19/09/2026
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ, বিলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নানা চার্জ।
বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শহর থেকে গ্রাম—প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের অনেকেই আগের তুলনায় বেশি ব্যয়ের অভিযোগ করছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল নয়—এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিলম্ব মাশুল। ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই পড়ছেন বাড়তি চাপের মুখে।
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন স্ল্যাবে নির্ধারিত হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০০ ইউনিটের পর প্রতি ইউনিটের মূল্য ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে পরবর্তী ইউনিটপ্রতি ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত দিতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ৫ শতাংশ ভ্যাট।
কেন দিতে হচ্ছে ডিমান্ড চার্জ?
বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও সংযোগ চালু থাকলে গ্রাহককে নির্ধারিত ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। এই চার্জের মাধ্যমে বিদ্যুৎ অবকাঠামো, ট্রান্সফরমার, বিতরণ লাইন ও সংযোগ প্রস্তুত রাখার খরচ আদায় করা হয়।
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা। অর্থাৎ ২ কিলোওয়াট লোডের গ্রাহকের মাসে ৮৪ টাকা এবং ১০ কিলোওয়াট লোডের গ্রাহকের ৪২০ টাকা ডিমান্ড চার্জ হতে পারে।
গ্রাহকদের কেউ কেউ বলছেন, সংযোগ নেওয়ার সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লোড নেওয়া থাকলে পরবর্তীতে সেটির জন্য প্রতি মাসেই অতিরিক্ত ডিমান্ড চার্জ দিতে হচ্ছে।
প্রিপেইড মিটারেও কেটে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন চার্জ
প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার সময়ই নির্ধারিত বিভিন্ন চার্জ কেটে নেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং এনার্জি বিলের ওপর ভ্যাট।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে মাসিক মিটার ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেজ মিটারের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ফলে গ্রাহক মিটারে টাকা রিচার্জ করার পর প্রত্যাশিত পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের টাকা হাতে না পাওয়ায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও থাকছে নির্দিষ্ট খরচ
গ্রাহকদের একটি অংশের প্রশ্ন—বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও কেন ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া দিতে হবে?
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার যুক্তি হলো, বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখা, অবকাঠামো প্রস্তুত রাখা এবং মিটার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এসব নির্ধারিত চার্জ নেওয়া হয়।
তবে গ্রাহকদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে একাধিক চার্জ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থাকায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে।
বিশেষ করে প্রিপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে রিচার্জের সময় কোন খাতে কত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে—তা সহজভাবে বোঝার সুযোগ আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
বিদ্যুৎ বিলের এই বিভিন্ন চার্জ ও মূল্য কাঠামো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও সহজবোধ্য বিলিং তথ্য প্রত্যাশা করছেন ভোক্তারা।