষ্টান্ত পাবেন না যেখানে “ভালোবাসার” নামে আদব ভেঙে দেওয়া হয়েছে, “সম্মানের” নামে হালাল-হারামের রেখা মুছে দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা জানতেন দ্বীন আবেগের উপর দাঁড়িয়ে নয়; দ্বীন দাঁড়িয়ে আছে দলিল, আদব আর তাকওয়ার উপর।
শোক আছে ইসলাম শোককে অস্বীকার করে না। ভালোবাসা আছে ইসলাম ভালোবাসাকে নিষিদ্ধ করে না। শহীদের মাকে সম্মান আছে ইসলাম সম্মানকে আকাশে তোলে। কিন্তু এই সব কিছুরও একটি সুন্নাহসম্মত পথ আছে। যে মুহূর্তে আমরা আবেগকে “অজুহাত” বানিয়ে সীমা ভাঙি, সে মুহূর্তেই আমরা অজান্তে বলে ফেলি, "আমার অনুভূতি দলিলের চেয়ে বড়।” অথচ সত্য হল দলিল বড়, আদব বড়, সীমারেখা বড়।
ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে কাঁদো, কিন্তু ভাঙো না। ভালোবাসো, কিন্তু হদ ছাড়িও না। সম্মান করো, কিন্তু শরিয়াহকে ছোট করো না। কারণ দ্বীনের সৌন্দর্যই হলো এটা মানুষকে আবেগহীন বানায় না; বরং আবেগকে নিয়ন্ত্রণে এনে আল্লাহমুখী করে।
আজ যদি আমরা এই সীমারেখাকে “মায়া” বলে সরিয়ে দিই, কাল আরেকজন সেটাকে “সামান্য” বলবে, পরশু কেউ বলবে “এটাই তো স্বাভাবিক” এভাবেই আদব ভেঙে যায়, সুন্নাহ ঝাপসা হয়ে যায়, দ্বীনের সৌন্দর্য ক্ষয়ে যায়। তাই আবেগ থাকুক কিন্তু আবেগকে ইমানের পাহারায় রাখতে হবে।
আর একটা কথা স্পষ্ট করে বলি, এইসব “লেবাসে” বাংলাদেশের সহজ-সরল, ধর্মপ্রাণ মানুষদের কাছে নতুন করে ইসলাম শেখানোর চেষ্টা করবেন না। দ্বীন নতুন কোনো প্রদর্শনী নয় দ্বীন হলো আল্লাহর বিধান, যার সৌন্দর্য আদব ও সীমারেখার ভেতরেই সবচেয়ে উজ্জ্বল।
এ পোস্ট কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়। ইসলামকে ভালোবেসে, সুন্নাহকে সম্মান করে, এবং দ্বীনের সীমারেখা অক্ষুণ্ণ রাখতে শুধু সেই দায়বদ্ধতা থেকেই বলা।
দ্বীন চলে দলিল ও আদবে আবেগের জোয়ারে নয়।
আপনাকে বড় মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করি তবে এসব কখনও আশা করি না।
আমার আল্লাহ বলেন, "মুমিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে।” সূরা আন-নূর, আয়াত ৩০
আমার রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে সীমা ছাড়ানো থেকে বেঁচে থাকো।”
সুনান আন-নাসাঈ, হাদিস: 3057 (সহিহ)
তোমাদের কারও মাথায় লোহার সুচ দিয়ে খোঁচা দেওয়া তার জন্য উত্তম; কিন্তু এমন নারীকে স্পর্শ করা নয়, যে তার জন্য হালাল নয়।” ত্বাবারানী, সহিহ বলেছেন আলবানী (সহিহ)